রওনক জাহান পুষ্প
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫২ পিএম
ফ্যাশন আর স্টাইল ফিউশনের জগতে অনেক দিন ধরেই একটা বড় জায়গা করে নিয়েছে ডেনিম। এটি এমনই এক উপাদান, যা কখনোই শুধু ট্রেন্ড হয়ে থাকেনি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে আর রূপে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে ডেনিম ফ্যাব্রিক। আজকে আমরা ডেনিমকে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবেই দেখি, কিন্তু ডেনিমের আজকের এই জায়গায় আসার পেছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস।
ডেনিম কী
ডেনিমের উৎপত্তি হয় উনিশ শতকে, ফ্রান্সের একটি ছোট্ট শহরে। শক্ত কাপড় আর বেশ টেকসই বুনন হওয়ায় কৃষক-শ্রমিক শ্রেণির মানুষ যারা শারীরিক পরিশ্রমের কাজগুলো করেন, তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই কাপড়ের পোশাক। শীতেও বেশ ভালো চলছিল ডেনিম কাপড়। প্রাথমিকভাবে মূলত একটু ভারী কাপড় আর টেকসই পোশাকের চাহিদা মেটাতেই ডেনিমের ব্যবহার শুরু হয়।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ডেনিম চলে আসে ফ্যাশনের অংশ হিসেবে। হলিউডের বিভিন্ন সিনেমা, রক মিউজিক এসবের মধ্যে স্টাইল হিসেবে আসে ডেনিম। তরুণ বয়সিরা নতুন ধরনের এই ফ্যাশন লুফে নেয়। ডেনিম হয়ে ওঠে স্টাইল স্টেটমেন্ট আর হার না মানার স্পিরিট। ডেনিম দিয়ে বানানোর সবচেয়ে পুরনো পোশাকগুলোর একটা হলো জিন্স প্যান্ট। টেকসই ও স্টাইলিশ এ পোশাক জায়গা করে নেয় সব বয়সির মনেই। সর্বপ্রথম ডেনিম দিয়ে জিন্স ব্র্যান্ড বাজারে আনে ফ্রান্সের লেভি স্ট্রাউস অ্যান্ড কোম্পানি।
জিন্স আর ডেনিমের পার্থক্য
‘জিন্স আর ডেনিম কি এক?’ এই প্রশ্নটা বেশ পুরনো। ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে দুটোকে এক মনে হলেও জিন্স আর ডেনিম আসলে এক নয়। ডেনিম মূলত কটনের বোনা শক্ত ভারী কাপড়, যেটা দিয়ে বানানো হয় জিন্স। জিন্স হচ্ছে আসলে ডেনিমের তৈরি প্যান্ট। এক কথায়, জিন্স বানানো হয় ডেনিম কাপড়ে। শুরুর দিকে ডেনিম দিয়ে শুধু প্যান্টই বানানো হতো, তাই ডেনিম আর জিন্স প্রায় একই নামে পরিচিত হয়।
টাইমলেস ডেনিম ফ্যাশন
ডেনিম অত্যন্ত ভার্সেটাইল এবং টাইমলেস ধরনের কাপড়, কারণ যুগে যুগে ফ্যাশন চেঞ্জ হলেও ডেনিম কখনোই ট্রেন্ডের বাইরে যায়নি, বরং ডেনিমকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে নতুন নতুন ট্রেন্ড। শুধু ডেনিমের প্যান্টেরই রয়েছে অনেক রকমের ভিন্ন ভিন্ন কাট আর স্টাইল। বিভিন্ন বয়সি এর মধ্য থেকেই বেছে নেন তাদের পছন্দের পোশাকটি।
হলিউড অভিনেতা আর তরুণদের প্রিয় ছিল স্ট্রেটকাট জিন্স। অতিরিক্ত কোনো ডিজাইন ছাড়া সাদা টি-শার্টের সঙ্গে নীল রঙের স্ট্রেটকাট জিন্স ছিল চলতি ফ্যাশন। এখনও আমরা এই জনপ্রিয় লুকে অনেককেই দেখতে পাই।
সত্তরের দশকে জিন্সের সাধারণ লুককে নিজস্ব মাত্রা দিতে আসে একটু ভিন্ন ধরনের ডিজাইন। বেল বটম, প্যাচওয়ার্ক, কিছুটা এমব্রয়ডারি এ ধরনের ডিজাইন দেখা যায়। প্লেন জিন্সে অনেকেই নিজে নিজেই করে নিতেন এসব স্টাইল। একই সঙ্গে নীলের বিভিন্ন শেডের জিন্স ও এ সময়েই জনপ্রিয় হয়।

ধীরে ধীরে আশির দশকে অ্যাসিড ওয়াশ ফেডেড জিন্স আর হাই ওয়েস্ট জিন্স আসে। ডেনিম জ্যাকেটও এই সময়েই আইকনিক হয়ে ওঠে। বোল্ড ধরনের লুকের জন্য অনেকেই সে সময় জিন্স ব্যবহার করতেন।
এরপরে আসে স্কিনি জিন্স, যেটা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার মন কেড়েছে সমান ভাবে। একটু স্ট্রেচি কাপড়ের টাইট ফিট লুক যেমন মানিয়ে গেছে কুর্তি, কামিজ বা টপসের সঙ্গে, একই সঙ্গে মাতিয়েছে টি-শার্ট, শার্ট আর জ্যাকেট।
এখনকার কথা বলতে গেলে একটু মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ স্টাইলের ফ্যাশনই জনপ্রিয়, সেখানেও সমানভাবে চলছে ডেনিমের রাজত্ব। আগের ডিজাইনগুলোর পাশাপাশি ব্যাগি, লো ওয়েস্ট, মম ফিট, বয়ফ্রেন্ড ফিট, রিপড জিন্স এগুলোও রয়েছে পছন্দের তালিকায়। এ ছাড়াও জ্যাকেটের মাঝেও রয়েছে নানা ডিজাইন। রিপড জ্যাকেট, হ্যান্ড পেইন্ট, ব্লক বা এমব্রয়ডারি করা জ্যাকেট, ক্রপড জ্যাকেট, শার্ট স্টাইল, ওভারকোট স্টাইল, প্যাচড সব রকমের স্টাইল আর এক্সপেরিমেন্টই চলে এর ওপর। একই সঙ্গে এলাকা ও সংস্কৃতিভেদে স্কার্ট, টপস, কামিজ, শাল এমনকি শাড়িতেও এখন চলছে ডেনিমের ডিজাইন ও ফিউশন।
দেশি ফ্যাশনে ডেনিম
বাংলাদেশে ডেনিম শুধু ফ্যাশন নয়, উৎপাদনে রয়েছে অনেক ওপরে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেনিম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন অন্যতম। ইউরোপ আমেরিকার অনেক নামিদামি ব্র্যান্ডের জিন্স, জ্যাকেট, শার্ট ইত্যাদি অনেক ডেনিম পোশাকই তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশের কারখানায়, তারপর ছড়িয়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
শুধুই কি এসব? বাংলাদেশের গুণী ডিজাইনার আর স্টাইলিশ জেনারেশন ডেনিমকে নিজেদের মধ্যে গ্রহণ করেছে সম্পূর্ণ নতুনভাবে। বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো যেমন ডেনিম নিয়ে কাজ করছে, তেমনি ডিজাইনাররাও নতুন ডিজাইন করার সময় ডেনিমকে দিচ্ছেন আলাদা গুরুত্ব। যেসব পোশাক আমাদের একান্তই নিজস্ব, সেখানেও ক্রেতারা পছন্দ করছেন ডেনিমের ফিউশন।
ডেনিম কুর্তি
দেশীয় ফ্যাশনে সম্ভবত সবার আগে জায়গা করে নিয়েছে ডেনিমের কুর্তি। আগে ঠান্ডা আবহাওয়ায় ভারী সোয়েটার অথবা ব্লেজারের নিচে ফ্যাশনের জায়গা ছিল বেশ কম। সেই জায়গাটা এখন দখল করে নিয়েছে বিভিন্ন কাটের ডেনিম কুর্তি ও টপস। শর্ট টপস অথবা লং টপস, কামিজ, পাঞ্জাবি স্টাইল কুর্তি এই সবকিছুতেই এখন ব্যবহার হচ্ছে ডেনিম কাপড়। ভিন্নতা আনতে ব্লক প্রিন্ট, হালকা এমব্রয়ডারি, বোতাম ও প্যাচ এর ব্যবহার, ফ্যাব্রিক পেইন্ট ব্যবহার এমনকি বাটিক ও টাই-ডাইয়ের কাজও করা হচ্ছে ডেনিম কাপড়ে। মোটামুটি সব বয়সের ক্রেতারাই পছন্দ করছেন নতুন স্টাইলের এই ডেনিম কুর্তি। বিশেষত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আর কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় চটজলদি স্টাইলের ডেনিম কুর্তি।

ডেনিম কো-অর্ড সেট
কুর্তির মতোই ডেনিমে চলছে কো-অর্ড সেট। টু পিসের এই সেট সব বয়সি নারীর মধ্যেই সমান জনপ্রিয়। স্টাইল আর আরাম একই সঙ্গে দেয় কো-অর্ড সেট, আর এই শীতে সেখানে বাড়তি নির্ভরতা যোগ করেছে ডেনিম ফেব্রিক। ডেনিমের তৈরি এই কো-অর্ড সেটগুলো হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেশ উপযোগী। বুটিক ও ডিজাইনার স্টোর ‘অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ’-এর স্বত্বাধিকারী আফরিন আহমেদ জানান, মূলত তরুণ ক্রেতাদের কাছে ডেনিম কো-অর্ডের প্রচুর চাহিদা। অফিস হোক বা প্রতিদিনের ব্যবহার, ক্যাজুয়ালি আউটিং অথবা ট্যুরে যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই এই শীতে ক্রেতারা আরাম পাচ্ছেন। সোয়েটার পরার ঝামেলা নেই। কিন্তু স্টাইল আছে, তাই শীতের জন্য পারফেক্ট ডেনিমের এই কো-অর্ড সেটগুলো।
ডেনিম শাড়ি ও ব্লাউজ
‘অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ’-এর স্টেটমেন্ট পিস হচ্ছে তাদের ডেনিম শাড়ি। একেবারেই ভিন্নধর্মী ডেনিমের এই শাড়ি বেশ নজর কাড়ছে নারীদের। আফরিন আহমেদ জানান, লাইট কিংবা মিডিয়াম ওয়েট, দুই ধরনের শাড়ি আছে তাদের কালেকশনে। ডিজাইনের মধ্যে ব্লক, বাটিক ও প্যাচওয়ার্ক প্রাধান্য পেলেও ক্রেতাদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কাজ ছাড়া প্লেন ডেনিম শাড়িও রয়েছে তাদের কালেকশনে। ডেনিম কাপড়ের যে শাড়ি হয়, এটা দেখেই মূলত ক্রেতারা আগ্রহী হন। চিরায়ত ডেনিমের ব্যবহার ও ফ্যাশনের বাইরে এটা একদমই নতুন ধরনের কাজ। লাইটওয়েট হওয়ায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে এর বেশ চাহিদা, অনেকে আবার নিজেদের স্পেশাল স্টাইল হিসেবে ডেনিমের শাড়ি নেন।
শাড়ির মতোই ডেনিমের ব্লাউজও ক্রেতাদের মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। শক্ত ধরনের কাপড় হওয়ায় ডেনিমের ব্লাউজ যেমন শেপ ধরে রাখে, তেমনই ফিউশনধর্মী ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ধাঁচে স্টাইল করা যায়। তাই একেবারে দেশি এই ফ্যাশনেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে ডেনিম।
ডেনিমের স্কার্ট ও পালাজ্জো প্যান্ট
স্কার্টপ্রেমী ও চলাফেরায় যারা একটু আরাম পছন্দ করেন, কিন্তু স্টাইলটাও চান, মূলত তাদের জন্যই ডিজাইন করা ডেনিমের স্কার্ট এবং পালাজ্জো প্যান্ট। ডেনিমের স্কার্টের একটা ভালো দিক হচ্ছে নরম কাপড়ের স্কার্টের মতো হালকা নয়, একটু ওজন এবং স্ট্রাকচার ধরে রাখতে পারে। যার ফলে পুরো লুকটাই বেশ স্মার্ট হয়ে ওঠে। আর জিন্স প্যান্ট যারা পছন্দ করেন না, মূলত তাদের কথা মাথায় রেখেই বানানো ডেনিম পালাজ্জো প্যান্ট। ডেনিমের সিগনেচার স্টাইলিশ লুকের সঙ্গে এখানে থাকছে কমফোর্ট। মাঝে মাঝে লেসের কাজ অথবা স্টোন বসিয়ে ভিন্নমাত্রা দেওয়া হয় এগুলোকে। সেমি ফরমাল, ক্যাজুয়াল অথবা ট্রাভেলিংয়ে এ ধরনের কাপড়গুলো খুব মানিয়ে যায়।
