প্রিয়ব্রত চক্রবর্তী
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৯ পিএম
আঁকা : উপমা রায় রঞ্জিতা, সপ্তম শ্রেণি, শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, ঢাকা
ফেব্রুয়ারি একদিন বড় এক অফিসে চাকরির জন্য গেল। রুমে অনেক বড় বড় মানুষ বসেছিলেন। চেয়ারম্যান চশমা ঠিক করে বললেন, ‘তোমার নাম কী?’ ছেলেটি শান্ত গলায় বলল, ‘আমার নাম ফেব্রুয়ারি।’
সবাই একটু অবাক হলো। ‘শুধু ফেব্রুয়ারি? পুরো নাম নেই?’
ফেব্রুয়ারি হাসল, ‘এই নামই আমার সব।’
একজন মজা করে বললেন, ‘তোমার গল্প শোনাও তো!’
ফেব্রুয়ারি জানালার দিকে তাকাল। বাইরে লাল ফুলে ভরা শিমুল গাছ।
সে ধীর গলায় বলল, ‘আমার গল্প রক্তে লেখা।’
সবাই চুপ হয়ে গেল।
ফেব্রুয়ারি বলতে শুরু করল—
‘একুশ ফেব্রুয়ারি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দিন। সেদিন সকালে আকাশ ছিল নীল, আর গাছে গাছে ফুটে ছিল লাল ফুল। কিন্তু শহরের মানুষ খুব চিন্তিত ছিল।’
সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিল।
তারা শুধু চেয়েছিল নিজের ভাষায় কথা বলতে।
কিন্তু সরকার তাদের মানা করেছিল।
তবুও তারা ভয় পায়নি।
তাদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না—
ছিল শুধু স্লোগান, পোস্টার আর সাহস।
হঠাৎ ফেব্রুয়ারির চোখ ভিজে গেল।
কিন্তু সৈন্যরা গুলি চালায়।
নিরীহ ছেলেরা রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
রফিক, বরকত, সালাম, জব্বার—
তারা আর ফিরে আসেনি।
‘রাস্তায় রক্ত পড়েছিল।
কিন্তু সেই রক্ত ছিল সাহসের রঙ,
ভাষার জন্য ভালোবাসার রঙ।’
রুমে সবাই চুপ করে শুনছিল।
ফেব্রুয়ারি বলল,
‘সেই ত্যাগের জন্যই আজ আমরা বাংলায় কথা বলি।
গান গাই, গল্প লিখি, মায়ের সঙ্গে কথা বলি।’
চেয়ারম্যান উঠে দাঁড়ালেন।
‘তোমাকে চাকরি দেওয়ার দরকার নেই।
তুমি তো আমাদের হৃদয়ে কাজ করো।’
ফেব্রুয়ারি হেসে বলল,
‘আমি শুধু চাই মানুষ যেন ভুলে না যায়
২১ ফেব্রুয়ারির কথা।’
বাইরে শিমুল গাছ থেকে লাল ফুল ঝরছিল—
যেন শহীদদের প্রতি ভালোবাসার ফুল।
অষ্টম শ্রেণি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা