× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিজয়ের কথা

স্বপ্নিল কুমার ভদ্র

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৪২ পিএম

অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

বেশ বয়স হয়েছে খাদিজা বেগমের। আশির কাছাকাছি বয়স। বিলাসহাটি নামের একটা ছোট গ্রামে থাকেন। অনেক বয়স হওয়া সত্ত্বেও নিজের কাজ নিজে করেন। কারও সাহায্য নেন না খুব একটা। প্রতিদিন ঘর-উঠোন ঝাঁট দেন, গরুকে ঘাস-বিচালি দেন, হাঁস-মুরগিকে দানাপানি দেন। স্বামীকে সেই একাত্তরে পাকিস্তানি মিলিটারি ধরে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে, মেরেছে তার মেয়েকেও। পাশের গ্রামের নদীর ধারে পাওয়া গিয়েছিল তাদের লাশ। তার ছেলে চলে যায় ভারতে। মেঘালয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। 

খাদিজা বেগম মহিলা হয়েও তারামন বিবি, সিতারা বেগমদের মতো যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তার চোখে ছিল প্রতিশোধের আগুন আর দেশ স্বাধীনের স্বপ্ন। তিনি পড়াশোনা করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই সময়েই শুরু হলো স্বাধীনতার সংগ্রাম। উত্তাল সারা দেশ। যুদ্ধক্ষেত্রে তার সঙ্গে ছিল ইতিহাসের প্রথম নারীযোদ্ধা সুলতানা রাজিয়ার জীবনীগ্রন্থ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন সুলতানা রাজিয়া তলোয়ার ধরেছিলেন তেমনি বাংলার মা-বোনেরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘৃণ্য নরপশু পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীর বিরুদ্ধে। 

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। খাদিজা বেগম মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর কথা ভাবছিলেন। কত ত্যাগ, তিতিক্ষা, রক্তস্রোত, সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা। উৎসর্গ হলো ত্রিশ লক্ষ প্রাণ। অবশেষে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। খাদিজা বেগমের মনে পড়ে যায় স্বামী ও কন্যার কথা। তার চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। 

রাতে খাদিজা বেগম ভিডিও কলে স্পেনপ্রবাসী ছেলে, ছেলে বউ এবং নাতিনাতনিদের সঙ্গে কথা বলেন। ছেলে আতিক রহমান বলে, ‘মা, আপনি আমাদের সঙ্গে স্পেনে চলে আসুন না। দেশে একা থাকতে নিশ্চয়ই কষ্ট হচ্ছে।’

মা বলেন, ‘এই মাটিতে শুয়ে আছে তোমার বাবা ও বোন। এই বাংলার মাটিতে জন্মেছি, এই মাটিতেই শেষ বিদায় নেব। বিদেশে যাব না। আর শুনো বিদেশে থেকে দেশকে ভুলে যেও না। সামনের স্বাধীনতা দিবসে এসো নিজের দেশে। দেশ কিন্তু সবার আগে।’ 

সপ্তম শ্রেণি, ইউনিক প্রগ্রেসিভ, স্কুল, ময়মনসিংহ


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা