× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শুষ্ক ত্বক ও চুলের যত্নে-

মাহবুবা মিতু

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৮ পিএম

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:০০ পিএম

 শুষ্ক ত্বক ও চুলের যত্নে-

শীতের চিঠি এসে পৌঁছেছে হেমন্তের ডাকবাক্সে। বাতাসে এখন হিম হিম ঘ্রাণ। ভোরের দিকে অনুভূত হচ্ছে হালকা হিমেল পরশ, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় শীত খুব কাছেই। শীতের আগমনী বার্তায় শরীর তেমন ঠান্ডা না হলেও ত্বক ও চুল ইতোমধ্যেই শুষ্ক হওয়া শুরু করেছে। দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যাও। এই মৌসুমে ত্বক ও চুলের যত্নে কী কী করণীয়, তা নিয়ে লিখেছেন মাহবুবা মিতু

ঋতু পরিবর্তন প্রকৃতিতে এনে দেয় সৌন্দর্যের নতুন ছোঁয়া, তবে ত্বক ও চুলের জন্য এ পরিবর্তন বয়ে আনে এক নীরব অস্বস্তি, যার নাম ‘শুষ্কতা’। বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক হারায় প্রাকৃতিক স্নিগ্ধতা আর চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ ও ভঙ্গুর। শারীরিক পরিবর্তনের এই ফিসফিসই শীতের প্রথম চিঠি। ঠোঁটে হালকা চিড়, চুলে জমে থাকা অদৃশ্য বিদ্যুতের টান, আয়নায় মুখের দিকে তাকালে দেখা যায় মলিনতা, চুলে জমে ধুলো আর বাড়ে খুশকির প্রকোপ।

গরম পানির গোসল, ঘরের শুকনো হাওয়া, হিটার বা ফ্যানের ব্যবহার সব মিলিয়ে ত্বক ও চুলের আর্দ্রতা টিকিয়ে রাখা হয়ে ওঠে কঠিন। তাই শীতের শুরু মানেই যত্নের নতুন রুটিন। আগেভাগে যত্ন শুরু করলে এই শুষ্কতার ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যায়, ত্বক ও চুল দুটোই থাকে নরম, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। তাই শীতকে উপভোগ করতে হলে শুধু গরম কাপড় নয়, দরকার ত্বক ও চুলের যত্নে একটু সময় বের করা। কারণ সুস্থ ত্বক ও ঝলমলে চুলই তো আত্মবিশ্বাসের আসল পরিচয়।

শীতের শুষ্কতায় শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে 

শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হলো ত্বক। এর ওপরই শুষ্কতার প্রভাব প্রথমে পড়ে, তার পর ধীরে ধীরে তা চুল, চোখ, ঠোঁটে ছড়িয়ে পড়ে।

ত্বকের পরিবর্তন 

বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত হারিয়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে টানটান, খসখসে, অনেক সময় চুলকানিও শুরু হয়। ঠোঁট ফেটে যায়, হাত-পায়ের ত্বক রুক্ষ হয়ে পড়ে, বিশেষ করে গোড়ালির চামড়া ফেটে রক্তও বের হতে পারে। গরম পানিতে গোসল বা হিটার ব্যবহার এই সমস্যা আরও বাড়ায়। যাদের ত্বক স্বাভাবিক-ভাবেই শুষ্ক, তারা সবচেয়ে বেশি ভোগেন এ সমস্যায়।

চুলের পরিবর্তন 

শীতকালে মাথার ত্বকও শুকিয়ে যায়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়, খুশকি বাড়ে, চুল ভেঙে যায়। অধিকাংশ মানুষ শীতে গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করেন, যা এর প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়। ফলে চুলের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়, হয়ে ওঠে নিস্তেজ ও প্রাণহীন। এ ছাড়া শীতের পোশাকের কারণে চুলে স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি তৈরি হয়, ফলে চুল উড়তে থাকে, জট বেঁধে যায়।

ঠোঁট, নাক ও চোখে পরিবর্তন 

ঠোঁটের চামড়া নরম ও সংবেদনশীল। শীতকালে তা দ্রুত শুকিয়ে ফেটে যায়। নাকের ভেতরও শুষ্কতা তৈরি হয়, অনেক সময় হালকা রক্ত পড়া বা জ্বালাভাব দেখা দেয়। বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে চোখের পানির স্তর শুকিয়ে যায়, ফলে জ্বালাভাব বা চুলকানি হয়। একে বলা হয় ‘ড্রাই আই সিনড্রোম’।