ডেনিম পাঞ্জাবি
সব কি মেয়েদের জন্যই! মোটেই তা নয়, ছেলেদের কথা মাথায় রেখে অনেকগুলো ফ্যাশন ব্র্যান্ডই তাদের তালিকায় রেখেছে ডেনিমের তৈরি পাঞ্জাবি। হালকা ও মাঝারি ওজনের এই পাঞ্জাবি শীতকালে সোয়েটারের ঝামেলা থেকে বাঁচায়। এতে যেকোনো উপলক্ষে ঠান্ডা আবহাওয়াতেও স্টাইল চলে সমানভাবে। যেকোনো উৎসব অথবা বিশেষ আয়োজনে ছেলেদের মন জয় করে নিচ্ছে নতুন ফ্যাশনের এই ডেনিম পাঞ্জাবি।
বিজনেসের শুরু থেকে ডেনিম নিয়ে কাজ করছেন আফরিন আহমেদ। তার বিজনেস শুরু হয়েছিল ডেনিমের শাল দিয়ে। এরপরে বিভিন্ন রকমের ফিউশনধর্মী কাজ করেন তিনি ডেনিম নিয়ে। এখন তার বুটিকে আছে ডেনিমের বিভিন্ন ধরনের কালেকশন। ডেনিমে একদমই নতুন ধরনের ডিটাচেবল স্লিভ দিয়ে তিনি কুর্তি ডিজাইন করেছেন। এই কুর্তির বিশেষত্ব হলো, হাতাটা নিজের ইচ্ছামতো লাগানো অথবা খুলে নেওয়া যায়, এতে এক ড্রেসেই কয়েক রকমের স্টাইল করা যায়। বোতাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পার্ল, যা ডিজাইনটা আরও সুন্দর করেছে। গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য আরামদায়ক ডেনিম বাজারে পাওয়া একটু কঠিন, তাই মূলত শীতকালটাই ডেনিমের ফ্যাশন। তিনি হিসেবে ডেনিমের টাই, জুয়েলারি, ফিউশন হাতঘড়ি, পার্স বা টোট ব্যাগ এসব বেশ ভালো স্টাইল স্টেটমেন্ট হতে পারে বলে মনে করেন। ডেনিম যে শুধুই ওয়েস্টার্ন নয়, দেশীয় ফ্যাশনে বেশ ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় এবং আমাদের সংস্কৃতিতেও জায়গা করে নিতে পারে, এই ভাবনা থেকেই ডেনিম নিয়ে এত কাজ ও এক্সপেরিমেন্ট করা।
কোথায় পাবেন
ডেনিমের তৈরি বিভিন্ন পোশাক এখন প্রায় সব মার্কেটেই পাওয়া যায়। শীতকাল বলে এখন এর জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন বিখ্যাত মার্কেট যেমন নিউমার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নূরজাহান মার্কেট, উত্তরা রাজলক্ষ্মী এক্সপোর্ট মার্কেট, মৌচাক মার্কেট ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় আপনি পেয়ে যাবেন আপনার বাজেট অনুযায়ী মনের মতো ডেনিমের প্যান্ট, জ্যাকেট, শার্ট ইত্যাদি। দেশীয় ফ্যাশন যেমন টপস, কুর্তি, কো-অর্ডস, শাড়ি এসব পেতে খুঁজতে হবে দেশীয় ডিজাইনার বুটিক শপগুলোতে। ফেসবুকে ‘অন ক্লাউড নাইন অ্যান্ড হাফ’ পেজে পেয়ে যাবেন তাদের সিগনেচার ডেনিমের অ্যাপ্লিক করা ও প্লেন শাড়ি। একই সঙ্গে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন ডিজাইনের কো-অর্ডস আর কুর্তি।
ছেলেদের পাঞ্জাবি নিয়ে কাজ করছে বেশ কয়েকটি ব্রান্ড, যার মধ্যে আছে টুয়েলভ, আজওয়াহ ইত্যাদি ব্রান্ড। এ ছাড়াও জ্যাকেট, জিন্স এসব তো মার্কেটে আছেই! এই শীতে খুঁজে নিতে পারেন মনের মতো ডেনিম আউটফিট, আর নিজের স্টাইলে হতে পারেন অনন্য!