তাসনুভা হাসান
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৫৭ এএম
বর্তমান স্মার্টফোন-নির্ভর জীবনে নিত্যনতুন অ্যাপ ডাউনলোড করা এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিনোদন, যোগাযোগ, কাজ কিংবা নিরাপত্তার প্রয়োজনে ব্যবহারকারীরা নিয়মিত বিভিন্ন অ্যাপ ও অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করেন। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা তৈরি করছে ভুয়া বা ছদ্মবেশী থার্ড-পার্টি অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিভাইসের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই স্মার্টফোনে কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে সতর্কতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
যেকোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে প্রথমেই সেই অ্যাপটির ডেভেলপারের পরিচয় যাচাই করা উচিত। অনেক সময় একই নামের একাধিক অ্যাপ স্টোরে দেখা যায়, যেগুলোর মধ্যে কিছু আসল আর কিছু নকল হতে পারে। তাই অ্যাপের নাম, আইকন ও বিস্তারিত বিবরণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি অ্যাপল অ্যাপ স্টোর কিংবা গুগল প্লে স্টোরে থাকা অ্যাপটির রেটিং, ব্যবহারকারীদের রিভিউ এবং মোট ডাউনলোড সংখ্যা দেখে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। সন্দেহজনকভাবে কম রেটিং বা নেতিবাচক রিভিউ থাকলে সেই অ্যাপ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
অ্যাপটি কবে প্রকাশিত হয়েছে এবং নিয়মিত আপডেট পাচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে আপডেট না হওয়া অ্যাপ অনেক সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া অ্যাপ ডাউনলোডের আগে স্ক্রিনশটগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত। স্ক্রিনশটে অসংগতি বা বিভ্রান্তিকর কিছু দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
নকল বা ভুয়া অ্যাপ শনাক্ত করার আরেকটি কার্যকর উপায় হলো অ্যাপটির পারমিশন যাচাই করা। অনেক সময় সাধারণ কাজের অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, লোকেশন, কল লগ বা কন্টাক্টে প্রবেশাধিকার চায়। এ ধরনের অতিরিক্ত পারমিশন চাইলে বুঝতে হবে, অ্যাপটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এসব অ্যাপ ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণা, তথ্য চুরি বা নজরদারি করা সম্ভব।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে প্রটেক্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সুবিধা। এর মাধ্যমে অ্যাপ ও ডিভাইসকে ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়। প্লে স্টোর অ্যাপের প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করে প্লে প্রটেক্ট অপশনে গিয়ে ‘স্ক্যান অ্যাপ’ সক্রিয় করলে নিয়মিতভাবে ডিভাইস পরীক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি ডিভাইসটি প্লে প্রটেক্ট সার্টিফায়েড কি না, সেটিও যাচাই করা যেতে পারে।
এ ছাড়া কোনো অচেনা অ্যাপের বিবরণে অতিরিক্ত বানান বা ব্যাকরণগত ভুল থাকলে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত। কারণ পেশাদার ডেভেলপাররা সাধারণত এ ধরনের ভুল করেন না। সামান্য সতর্কতা ও সচেতনতার মাধ্যমেই ভুয়া অ্যাপের ফাঁদ থেকে নিজেকে এবং নিজের স্মার্টফোনকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।