× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বান্দরবান

পাহাড়-মেঘের স্বর্গরাজ্য

সুফল চাকমা

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:২১ এএম

ছবি : লেখক

ছবি : লেখক

বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে অন্যতম বান্দরবান। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচুনিচু সবুজ পাহাড়, মেঘ, নদী, জলপ্রপাত আর ঝরনার মিলনে গঠিত এই জেলা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। ভ্রমণপিপাসুদের মনের সব খোরাক যেন এই জেলাতেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পাহাড়কন্যা খ্যাত এই জেলায় রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তাই পাহাড় ও মেঘের স্বর্গরাজ্য দীর্ঘছুটিতে-শীতের সময় ভ্রমণের জন্য আদর্শ স্থান হচ্ছে বান্দরবান।

ভ্রমণপিপাসুদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ও মুগ্ধ করে দেবতাখুম। বান্দরবান রোয়াংছড়ির দেবতাখুম এ শীতের সময় বা ছুটিতে পর্যটকদের হতে পারে প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। নিরাপত্তার কারণে দেবতাখুম গত দুই বছর পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা ছিল। জেলা প্রশাসন গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যটক ভ্রমণের দুয়ার খুলে দেয়। অন্যদিকে ৩৩ মাস পর গত ৫ জুন রুমা ও থানচি পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে প্রশাসন। অন্যদিকে অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে কেওক্রাডং পাহাড় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় স্থানীয় প্রশাসন।

দেবতাখুম ছাড়াও পর্যটকদের জন্য নীলাচল, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, গোল্ডেন টেম্পল, শৈলপ্রপাত ঝরনা, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক পাহাড়, নীলগিরি, রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাখুম, রুমা উপজেলার রহস্য ঘেরা বগালেক, থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গি, তিন্দু ইউনিয়নের রাজা পাথর, রেমাক্রি ফলস, লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালি এবং আলীকদম উপজেলার আলী সুরঙ্গ পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এসব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। তবে নানা কারণে বান্দরবানের থানচি ও রুমা দুই উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে।

দেবতাখুম

রোয়াংছড়ি দেবতাখুম

বান্দরবানে ছোট-বড় অনেক খুম রয়েছে, তবে এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো রোয়াংছড়ি দেবতাখুম। এখানে সহজেই ভ্রমণ করা যায়। এই খুমের কিছু অংশ প্রায় ৭০ থেকে ৯০ ফুট গভীর, যা একে আরও রহস্যময় ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। খুমের দুপাশে সুউচ্চ পাথুরে পাহাড় দিয়ে ঘেরা, যার কারণে বেশিরভাগ জায়গায় সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না। ফলে ভেলার মাধ্যমে যতই গভীরে যাওয়া হয়, ততই শীতল অনুভূতি পাওয়া যায়। বাঁশের ভেলায় করে দেবতাখুমের ভেতরে প্রবেশের সময় পর্যটকরা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন।

কীভাবে যাবেন

বান্দরবান বাস টার্মিনাল থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপগাড়ি, মাহিন্দ্রা বা সিএনজিযোগে রোয়াংছড়ি কচ্ছপতলী বাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়, যা বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। কচ্ছপতলী বাজারে পৌঁছে সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে জাতীয় পরিচয়পত্রে ফটোকপি জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হয়, এরপর স্থানীয় গাইডের সহায়তায় দেবতাখুম যাওয়া যায়। কচ্ছপতলী বাজার থেকে ঝিরিরপথ ও পাহাড়িপথ ধরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন দেবতাখুমে, যেখানে অপেক্ষা করছে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

নীলাচল

বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে টাইগার পাড়ায় অবস্থিত এক অপূর্ব পর্যটনস্থল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থানকে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে। চারপাশে সারি সারি পাহাড়, সবুজের মোড়কে মোড়ানো উপত্যকা আর বিস্তীর্ণ আকাশ। সব মিলিয়ে এক স্বপ্নিল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এখানে।

নীলাচল থেকে পুরো বান্দরবান শহরকে দেখা যায় ছবির মতো। পাহাড়ের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়িদের ছিমছাম বসতি আর কোথাও দূর দিগন্তে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা এসবই এক মোহনীয় সৌন্দর্যের আবহ তৈরি করে। পর্যটকরা এখানে এসে পাখির চোখে পাহাড়ের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা প্রকৃতির অপার রূপ উপভোগ করতে পারেন। মনোমুগ্ধকর এই স্থান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গসম অনুভূতি নিয়ে আসে।

গোল্ডেন টেম্পল 

বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে কানাইপাড়া এলাকায় অবস্থিত চমৎকার একটি স্থাপনা হলো গোল্ডেন টেম্পল। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনালয়, পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। মিয়ানমারের মন্দিরগুলোর আদলে নির্মিত এই বৌদ্ধ মন্দিরটি কারুকার্যের অনন্য নিদর্শন। ছোট্ট পাহাড়ের ওপর নির্মিত মন্দিরটির প্রধান আকর্ষণ হলো ৫৭ ফুট উচ্চতার বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। প্রতিদিনই অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন এর স্থাপত্যশৈলী ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। পাহাড়ঘেরা শান্ত পরিবেশ আর সোনালি রঙের গম্বুজ মন্দিরটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এটি এখন পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত।

মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স

চারিদিকে উঁচুনিচু পাহাড়, আর তার মাঝখানে টলটলে স্বচ্ছ পানির লেক প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যেন এখানে লুকিয়ে আছে। সবুজ পাহাড়, ঝলমলে লেকের পানি আর মেঘের আনাগোনা মিলিয়ে মেঘলা হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে ঘুরে বেড়ানো, কিংবা লেকের স্বচ্ছ জলে নৌকাভ্রমণ প্রতিটি মুহূর্তে অপেক্ষা করছে নতুন এক রোমাঞ্চ।

লেকের ওপর দিয়ে চলে গেছে দুটি আকর্ষণীয় ঝুলন্ত সেতু, যা পর্যটকদের জন্য বাড়িয়ে দেয় বাড়তি উত্তেজনা। এ ছাড়া মেঘলায় চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে শিশুপার্ক, প্যাডেল বোট ও ক্যাবল কারের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর আধুনিক বিনোদনের অপূর্ব সমন্বয়ে মেঘলা হয়ে উঠেছে পর্যটকদের জন্য এক স্বপ্নময় গন্তব্য।

কীভাবে যাবেন

নীলাচল, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ও গোল্ডেন টেম্পল বান্দরবান-চট্টগ্রাম কেরানীরহাট সড়কে হওয়ায় জেলা শহরের বাস টার্মিনাল থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপগাড়ি, মাহিন্দ্রা, সিএনজি দিয়ে যেতে পারবেন। অথবা কেরাণীহাতগামী লোকাল বাসেও যাওয়া যায়।

প্রান্তিক লেক

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর প্রান্তিক লেক ৬৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, যা পাহাড় ও অরণ্যে ঘেরা এক মনোমুগ্ধকর পর্যটনস্থান। ২০১৩ সালে সরকার এই লেককে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে।

লেকের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ২৫ একর আয়তনের একটি প্রাকৃতিক জলাশয় রয়েছে, যার চারপাশ ঘিরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি। পর্যটকদের জন্য এখানে উন্মুক্ত মঞ্চ, পিকনিক স্পট, বিশ্রামাগার, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ট্রি-টপ অ্যাডভেঞ্চার, জিপ-লাইন ট্রলি (জিপলাইনার), কিডস কর্নার ও সৌরবিদ্যুৎ-চালিত বোটের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে লেক থেকে মাছ ধরা সম্ভব। এ ছাড়া রাত্রিযাপন করতে চাইলে তাঁবু টাঙিয়ে ক্যাম্পিং করার সুযোগও রয়েছে, যা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ।

কীভাবে যাবেন

বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে হলুদিয়া হয়ে প্রান্তিক লেকে যেতে হয়। শহরের বাস টার্মিনাল থেকে চাঁদের গাড়ি, জিপ, মাহিন্দ্রা, সিএনজি দিয়ে যেতে পারবেন। 

থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীতে তিন্দু এলাকার পাথরের রাজ্যে

চিম্বুক পাহাড়

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত চিম্বুক, যা বান্দরবান জেলা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চান্দের গাড়িতে চিম্বুক ভ্রমণের সময় চারপাশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। চিম্বুকের শীর্ষ থেকে নিচে তাকালে মেঘের ভেলা যেন হাতছোঁয়া দূরত্বে মনে হয়, যা পর্যটকদের অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা দেয়। একই সড়কে অবস্থিত হওয়ায় দর্শনার্থীরা সাধারণত চিম্বুক, ডাবল হ্যান্ড ভিউ, টাইটানিক ভিউ, নীলগিরি, মিলনছড়ি এবং শৈলপ্রপাত ঝরনা একসঙ্গে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া করে থাকেন। চিম্বুক থেকে নীলগিরি যাওয়ার পথে টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট ও ডাবল হ্যান্ড ভিউ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে মনোমুগ্ধকর মেঘের মিতালি উপভোগ করা যায়।

থানচি উপজেলার তিন্দু এলাকার সাঙ্গু নদীতে পাথরের রাজ্যে

শৈলপ্রপাত

মিলনছড়ির এই জলপ্রপাতটি থানচি বাসস্টেশন থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঝরনার স্বচ্ছ ও ঠান্ডা পানিতে প্রচুর পাথর দেখা যায়, যা প্রকৃতির অপূর্ব শোভা বৃদ্ধি করে। এটি স্থানীয়দের জন্য বিশুদ্ধ পানির একটি প্রধান উৎস। জলপ্রপাতের বাইরে একটি ছোট্ট বাজার রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা বম সম্প্রদায়ের তৈরি তাঁতের পণ্যসহ স্থানীয় নারী-পুরুষদের উৎপাদিত আনারস, পেয়ারা, জাম্বুরাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ফল কিনতে ও স্বাদ নিতে পারেন। এখানে এলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংগ্রামী জীবনও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণ চিম্বুক পাহাড়। নীলগিরির পথে এই শৈলপ্রপাতটি পড়েছে, তাই নীলগিরি ভ্রমণের সময় মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে এই সুন্দর ঝরনাটি উপভোগ করা যায়।

নীলগিরি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ফুট উঁচু, বাংলাদেশের অন্যতম একটি উঁচু শৃঙ্গ নীলগিরি। পুরো এলাকা মেঘে ঢেকে থাকার কারণে, দর্শনার্থীরা এটি ‘মেঘের দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। নীলগিরির সূর্যাস্তটি যে কোনো পর্যটককেই অভিভূত করতে পারে। এখানকার মনোরম হেলিপ্যাডও অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। নীলগিরির এই সুন্দর পর্যটন এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান ব্রিগেড।

কীভাবে যাবেন 

বান্দরবান জেলা শহর থেকে চাঁদের গাড়ি, মাহিন্দ্রা, জিপ, সিএনজি দিয়ে যাওয়া যায়। তবে দুই থেকে চারজন হলে কম খরচে যেতে চাইলে সিএনজি বা মাহিন্দ্রা নিতে পারেন। একটা চাঁদের গাড়িতে প্রায় ১২ জন পর্যটক ভ্রমণে যেতে পারে। সাধারণত একই সড়কে হওয়ায় পর্যটকরা চিম্বুক, নীলগিরি, মিলনছড়ি এবং শৈলপ্রপাত ঝরনা একসঙ্গে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া করে থাকেন।

লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালী

মিরিঞ্জা ভ্যালি

লামা মিরিঞ্জা ভ্যালি প্রকৃতিক দুর্যোগে অতিবৃষ্টির কারণে প্রাণহানির আশঙ্কায় মৌখিকভাবে কয়েকদিন পর্যটক বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে যেহেতু আবহাওয়া ভালো ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে লামা মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ভ্রমণ ও রাত্রিযাপন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন লামা পর্যটন রিসোর্ট মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।