শ্বাস-প্রশ্বাস ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব

ঘরের শুষ্ক বাতাস নাক ও গলার শ্লেষ্মা শুকিয়ে দেয়, ফলে সর্দি, কাশি বা গলা খুসখুস বেড়ে যায়। শরীরে পানিশূন্যতা হলে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এমনকি মন-মেজাজও খিটখিটে হয়ে যায়। রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার ফলে দেখা যায় ত্বকের মলিনতা।

শুষ্কতা প্রতিরোধে ত্বক ও চুলের যত্ন 

শীতের আবহাওয়ার পরিবর্তনের দরুন শারীরিক এই প্রভাবগুলোকে বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সঠিক প্রস্তুতি নিলে ত্বক ও চুলকে রুক্ষতা, ফাটল ও খুশকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে এ সময়ে ত্বক ও চুলের যত্ন নেবেন। 

ত্বকের যত্ন 

ক্লিনজিং : শীতকালে ত্বক সংবেদনশীল হয়। অতিরিক্ত সাবান বা হার্শ ফেসওয়াশ ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলে। তাই ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজিং ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরা, দুধ, হানি যুক্ত ফর্মুলা এক্ষেত্রে ভালো। মুখ ধোয়ায় গরম পানি নয়, কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।

টোনিং : মুখ ধোয়ার পরবর্তী স্টেপ হচ্ছে টোনিং। টোনার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ময়েশ্চারাইজারের শোষণ বাড়ায়। ত্বকের যত্নে অ্যালকোহলমুক্ত টোনার ব্যবহার করুন (গোলাপ জল, ক্যামোমাইল, অ্যালোভেরা)। ঘরে তৈরি টোনারও ব্যবহার করতে পারেন, তা কেমিক্যালমুক্ত ও সাশ্রয়ী অপশন। 

ময়েশ্চারাইজিং : শীতের বাতাস যেন ত্বক থেকে পানি চুষে নেয়। আর্দ্রতা ৩০ শতাংশের নিচে নামলেই ত্বকের লিপিড ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে দেখা দেয় ফাটল, চুলকানি, লালচে ভাব। এই সময় ময়েশ্চারাইজার শুধু ক্রিম নয়, ত্বকের ঢাল। ত্বকের ধরন বুঝে ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হয়। শীতে ত্বকের হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, শিয়া বাটার বা ভিটামিন ‘ই’ যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুন। দিনে হালকা লোশন, রাতে নাইট ক্রিম। তা ছাড়া শীতে ময়েশ্চারাইজার একবার লাগালেই হবে না। নামাজের জন্য ওজু করার পর কিংবা কোনো কারণে মুখ ধোয়ার প্রয়োজন হলে প্রতিবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। গোসলের পর ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার সবচেয়ে কার্যকর, যা দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখে।

স্ক্রাব ও মাস্ক : শীতের শুষ্কতায় ত্বক ডেড সেলসের আস্তরণে ঢেকে যায়। ময়েশ্চারাইজার লাগালেও মৃতকোষগুলোর দরুন ক্রিম শোষণ ঠিকঠাক হয় না, ফলে ত্বক থাকে রুক্ষ। এখানেই স্ক্রাব ও মাস্কের ভূমিকা চমৎকার। স্ক্রাব এক্সফোলিয়েট করে মৃতকোষ তুলে নেয় আর মাস্ক দেয় ত্বকের গভীরে পুষ্টি। শীতে সপ্তাহে একবার স্ক্রাব, দুবার মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত এ যত্নে ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যকর, কোমল ও দীপ্তিময়। স্ক্রাবের ব্যবহার সপ্তাহে ২ দিনের বেশি নয়। অতিরিক্ত স্ক্রাবিং ত্বক রুক্ষ করে দিতে পারে।

সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা

শীতের আরামদায়ক মিষ্টি রোদে ক্ষতি নেই, এই ভুল ধারণা ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু। শীতে ইউভিবি রশ্মি কমলেও ইউভিএ সারা বছর সক্রিয় থাকে। শীতের আকাশ পরিষ্কার থাকলে ইউভিএ রশ্মি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত মেঘ ভেদ করে ত্বকে পৌঁছায়। এই রশ্মি কোলাজেন ভেঙে ত্বক ঝুলে যাওয়া, দাগ, এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শীতে সানস্ক্রিন শুধু সমুদ্রযাত্রায় নয়, প্রতিদিনের রুটিনে অপরিহার্য অনুষঙ্গ।

ঠোঁট, হাত ও পায়ের যত্ন 

শীতকালে আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণে ঠোঁট, হাত ও পা অতিরিক্ত রুক্ষ হয়ে যায় এবং ফাটার প্রবণতা বাড়ে। শীতকালে ঠোঁট, হাত ও পায়ের অতিরিক্ত শুষ্কতা মোকাবিলা করতে বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এই সময়ে ঠোঁটে নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি, মধু বা নারকেল তেল মিশ্রিত পুরু লিপ বাম ব্যবহার করুন এবং ঠোঁট জিভ দিয়ে চাটা থেকে বিরত থাকুন। হাতের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত গরম জল এড়িয়ে উষ্ণ জল ব্যবহার করুন এবং প্রতিবার হাত ধোয়ার পর বা ঘরোয়া কাজের শেষে গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশ্রিত ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে হাত ও পায়ে অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল হালকা গরম করে ম্যাসাজ করুন এবং পা ফাটা রোধ করতে গোড়ালিতে ফুট ক্রিম বা ভ্যাসলিন পুরু করে লাগিয়ে সুতির মোজা পরে নিন। এ ছাড়া সপ্তাহে একবার চিনি-তেলের মিশ্রণ দিয়ে হাত-পা স্ক্রাব করে মৃতকোষ তুলে ফেললে ত্বকের কোমলতা বজায় থাকবে।

খাদ্যাভ্যাস ও পানি

শীতের শুষ্কতা শুধু বাইরে থেকে আসে না, ভেতর থেকেও ত্বককে ক্ষয় করে। কমে যাওয়া আর্দ্রতা আর হিটারের গরম বাতাসের সঙ্গে যোগ হয় পানি কম খাওয়া। ফলে ত্বকের কোষগুলো পানিশূন্য হয়ে খসখসে হয়। ত্বকের ৬৪ শতাংশ পানি; দিনে মাত্র ৫ শতাংশ কমলেই ইলাস্টিন ভেঙে ফাটল ধরে। তাই শীতে পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, ত্বকের প্রথম ময়েশ্চারাইজারও এটি। তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস (২.৫-৩ লিটার) পানি পান করুন। শীতে ঠান্ডা পানি পান করতে ইচ্ছে না করলে হালকা গরম পানিতে লেবু, আদা বা দারুচিনি মিশিয়ে নিন, এতে ভিটামিন ‘সি’, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইনটেক হয়। চা-কফি বেশি হলে ডিহাইড্রেশন বাড়ে, তাই প্রতি কাপ চায়ের বদলে এক গ্লাস পানি যোগ করুন। খাদ্য তালিকায় রাখুন বাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, মাছ, চিয়া সিড, কমলা, লেবু, শীতকালীন রঙিন শাকসবজি।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন 

ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে গেলে ফাটল ধরে বা রক্ত পড়ে। ত্বকে লাল ভাব, র‍্যাশ, ফোসকা দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে। ত্বকে সংক্রমণ বা প্রদাহ (ফোলা, ব্যথা, পুঁজ) দেখা দিতে পারে। সমস্যা যদি বাড়তে থাকে তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়। 

চুলের যত্ন

শীতের শুষ্ক বাতাস চুলের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়। ফলে স্ক্যাল্পে খুশকি জমে, চুল ভেঙে যায়, স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি বেড়ে চুল উড়তে থাকে। হিটারের গরম বাতাস আর গরম পানি দিয়ে গোসল আরও ক্ষতি করে। তাই শীতের আগে থেকে চুলের যত্নে বিশেষ রুটিন শুরু করুন। 

তেল ম্যাসাজ 

চুলের নব জীবন ফেরাতে পারে স্ক্যাল্পে তেলের ম্যাসাজ। রাতে আর্গান বা জোজোবা তেল গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন, এগুলো ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে স্ক্যাল্পের ব্যারিয়ার মজবুত করে। সকালে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি হলে টি-ট্রি অয়েল ২ ফোঁটা অ্যালোভেরা জেলে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান, এটি অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে চমৎকার কাজ করে। সপ্তাহে একবার অ্যাপল সাইডার ভিনেগার রিন্স (১ অংশ ভিনেগার : ৪ অংশ পানি) পিএইচ ব্যালান্স করে খুশকি কমায়, চুল চকচকে হয়। সপ্তাহে দু-তিনবার গরম তেল ম্যাসাজ করলে উপকার পাওয়া যাবে। 

শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার

চুল পরিষ্কারে ব্যবহার করুন সালফেটমুক্ত মাইল্ড শ্যাম্পু। প্রতিবার চুল ধোয়ার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে এক দিন ডিপ কন্ডিশনিং করুন। 

ঘরোয়া চুলের প্যাক

শীতের শুষ্কতায় চুল খড়ের মতো হয়ে যায়, ফলে ভেঙে পড়ে, খুশকি ধরে। বাজারের প্যাকের পরিবর্তে রান্নাঘরের উপাদান দিয়ে অল্প খরচে ঘরোয়া প্যাক বানালে সেটি নিরাপদও হবে, ফলাফল পাওয়া যাবে দ্রুত। চুলকে শক্ত ও উজ্জ্বল করতে ডিম, টকদই আর অলিভ অয়েলের প্যাক ব্যবহার করুন। কলা আর নারকেল দুধ দিয়ে তৈরি প্যাক ভেঙে যাওয়া চুল প্রতিরোধে সহায়ক। চুলের খুশকি ও রুক্ষতা কমাতে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল আর নারকেল তেলের প্যাক। 

খাদ্যাভ্যাস 

খাদ্যাভ্যাসও চুল বাঁচায়, খাদ্য তালিকায় ওমেগা-৩ (ইলিশ, স্যামন, আখরোট, চিয়া সিড) স্ক্যাল্পের তেল উৎপাদন বাড়ায়, প্রোটিন (ডিম, ডাল, পনির) চুলের কেরাটিন মজবুত করে, বায়োটিন (ডিমের কুসুম, বাদাম) চুল পড়া কমায়। আয়রন (পালং, খেজুর) স্ক্যাল্পে অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই খাদ্যাভ্যাসে আনুন পরিবর্তন। 

অতিরিক্ত যত্ন 

১. গরম হেয়ার ড্রায়ার/স্ট্রেইটনার এড়িয়ে চলুন।

২. সাটিন বালিশ বা সিল্ক স্কার্ফ ব্যবহার করুন।

৩. বাইরে বের হলে হালকা হেয়ার সিরাম লাগিয়ে নিন।

নিজের যত্ন 

শীতের আগে ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি নিজের যত্নও নিতে হবে নিয়মিত। নিয়মিত পানি পান, ঘুমানো, ভিটামিন ‘ডি’ শরীরে প্রবেশ করানো জরুরি। নিজের যত্নে যা যা করবেনÑ

পরিমিত ঘুমান 

শীতের ওমে ঘুম সহজে ভাঙতে চায় না আরও একটু বেশি সময় ঘুমাতে ইচ্ছা করে। তবে ঘুম একবারে বেশি বা কম কোনোটাই ভালো নয়। পরিমিত ঘুম অর্থাৎ ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমালেই যথেষ্ট। ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন, এতে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা সহজ হবে। 

হাইড্রেটেড থাকুন 

শরীরে ঠান্ডা লাগলে হাইড্রেশনের কথা ভুলে যাই অনেকেই, তবে শীতকালে ডিহাইড্রেশন একটি সমস্যা। শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে ত্বকও শুষ্ক হয়ে যায়, যার ফলে ক্লান্ত ও পানিশূন্য বোধ হতে পারে। সারা দিন প্রচুর পানি পান করুন। নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে পানি ও হালকা গরম ভেষজ চা পান করতে পারেন। 

ভিটামিন ‘ডি’ গ্রহণ করুন 

সূর্যের আলোর অভাবেও যে আমরা ক্লান্ত হতে পারি, এটা অনেকেই বুঝতে পারি না। শীত আসার আগে এ সময়টায় ভিটামিন ‘ডি’র মাত্রা কম থাকার কারণে তা মেজাজকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি সম্ভব হয়, তাহলে দিনের বেলায় কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট বাইরে থাকার চেষ্টা করুন, যাতে প্রাকৃতিক সূর্যালোক পাওয়া যায়। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে ভিটামিন ‘ডি’ সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে। 

শীতের আগমন মানেই যে ত্বক বা চুলের সৌন্দর্য ম্লান হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। মনে রাখবেন, শীতের আগে আমাদের শরীরে যে শুষ্কতার বার্তা আসে, তা হলো রুটিনে পরিবর্তনের সংকেত। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে আপনি আপনার ত্বক ও চুলকে রাখতে পারেন সজীব, কোমল ও উজ্জ্বল। বাইরের আবহাওয়া যতই ঠান্ডা হোক না কেন, সঠিক পরিচর্যা এবং এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলোর মাধ্যমে আপনার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য থাকবে অটুট, সৌন্দর্য থাকবে প্রাণবন্ত ও ঝলমলে।

মডেল :  শিরিন শীলা, ছোঁয়া, নিকিতা

অলিভা, সুমাইয়া 

ছবি : মঞ্জু আলম 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা