আমাজনের প্রবেশদ্বার
রাজীব চৌধুরী
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:৪৪ পিএম
সাও পাওলো থেকে মাত্র তিন ঘণ্টা, সন্ধ্যা নামার ঠিক পরেই বেলেম এয়ারপোর্টে পা রাখলাম। আমাজনের প্রবেশদ্বার। শহর তখন উৎসবমুখর; বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ব্যস্ততায় মানুষের পদচারণা, রাস্তায় আলো, ব্যানার আর উচ্ছ্বাসের ঢেউ।
ভেন্যু হোস্টেল থেকে দূরে নয়
কপ-৩০-এর ব্যস্ততা; জলবায়ু পরিবর্তন, নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা, বন রক্ষা এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন– এসব নিয়ে দারুণ সব সেশন চলছিল। প্রথম দিনটি কাটল রেজিস্ট্রেশন আর বিভিন্ন সেমিনারে অংশ নিয়ে, যেখানে নানা দেশের প্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ আর আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে সত্যিই অনুপ্রাণিত করল।

নেভে অগুস্তো মেইরা ফিলিও এক সন্ধ্যার স্মৃতি
সম্মেলন থেকে সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসি হোস্টেলে। যেখানে উঠেছি মেরকাদু দে সাঁও ব্রাস। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। সেখান থেকে হাঁটলে মাত্র বিশ মিনিট। রাতে খুব সুন্দর আলো জ্বলে, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাজার এই উৎসবমুখরতা মিস করা যায় না। পাভিলাঁও অগুস্তো মেইরা ফিলিও। দূর থেকেই মনে হচ্ছিল ভবনটা যেন আলোয় মোড়া এক প্রাচীন নাট্যমঞ্চ।
তবে কাছে আসতেই বুঝলাম এর আলো শুধু আলোকসজ্জা নয়, এর পেছনে আছে শতাব্দী জুড়ে চলা এক গল্প। ১৯১১ সালে নির্মিত এই পুরনো বাজার ভবন, আর্ট নুভো আর নিও-ক্লাসিক্যাল নকশায় সাজানো। একসময় বেলেম শহরের বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। সময়ের সঙ্গে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল এই অবকাঠামো। পরে শহর যখন আবার ইতিহাসকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে চাইল, তখনই এই জায়গাটি পুনর্গঠন করে তৈরি হলো নতুন নেভ আর তার নাম রাখা হলো শহরের প্রকৌশলী প্রফেসর অগুস্তো মেইরা ফিলিও এর নামে। যেন নতুন আলোয় উঠে দাঁড়ানো এই ভবন শহরকে বলছে, ‘আমি এখনও আছি, আবারও সজীব।’
ভেতরে গেলাম। কাঁচ-লোহার গম্বুজ আর পুরনো কাঠামোর ভেতর দিয়ে আলো নাচছে আর মানুষের হালকা গুঞ্জন পুরো পরিবেশকে ছড়িয়ে দিচ্ছে জীবনের উচ্ছ্বাসে। ফুড কর্নারের দিকে হাঁটতে গিয়ে দেখলাম সারি সারি স্টলÑ গরম ট্যাপিওকা, গ্রিল করা মাছ, তাকাকার গন্ধ সবকিছুই মুগ্ধ করছে। আমি একটা খাবার নিয়ে বসে পড়লাম কাঠের টেবিলের পাশে।
ঠিক তখনই পাশের ছোট মঞ্চে কনসার্ট শুরু হয়ে গেল। গিটার আর পারকাশনের সুর বাতাসে ছড়িয়ে পড়তেই পুরো নেভে একটা ঢেউ উঠল। কেউ নাচছে, কেউ ভিডিও করছে, কেউ চুপচাপ চোখ বন্ধ করে সুর শুনছে। একটা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র যেমন হয়, তার সব রঙ এখানে একসঙ্গে ফুটে উঠেছে।
-693fbac0d582b.jpeg)
ভেরো পেসোর উচ্ছ্বাস, আমাজোনিয়ার মুগ্ধতা এবং ক্যাথেড্রালের সন্ধ্যাতরী