মিরিঞ্জা ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি উপভোগ করা। সবুজ প্রান্তর যেখানে মিশে যায় মেঘের ভেলায়, সেখানে ইচ্ছে করলেই ছোঁয়া যায় মেঘ। প্রকৃতি এই এলাকাটিকে সাজিয়েছে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে, যেন আকাশটিও অনেক কাছাকাছি। রাতে শহরের আলো সৌন্দর্যকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। মিরিঞ্জা ভ্যালিতে পর্যটকদের জন্য পাহাড়িদের জুম ঘরের আদলে তৈরি অনেক জুমঘর বা মাচাংঘরে রাত্রিযাপন করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁবু টাঙিয়েও রাত্রিযাপন করা সম্ভব। মিরিঞ্জা ভ্যালি থেকে সূর্যোদয়ের সময় মেঘের মিতালির দৃশ্য যেকোনো দর্শকের মন ছুঁয়ে যাবে।

কীভাবে যাবেন 

বান্দরবান শহর থেকে ৮৬ কিলোমিটার ও কক্সবাজার চকরিয়া উপজেলা থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লামা উপজেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে। মিরিঞ্জা ভ্যালি, আলীকদম মারাইতং পাহাড় ও আলী গুহা একই সড়কে হওয়ায় এসব পর্যটনকেন্দ্রে যেতে হলে কক্সবাজার চকরিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ডে থেকেই যেতে হয়। চট্টগ্রাম অথবা ঢাকা থেকে চকরিয়ায় নেমে আলীকদম ও লামাগামী বাসে করে যেতে হয়। সরাসরি ঢাকা থেকে আলীকদম বাস হলে লামা মিরিঞ্জা ভ্যালি এলাকায় নামলেই দেখা যাবে লামা মিরিঞ্জা ভ্যালি।

লামা মিরিঞ্জা ভ্যালিতে গেলে কী খাবো? এ বিষয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। ব্যক্তি মালিকানায় মিরিঞ্জা ভ্যালিতে ছোট ছোট মাচাংঘরের সঙ্গে একটি ছোট রেস্টুরেন্টও রয়েছে। ওখান থেকে খেয়ে নিতে পারবেন। অবথা কী কী খাবেন অর্ডার করলে প্রয়োজনে রুমে এসে খাবার দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

আলী গুহা বা আলী সুড়ঙ্গ

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরেই মাতামুহুরী-তৈন খালঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত আলী গুহা। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই গুহাটি ঝিরি থেকে প্রায় ৫০ ফুট ওপরে অবস্থিত। তৈন খাল থেকে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মতো ঝিরির পথে হাঁটলেই দেখা যাবে আলী গুহা। এখানে মোট তিনটি গুহা রয়েছে, এর মধ্যে দ্বিতীয় গুহায় এক প্রান্তে ঢুকলে অন্য প্রান্তে বের হওয়া যায়। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার সময় একটি অনন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া যায়। প্রকৃতির এই গুহাকে ঘিরে রহস্যের কোনো শেষ নেই।

কীভাবে যাবেন 

আলীকদম বাজার অথবা পান বাজার থেকে টমটম বা অটোরিকশা করে গেলে ১০-১৫ মিনিট সময় লাগবে তৈন খাল ব্রিজ পৌঁছাতে। এরপর স্থানীয় গাইডের সাহায্যে ১০-২০ মিনিট ঝিরির পথ ধরে হাঁটতে দেখা যাবে আলী সুড়ঙ্গ। এ আলী সুড়ঙ্গ দেখতে হাতে বেশি সময় নিয়েও যেতে হয় না। হাতে দুই ঘণ্টা সময় থাকলেই আলীকদম বাজার থেকে ঘুরে আসতে পারবেন। রুমা উপজেলার রহস্যময় বগালেক দেখতে গেলে কেওক্রাডং পাহাড়ও ঘুরে আসতে পারেন। গত ১ অক্টোবর থেকে পর্যটকদের জন্য কেওক্রাডং পাহাড় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। থানচি উপজেলার তমাতুঙ্গী, ডিম পাহাড়, তিন্দু বড় বড় পাথর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে এই শীতের মৌসুমে।

স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে বেড়িয়ে পড়েন, তাই সন্তানদের ছুটিকে ঘিরে পাহাড়, মেঘ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে বান্দরবান হবে দেশি পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য।

ছবি : লেখক


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা