লেখা ও আঁকা : সিদরাতুল মুনতাহা
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম
লেখা ও আঁকা : সিদরাতুল মুনতাহা
শীতের এই ছুটিতে মা, বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে টেকনাফে বেড়াতে গিয়েছিলাম। টেকনাফ নিয়ে এর আগে অনেক ছবি ও ভিডিও টিভিতে দেখেছি। কিন্তু এই প্রথম আমি নিজে সেখানে গেলাম।
ইশ এত বড় একটা জাহাজে চড়ে সমুদ্রের মাঝে আমি কখনোই যাই নাই! আমার কাছে তো পুরো পৃথিবী দুই ভাগ লাগছিলÑ এক ভাগ আকাশ আর এক ভাগ সাগর। খোলা আকাশ, ঠান্ডা বাতাস আর সাগরের নীল জলের ঢেউ দেখে আমার কী যে খুশি লাগছিল! যেতে যেতে অনেকক্ষণ ধরে সাগরে জেলেদের মাছ ধরা দেখেছি। আমার তো মনে হচ্ছিল আমিও যদি ওই মাছগুলোকে একটু ধরে দেখতে পারতাম।
একটা সময় জাহাজ আমাদের লোকালয়ে নিয়ে এলো। সেখানকার পরিবেশ ছিল খুব সুন্দর আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সবাই একটু ফ্রেশ হয়ে রাস্তার ধারে এক হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। পাশেই দেখলাম একটি ফুলের বাগান। সেখানে ফুটে ছিল নানা রঙের ফুল।
দুপুর গড়িয়ে বিকালে চা-নাস্তা করে আবার গেলাম সাগরপাড়ে। সেখানে গিয়ে দেখলাম অনেক লাল কাকড়া, তারা মাছ, জেলি মাছ আর অনেক অনেক শামুক, ঝিনুক। সেখানে অনেকে খেলাধুলা করছিল। কেউ কেউ জোরে জোরে চিৎকার করছিল। বাবা আমাদের বলেছে তোমরাও খেলতে পার, কিন্তু সাবধানে। ওই যে জেলি মাছ দেখছ বা কাঁকড়াÑ কারও যেন ক্ষতি না হয়। ওরা যেন তোমার আচরণে ভয় না পায়। ওরা হচ্ছে প্রকৃতির বন্ধু।
এরপর দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এলো। ফিরতে ফিরতে আম্মু আমাদের বলছিল, দেখ আল্লাহ আমাদের জন্য প্রকৃতিতে কত সুন্দর সুন্দর নেওয়ামত দিয়েছেন। আমাদের উচিত এই নেওয়ামতের জন্য শুকরিয়া করা। আর এই প্রকৃতির সৃষ্টি নষ্ট না করে তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া।
চতুর্থ শ্রেণি, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস হাই স্কুল, ঢাকা