বেলেম শহরের নদীর ধারে মূল প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রেখেছে আর সেই প্রাণের কেন্দ্রে ভেরো পেসো এক বিশাল, রঙিন ও জীবন্ত বাজার। সকালের মিষ্টি রোদে হোস্টেল থেকে পঁচিশ মিনিটে পৌঁছে গেলাম সেখানে। এখানেও উবার সার্ভিস আছে। বাজারের বিশাল অংশ জুড়ে ফল, কাপড়, মাছ ও কারুশিল্পের স্টল আর নদীর পাশ দিয়ে লম্বা ক্যাফের সারি, যা একটু বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে শহরের দৃশ্যকে আরও উপভোগ্য করে তোলে। এখানে ঢুকতেই মনে হলো শহরের স্পন্দনে পা রেখেছি- নদীর নোনা বাতাস, মাছ-মসলা-ফল-হারবাল ওষুধের মিশ্র গন্ধ, স্থানীয়দের আড্ডা আর পর্যটকদের ভিড়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করছে এক জমজমাট পরিবেশ।
-693fbaef5cabc.jpeg)
রাস্তার ওপারে সরু গলি আর পুরনো বিল্ডিংগুলো শহরের শতাব্দীর ইতিহাসকে চোখে তুলে ধরে। হেঁটে হেঁটে ঘুরতে ঘুরতে সবচেয়ে প্রাণবন্ত মুহূর্তটি এলো, এক ছোট স্টলে ফরমালিন মুক্ত, সতেজ কমলার জুসের স্বাদ নিয়ে তাজা, রসাল ও সুগন্ধি, যা বাজারের উচ্ছ্বাসকে আরও জীবন্ত করে তুলেছিল।
-693fbb1a8ceb1.jpeg)
বাজারের ঠিক পাশে অবস্থিত মুজেউ দাস আমাজোনিয়া হলো এক অনন্য মিউজিয়াম; যা আমাজনের প্রাকৃতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে একসঙ্গে উপস্থাপন করে। এখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে সেবাস্তিয়াঁও সালগাদু-এর কালো‑সাদা ফটোগ্রাফি, আদিবাসী সংস্কৃতির নিদর্শন, বন ও নদীর জীবন এবং জলের প্রাণীর মডেল- সব মিলিয়ে দর্শককে শুধু দেখার নয়, অনুভবের অভিজ্ঞতা দেয়। পুরো মিউজিয়ামটি ডিজাইন করা হয়েছে পরিবেশ শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প ও ইতিহাসের সমন্বয়ে, যা নদীকে কেন্দ্র করে বেলেম শহরকে এবং সমগ্র আমাজন অঞ্চলের গুরুত্বকে প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরে। এই মিউজিয়ামে ভ্রমণ করতে গিয়ে নিজে সত্যিই অনুভব করলাম, নদীর শহরে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র কতটা শিক্ষামূলক ও প্রাণবন্ত, যা আমাজনকে এবং বেলেমকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল।

দিনের শেষে সন্ধ্যার নরম আলোয় গেলাম বেলেম ক্যাথেড্রালে। ভেতরে ঢুকতেই কানে এলো প্রার্থনার গাম্ভীর্য। পর্তুগিজ শব্দগুলো না বুঝলেও সুরের শান্তি সব ক্লান্তি মুছে দিচ্ছিল। এই ক্যাথেড্রাল, যা ১৬১৬ সালে ক্ষুদ্র চ্যাপেল হিসেবে শুরু হয়েছিল। ১৭৪৮ সালে নির্মাণ শুরু হয় এবং ইতালীয় স্থপতি আন্তোনিউ জোজে লান্দির নকশায় ১৭৮২ সালে সম্পূর্ণ রূপ পায়, আজও শতাব্দী প্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্পকলার অনন্য সাক্ষী।
-693fbb5ef1e04.jpeg)
গোয়েলদি মিউজিয়ামের সবুজ দিগন্তে
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ব্যস্ততার মাঝেই আমি আর আদিবাসী পরিবেশ গবেষণায় বহু দিন কাজ করা আজ আমার সঙ্গী পাভেল পার্থ দা। আমরা নীরব দুপুরে রওনা দিলাম মুজেউ পারাএন্সি এমিলিও গেলদির দিকে। গোয়েলদি মিউজিয়াম।
১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত, ১৮৯৪ সালে সুইস প্রাণিবিজ্ঞানী এমিলিও গেলদির নেতৃত্বে আধুনিক গবেষণাগারে রূপ পাওয়া এই প্রতিষ্ঠান লাতিন আমেরিকার প্রাচীনতম বিজ্ঞানকেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে আমাজনের প্রাণী, উদ্ভিদ, আদিবাসী সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অমূল্য সংগ্রহ অর্থাৎ আমাজনের প্রাণ-সংরক্ষিত।
গেট পেরোতেই শহর যেন পিছিয়ে গেল আর আমরা ঢুকে পড়লাম সবুজঘেরা অন্য জগতে। বিশাল গাছপালার গায়ে লেগে থাকা আর্দ্রতা, মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া টুকান আর উজ্জ্বল ম্যাকাওয়ের ডানা, রঙ যেন আলোকে ছুঁয়ে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে। যতই হাঁটছি এখানে আমাজনের হৃৎস্পন্দন টের পাচ্ছিলাম। জাগুয়ারটাকে দেখলাম, খাঁচার ভেতর হলেও চোখে ছিল দুরন্ত বনের গভীরতা, তার পায়ের গতি আর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থানে আমাজনের গর্ব। কচ্ছপরা শ্যাওলা-ঢাকা জলে নীরবে চলছিল। মনে হচ্ছিল সময়ের ভেতর দিয়ে প্রাচীন কোনো গল্প ভেসে যাচ্ছে। কাছে ছোট নদীর ধারে গুচ্ছ গুচ্ছ গাছ- কেউ শতবর্ষী, কেউ নবীন; উঁচু ছাতার মতো দাঁড়িয়ে থাকা সুমাত্রা পাম আর পাশে ব্রাজিল নাটগাছের বিশাল কাণ্ড। সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত উদ্ভিদ-এনসাইক্লোপিডিয়া। পাভেল পার্থ দা পাশে পাশে হাঁটছিলেন আর প্রতিটি গাছ-পাখির আচরণ ব্যাখ্যা করছিলেন। তার সঙ্গে থাকলে মনে হয়, বনও যেন মানুষের ভাষায় কথা বলে।
গাইড আমাদের আরও গভীরে নিয়ে গেল। সে বলল, এ মাটি শুধু শহর নয়; আদিবাসী গোষ্ঠীর দীর্ঘ ইতিহাস, উপনিবেশের স্মৃতি আর আমাজনের অদৃশ্য শ্বাসে তৈরি হয়েছে বেলেম। গাইডের প্রতিটি বাক্য মাটির নিচে চাপা থাকা গল্পগুলো তুলে আনছিল।
গবেষণা ভবনে গিয়ে দেখলাম হাজারো নমুনা- উদ্ভিদ, পোকামাকড়, আদিবাসী নৃতত্ত্ব, প্রত্নতত্ত্ব আমাজনকে বুঝতে হলে এটাই প্রথম দরজা। শত শত বিজ্ঞানী এখানে প্রতিদিন বনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করেন। মনে হলো, বন শুধু বৃক্ষরাজি নয়; বন মানে ইতিহাস, স্মৃতি, ভাষা, মানুষের জীবন।
তিন ঘণ্টা কীভাবে কেটে গেল টেরই পেলাম না। হাঁটতে হাঁটতে জু বোটানিক্যাল পার্কের ক্যাফেতে বসে কফি নিলাম। কফির ভাপে বাতাসের আর্দ্রতা, পাখির ডানার শব্দ আর দূরের ঝরাপাতার শব্দ মিলেমিশে এক অদ্ভুত সুর তৈরি করেছিল। এমন সময় মনে পড়ল বিখ্যাত আমাজনীয় ব্রাজিলিয়ান কবি তিয়াগো দে মেলোর মানবতা আর প্রকৃতিপ্রীতির সেই অমর পঙ্ক্তিটি- It is dark, but I sing. ‘অন্ধকার নেমেছে, তবু আমি গাই।’
আমাজনের ভবিষ্যৎ যত অনিশ্চিতই হোক, প্রকৃতি তবু গান গায়- এই মিউজিয়ামের প্রতিটি পাতা, প্রতিটি প্রাণী যেন সেই গানই শোনাচ্ছিল। দ্রুত সন্ধ্যা নেমে আসছিল। গেট পেরিয়ে বেলেমের রাস্তায় নামতেই মৃদু বাতাসে নদীর গন্ধ ভেসে এলো। মনে হলো নদী ডাকছে চলো, সন্ধ্যা নামে… গল্প এখনও শেষ হয়নি।
নদী, নৃত্য ও মানুষের মিলনমেলা
ভেরো হিও-এর নদীর ধারের সেই প্রাণচঞ্চল পরিবেশে সাংস্কৃতি সন্ধ্যাটি যেন এক জাদুময় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল। গুয়াজারা উপসাগরের কালো জলে আলো প্রতিফলিত হয়ে যখন চারপাশকে নরম আভায় ভরে তুলছিল, তখনই শুরু হলো আমাজানিও নৃত্যের মোহময় প্রদর্শন- শরীরে উরুকুম আর জেনিপাপের রঙ, পালক আর বীজের অলংকার আর অরণ্যের আত্মাকে জাগিয়ে তোলা সেই গভীর ছন্দে নৃত্যশিল্পীরা যেন বন ও নদীর সঙ্গে একাকার হয়ে নেচে উঠল। ভেরো হিওর পথঘাটে তখন ভিড়- পরিবার, পর্যটক, বন্ধুদের দল সবাই যেন শহরের হৃদয় থেকে উঠে এসে নদীর ধারে মিলেছে। এক পাশে স্ট্রিটফুডের মনকাড়া গন্ধ- তাকাকা, পাটো নো তুকুপি, অ্যাসাই আর নানা স্থানীয় স্বাদের আহ্বান।
-693fbb9d8eec5.jpeg)
থিয়েটার দা পাজ ঘিরে শেষ বিকাল
বেলেমে ঘোরাঘুরির শেষ দিনে বৃষ্টির দেখা পেলাম। সেইসঙ্গে বাতাস ভ্যাপসা, শুকনো গরমে গা একটু আঠাল লাগছিল, তবু শহরের ভেতর একটা নরম সৌন্দর্য আছে। রাস্তার দুই পাশে বিশাল বিশাল আমগাছ। হঠাৎ চোখে পড়ল একটি ছোট পেটস বেবিশপ। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কুকুরছানাগুলো দেখে মনে হলো, এখানে মানুষ কুকুরকে ঠিক শিশুর মতোই যত্ন করে। ওদের সঙ্গে আচরণ দেখে মনে হলোÑ এই শহরে মায়া শুকায় না। রাস্তা ছিল বিস্তৃত, সাজানো, আর অদ্ভুতভাবে শান্ত। ট্রাফিক সিগন্যালে সবাই যেভাবে থেমে যায়। কোনো হর্ন নেই, কোনো তাড়াহুড়ো নেই। প্রায় চল্লিশ মিনিট হাঁটার পর দেখা পেলাম থিয়েটারের। সাদা কলাম আর নিও-ক্ল্যাসিকাল স্থাপত্য দেখে মনে হলো যেন ইউরোপ থেকে এক খণ্ড ইতিহাস এসে আমাজনের বুকে দাঁড়িয়ে আছে।
দশ রিয়ালের টিকিট কেটে ঢুকতেই বুঝলাম, আজ শো আছে। একসঙ্গে ২৭০০ দর্শক বসতে পারেন। তাই দর্শকরা অনেক আগে থেকেই লাইনেÑ দুই ঘণ্টা আগে! তবু আমাকে খুব স্বচ্ছন্দে ভেতরে ঢুকতে দিল। নিয়মের দেশে থেকেও তারা যেভাবে একজন অতিথিকে সম্মান দেখায়, সেটা সত্যিই আলাদা উষ্ণতা দেয়। ভেতরে থিয়েটারের আসল মায়া শুরু হলো। সোনালি নকশা, বড় বড় আয়না, ক্রিস্টালের আলো আর মঞ্চের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল কোনো সময়হীন শিল্পের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি। বের হওয়ার পথ এসে পড়ল একটি বুক-ক্যাফেতে। ক্লান্ত ছিলাম। তাই কফি আর কেক নিয়ে একটু বসে পড়লাম। এই বিরতি আমাকে আশ্চর্যভাবে সতেজ করে দিল। যেন কফিটার সঙ্গে থিয়েটারের ইতিহাসও একটু করে ভেতরে ঢুকে গেল।
ফুটপাত ধরে থিয়েটার থেকে বেরিয়ে দেখি সারি সারি হস্তশিল্প আর স্টেশনারির দোকান। ছোট, শান্ত, কোনো হাঁকডাক নেই। শিল্পও যেন এখানে নীরবতা পছন্দ করে। সন্ধ্যা নেমে আসছিল। থিয়েটার দা পাজের আলো জ্বলে উঠল। সাদা কলামের ওপর নরম হলুদ আলো। মনে হলো, এই শহরটাকে আমি আমার স্মৃতির ওপর খুব ধীরে, খুব নরমভাবে বসিয়ে নিয়েছি।
(ব্রাজিলের পারা রাজ্যে অবস্থিত বেলেমকে বলা হয় আমাজনের প্রবেশদ্বার। শহরের আলো, নদী, বাজার, মিউজিয়াম, নাচ, খাবার, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর মানুষের উষ্ণতাÑ সব মিলিয়ে বেলেম আমাজনের প্রাণস্পন্দন। শহরের মায়াময়, স্মৃতিময় অধ্যায়ের চুম্বক অংশ নিয়ে লেখা।)