সাদিয়া মোস্তফা
প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৩৮ পিএম
শীত এলেই যেমন আমাদের শরীর বাড়তি যত্ন চায়, ঠিক তেমনই বাড়ির ভেতরে বা বারান্দায় রাখা আদরের গাছগুলোরও প্রয়োজন হয় বিশেষ পরিচর্যার। অনেকেই শীতে গাছের টবে জল দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন ঠান্ডা জল দিলে গাছের ক্ষতি হবে না তো? আবার কতটা সার দেওয়া উচিত, আলোই বা কতটা দরকার- এসব প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে গাছপ্রেমীদের মনে।
শীতকালে গাছের বৃদ্ধি তুলনামূলক কমে যায়। অনেক গাছ তখন সুপ্ত বা আধা-সুপ্ত অবস্থায় থাকে। তাই এই সময় ভুল যত্ন নিলে গাছ ঝিমিয়ে পড়তে পারে, এমনকি মরে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, শীতে ঘরের ও টবের গাছ কীভাবে যত্ন নিলে সেগুলো সুস্থ ও সবুজ থাকবে।
শীতে গাছে জল দেওয়ার সঠিক নিয়ম
শীতকালে গাছের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত পানি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাটি সহজে শুকায় না, ফলে বেশি পানি দিলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। এ ছাড়া-
অনেকে মনে করেন শীতে গাছে উষ্ণ পানি দেওয়া ভালো। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। খুব গরম বা বরফ-ঠান্ডা জল গাছের জন্য ক্ষতিকর। সব সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি বা গরম করা পানি এড়িয়ে চলুন। কক্ষ তাপমাত্রার পানিই গাছের শিকড়ের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

আলো
শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কমে যাওয়ায় গাছ সূর্যের আলো কম পায়। অথচ আলো ছাড়া গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব নয়। গাছ এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বেশি সময় আলো আসে। জানালার ধারে বা বারান্দা এক্ষেত্রে আদর্শ স্থান হতে পারে। সপ্তাহে অন্তত ১-২ দিন ইনডোর প্ল্যান্ট রোদে রাখুন। টব মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে দিন, যাতে সবদিকে আলো পড়ে। শীতের নরম রোদ গাছের ফুল ও পাতার বৃদ্ধিতে দারুণ সাহায্য করে।
সার
শীতকালে বেশিরভাগ গাছ বিশ্রামে থাকে। তাই এই সময় অতিরিক্ত সার দেওয়া উল্টো ক্ষতি করতে পারে। শীতে রাসায়নিক সার এড়িয়ে চলুন, একেবারেই সার না দেওয়াই ভালো। বসন্ত আসার পর ধীরে ধীরে সার দেওয়া শুরু করুন, তবে চাইলে অল্প পরিমাণ জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে।
জৈব সার
রাসায়নিক সারের বদলে রান্নাঘরের কিছু ফেলনা জিনিস দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ কার্যকর জৈব সার। যেমনÑ
ডিমের খোসা : ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস, ফুল ধরতে সাহায্য করে
কলার খোসা : পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ
সবজির খোসা : ফসফরাস ও মিনারেলে ভরপুর
চা পাতা : নাইট্রোজেন দেয়, মাটি উর্বর করে
কফি পাউডার : শিকড়ের পুষ্টিতে সহায়ক
এসব উপাদান পচিয়ে বা শুকিয়ে গুঁড়ো করে গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন।
টব বদল বা নতুন গাছ লাগানো
শীতকাল টব বদলানোর জন্য উপযুক্ত সময় নয়। শীতে গাছ দুর্বল থাকে, নতুন টবে বসালে গাছ সহজে মানিয়ে নিতে পারে না। বসন্ত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, নতুন গাছ কিনলেও সঙ্গে সঙ্গে টবে না বসিয়ে কয়েক দিন মানিয়ে নেওয়ার সময় দিন।
শুকনো পাতা ও ধুলো পরিষ্কার করা
শীতকালে গাছের পাতায় ধুলো জমে খুব দ্রুত। ধুলো জমলে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়। ভেজা নরম কাপড় দিয়ে পাতাগুলো মুছে দিন। হলুদ বা শুকনো পাতা কেটে ফেলুন, এতে গাছ যেমন সুস্থ থাকবে, তেমনই দেখতেও সুন্দর লাগবে।
শীতে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ
ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে শীতে মিলিবাগ বা ফাঙ্গাস দেখা দিতে পারে। নিয়মিত গাছ পর্যবেক্ষণ করুন, সমস্যা হলে অনুমোদিত কীটনাশক বা ফাঙ্গিসাইড ব্যবহার করুন। গাছের চারপাশে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেবেন না
খুব বেশি ঠান্ডায় ছোট টব ঘরের ভেতরে রাখুন
পাতায় হালকা স্প্রে করলে আর্দ্রতা বজায় থাকে
ঝরে পড়া পাতা মাটিতে বিছিয়ে দিলে আর্দ্রতা ধরে রাখে
শীত মানেই গাছের দুর্দশা এমনটা নয়। একটু সচেতন হলেই শীতেও আপনার ঘরের গাছ থাকবে সতেজ, সবুজ আর প্রাণবন্ত।