× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এআই ও ডিপফেকের অপব্যবহার

হায়াত মাহমুদ

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩০ পিএম

এআই ও ডিপফেকের অপব্যবহার

একসময় প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেত শুধু ছবি ও ভিডিও। কিন্তু আজকে দুনিয়ায় সেই বিশ্বাস দ্রুতই ভেঙে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হলো ডিপফেক। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যেটি মানুষের চেহারা, কণ্ঠ আর আচরণ এমনভাবে নকল করতে পারে যে কোনটি আসল এবং কোনটি নকল, তা বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। 

ডিপফেক প্রযুক্তি বর্তমানে শিল্প, সিনেমার ক্ষেত্রে যেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে তেমনই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে অপব্যবহারকারীদের হাতে পড়ে। তৈরি হচ্ছে নানা ভুয়া খবর, ছবি, ভিডিও, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র অথবা চরিত্রহনন করার মতো ভুয়া কনটেন্ট। 

ডিপফেক কী এবং কীভাবে কাজ করে?

ডিপফেক কনটেন্ট তৈরির মূল ভিত্তি হলো ডিপ লার্নিং, যা মেশিন লার্নিংয়ের এমন একটি শাখা, যেখানে নিউরাল নেটওয়ার্ক বিশাল ডেটাসেট থেকে প্যাটার্ন শিখে নেয়। এটি মূলত এআই ভিত্তিক একটি প্রযুক্তি; যা ডিপ লার্নিং ও জেনারেটিভ অ্যাডভার্সারিয়াল নেটওয়ার্ক (GAN) ব্যবহার করে মানুষের মুখ, কণ্ঠ বা শরীর অন্যের ওপর বসিয়ে দেয়।

এতে দুটি নিউরাল নেটওয়ার্ক কাজ করে, একটি কৃত্রিম ছবি বা ভিডিও তৈরি করে। অন্যটি যাচাই করে সেটি বাস্তবের মতো কি না। এই দুটি প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ফলাফল তৈরি হয়। আধুনিক সফটওয়্যার দিয়ে এখন কয়েক মিনিটের ভিডিও ফুটেজ থেকেই কারও মুখ, অঙ্গভঙ্গি বা কণ্ঠস্বর নকল করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল যত উন্নত হচ্ছে, ডিপফেক শনাক্ত করাও তত কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের MIT-এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ প্রায়ই ডিপফেক ভিডিওকে বাস্তব বলে বিশ্বাস করে।

অপব্যবহারের নতুন অস্ত্র

ডিপফেকের প্রায় অরিজিনাল কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে নানা অসৎ উদ্দেশ্য সফল করছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে রাজনৈতিক বিষয় ও ব্যক্তিগত আক্রমণে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলিব্রিটিÑ কেউই এই আক্রমণ থেকে বাঁচতে পারছে না। ফলে মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। 

রাজনৈতিক প্রভাব ও গণতন্ত্রের ঝুঁকি : ডিপফেক ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক নেতার ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা সম্ভব। নির্বাচনের আগে এমন ভিডিও ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করা গেলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ইউরোপের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা Europol সতর্ক করেছে যে ভবিষ্যতের তথ্যযুদ্ধে ডিপফেক বড় অস্ত্র হতে পারে।

ব্যক্তিগত মানহানি ও সামাজিক ক্ষতি : অনুমতি ছাড়া কারও মুখ ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি হওয়া ভুয়া ভিডিও সামাজিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি করছে।

আর্থিক প্রতারণা : কৃত্রিম কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে প্রতারকরা কোম্পানির কর্মকর্তা বা পরিবারের সদস্য সেজে অর্থ আদায় করছে। ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তি প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে।

তথ্য ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস : যখন মানুষ জানে ভিডিও ভুয়া হতে পারে, তখন সত্য তথ্যও সন্দেহের মুখে পড়ে। একে বলা হচ্ছে “লায়ার’স ডিভিডেন্ড”-অপরাধী বাস্তব প্রমাণকেও ভুয়া বলে দাবি করতে পারে।

সমাধান

ডিপফেক শনাক্ত করতে গবেষকরা নানা প্রযুক্তি তৈরি করছেন। মুখের সূক্ষ্ম নড়াচড়া, আলোছায়ার অসঙ্গতি, শব্দের বিকৃতিÑ এসব বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম কনটেন্ট শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ডিপফেক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাড়ছে। অনেক দেশ অনুমতি ছাড়া ডিপফেক তৈরি বা প্রচারকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এরচেয়েও বেশি দরকার মিডিয়া লিটারেসি। অর্থাৎ সচেতনতা। তাই যেকোনো ভিডিও বা অডিও দেখেই বিশ্বাস করবেন না, শেয়ার করার আগে যাচাই করবেন। বিশ্বস্ত সোর্স দেখবেন। প্রযুক্তিগত প্রতারণা সম্পর্কে আপদেটেড থাকার চেষ্টা করবেন। একটু সচেতনতাই বাঁচিয়ে দিতে পারবে বড় কোনো ঝুঁকির হাত থেকে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা