জারাদ ত্রিস্তান
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৫:৪১ পিএম
অলংকরণ : মিথিলা ভৌমিক, নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
সোনাদিয়া গ্রামে ক্যাম্প ফেলেছে পাকিস্তানি বাহিনী। গ্রামের স্কুলটিতে তারা ক্যাম্প বানিয়েছে। সোনাদিয়া গ্রামের বসবাসকারীরা হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের। তারা খুব সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। এখানকার বেশিরভাগই মানুষই ভয়ে ভারতে চলে গেছেন।
পাকিস্তানি বাহিনী আশপাশের মানুষদের ক্ষতি করেনি। কারণ তাদের বাড়ি থেকে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি এনে এনে তারা খায়, আশপাশের বাঙালি থাকলে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরতেও সুবিধা হয়।
একদিন সকালে পাক বাহিনীর এক সৈন্য বসে গরুর মাংস দিয়ে রুটি খাচ্ছিল। এমন সময় জিল্লু এসে তাকে স্যালুট দিল।
জিল্লুর এ গ্রামেরই ছেলে, পাকিস্তানিদের মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ এনে দিয়ে সহায়তা করে। আসলে এখানের একটা বাড়িতে আগে সে কাজ করত, বাড়ির মালিক ভারতে চলে যাওয়ার পর পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করে।
‘এ জিল্লু, কেয়া চাইয়ে?’
‘আসসালামু আলাইকুম স্যার, স্যার একটা খবর লইয়া আইছি।’
‘ ইতনি সুবাহ সুবাহ ফির কেয়া খবার লিয়ে হো?’ ‘স্যার, পাশের চকহরিপুর গ্রামে এক লোক পাইছি, সারাক্ষণ খালি জয় বাংলা জয় বাংলা কইরা চেঁচায়।’
উর্দুতে বলল, ‘কত বড় সাহস! পাকিস্তানে থেকে বলে বাংলা! আজকে আর খাওয়া হবে না চল কই সেই লোক।’ এই বলে বাকি রুটিটা মুখে দিয়ে বেরিয়ে পড়ল বাহিনী নিয়ে।
ভাবল, যখন কেউ জয় বাংলা বলে চেঁচাচ্ছে তবে নিশ্চয়ই আশপাশে মুক্তিবাহিনী আছে। আজকে নিশ্চয়ই খুব বড় একটা দলকে ধরা যাবে।
জিল্লুই রাস্তা দেখাতে দেখাতে তাদেরকে নিয়ে চলছিল। এমন সময় তারা চকহরিপুর গ্রামে পৌঁছে গেল।
‘কিরে জিল্লু কোন বাড়িতে জয় বাংলা জয় বাংলা বলে চেঁচায়?’
জিল্লু একটা বাড়ি দেখিয়ে দিল। পাকা বাড়ি। ‘এই তোমরা সবাই অস্ত্র প্রস্তুত রাখো, নিশ্চয়ই মুক্তিবাহিনীর একটা বড় দল আছে বাড়িতে।’ এমন সময় বাড়ির ভেতর থেকে কে যেন বলে উঠল, ‘জয় বাংলা।’
জিল্লু জানাল সে আর যাবে না। এই বলে চম্পট দিল।
জিল্লু দৌড়ে চকহরিপুর গ্রাম পার হয়ে সোনাদিয়া গ্রাম ছাড়িয়ে মালতিপুর গ্রামে চলে গেল। এখন আর কেউ তাকে ধরতে পারবে না। হাসিতে তার পেট ফেটে যাচ্ছে। পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাড়িতে ঢুকে দেখবে একটা টিয়া পাখি জয় বাংলা জয় বাংলা বলে চেঁচাচ্ছে তখন দারুণ ঠকানো হবে। তারপর যখন মেজাজ গরম করে ফিরতে যাবে তখনই বন্দি হয়ে পড়বে সেই বাড়ির ভেতর। অত ছোট একটা দল বড় মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারবে না।
জিল্লু আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের চর, মুক্তিযোদ্ধাদের নির্দেশে এসে পাকিস্তানি বাহিনীর ভেতর ঢুকে ভেতরের খবর তাদেরকে জানাচ্ছিল। আজ তার কারণে কয়েকজন হানাদার ধরা পড়বে। জিল্লু চেঁচিয়ে বলে উঠল, ‘জয় বাংলা!’
পঞ্চম শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা