লাবিবা ইরম
প্রকাশ : ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৬ পিএম
চলছে পবিত্র রমজান মাস। এ মাসে রোজা পালনের উদ্দেশ্যে আমাদের সেহরি, ইফতারসহ বিভিন্ন কাজের জন্য জীবনের স্বাভাবিক রুটিন পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ঘুমের রুটিনে। ঘুম ভেঙে উঠে সেহরি খেতে হয় এবং এরপর নামাজ আদায় করে আবার ঘুমাতে হয়। ফলে ঘুমের মাঝে একটা ব্যাঘাত ঘটে। এতে অনেকেরই কম ঘুমের জন্য সারাদিন ক্লান্ত লাগে। বিশেষত চাকরিজীবীদের জন্য দিনে কাজ করাটা বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। কিছু নিয়ম মেনে চললে কম ঘুমেও ফ্রেশ থাকা যাবে রোজার এই সময়েও।
ঘুমের সময়কে সঠিকভাবে ভাগ করে নিন
ঘুমের সময় দুই ধাপে ভাগ করে নিতে পারেন।
প্রথম ধাপ হলো : ইফতারের পর কিছু সময় রেস্ট নিয়ে রাত ১০টা ৩০ থেকে ১১টার মধ্যে শুয়ে পড়া।
দ্বিতীয় ধাপ হলো : সেহরির পর ৬০ থেকে ৯০ মিনিট ঘুম।

দুপুরের পাওয়ার ন্যাপ
রোজার বিভিন্ন কাজের ফাঁকে যদি সম্ভব হয়ে তবে দুপুরে ২০-৩০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ বেশ ভালো কাজ করে। এতে শরীর ঝরঝরে লাগে এবং শরীরের ক্লান্তিও অনেকটাই দূর হয়।
ঘুমাতে যান একই সময়ে
রোজার এই সময়ে চেষ্টা করুন প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যেতে। এতে শরীর দ্রুত নতুন রুটিনের সাথে মানিয়ে চলতে শিখবে।
যে ভুলগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
আমাদের খাবার, চলাফেরার রুটিন ঘুমের ওপর বেশ ভালো প্রভাব ফেলে। অনেক সময় না বুঝেই আমরা কিছু কাজ করে থাকি, যা আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই এই কাজগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।
সুস্থ ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য যে নিয়মগুলো মানতে পারেন
ঘুম অল্প সময়ের জন্য হলেও তা যদি গভীর হয় তবে ক্লান্ত লাগে না, ঘুমের ঘাটতিও মনে হয় না। সুস্থ ও আরামদায়ক ঘুমের জন্য তাই কিছু নিয়ম মেনে চলতে পারেন।
সেহরিতে রাখুন হালকা খাবার
ভারী খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়ায় শরীর বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাছাড়া ভারী খাবার খেয়েই সাথে শুয়ে পড়াটাও বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। দেখা যায় খাবার ঠিকমতো হজম না হওয়া পর্যন্ত ঘুম আসে না। তাই সেহরিতে হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা প্রয়োজন।
ইফতারে বেশি ভাজাপোড়া নয়
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা চর্বিজাতীয় খাবার অ্যাসিডিটি তৈরি করে। ফলে শরীরে অস্বস্তি, বুক জ্বালাপোড়া বেড়ে যায়। ঘুমের সময় এগুলো আরও বেশি ঝামেলা করে। তাই ইফতারে অল্প স্বল্প ভাজাপোড়া খেলেও অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। আর ভাজাপোড়ার জায়গায় ফলমূল ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি বেশি খাওয়ার অভ্যাস করুন।
স্ক্রিন টাইম কমিয়ে ফেলুন
মোবাইল, টিভি ইত্যাদি স্ক্রিনের আলো আমাদের মস্তিষ্ককে বেশি সময় অ্যাকটিভ রাখে। তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা আগে এগুলোর ব্যবহার বন্ধ করুন।
ক্যাফেইন ইন্টেক কন্ট্রোল করুন
অনেকেই আছেন যাদের দিনে অন্তত এক মগ কফি বা চা ছাড়া চলেই না। তবে এই চা বা কফি অথবা ক্যাফেইন জাতীয় জিনিস আসলে আমাদের ঘুমের জন্য বেশ ক্ষতিকর। যেহেতু রোজায় দিনের বেলা এগুলো খাওয়া হয় না, তাই ইফতারের পর খেলেও খুব বেশি মাত্রায় না খাওয়াই ভালো। সেহরিতে একদমই খাওয়া উচিত না।
হাইড্রেশন ঠিক রাখুন
যেহেতু রোজায় সারাদিনে পানি খাওয়া হয় না, তাই শরীরের পানির অভাবে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। ইফতারের পর একবারে অনেক পানি খেলেও অস্বস্তি লাগে। তাই অল্প অল্প করে যতক্ষণ জেগে থাকবেন পানি খান।
কর্মজীবী হলে যা মেনে চলা ভালো
কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে অফিসের কাজের চাপ অতিরিক্ত ক্লান্তির সৃষ্টি করে। সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়ানো যায়।
রোজায় নতুন রুটিনে আমাদের শরীরের অভ্যস্ত হতে সময় লাগে। তবে তার মানে এই না যে সবসময় ক্লান্তি নিয়ে চলতে হবে। কিছু ছোট অভ্যাসই পারে এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিয়ে সতেজভাবে চলাফেরা করার শক্তি দিতে। তাই সুস্থভাবে রোজার মাস কাটাতে এই নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন।