লাবিবা ইরম
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:০২ পিএম
চাকরির ইন্টারভিউ শুধুই আপনার সিভির ওপর নির্ভর করে না, বরং আপনি কোন কথায় কীভাবে উত্তর দিচ্ছেন, আপনার চলাফেরা সব মিলিয়ে আপনি কনফিডেন্ট কি না, কাজের প্রতি আপনার মনোভাব কেমনÑ তার সবই দক্ষ চোখে নিরীক্ষণ করে দেখেন পরীক্ষকরা। তাই একটি চাকরির ইন্টারভিউ যেমন আপনার চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে, তেমনই চাকরি পাওয়ার পরবর্তীতে অফিসে আপনার মূল্যায়নে সাহায্যও করে। চলুন জেনে নিই চাকরির ইন্টারভিউ থাকলে কীভাবে সব সামলে নেবেন।
ইন্টারভিউয়ের আগে
চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি পর্যায় আছে। ইন্টারভিউ দেওয়ার আগের প্রস্তুতি, ইন্টারভিউ দেওয়া এবং দেওয়ার পরের করণীয়। প্রথমেই জেনে নিই ইন্টারভিউ দেওয়ার আগে কী কী করবেন।
সংস্থা ও নিজের পজিশন নিয়ে রিসার্চ করা
ইন্টারভিউয়ের প্রথম প্রস্তুতি হলো যে সংস্থায় চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিতে যাবেন সেই সংস্থা নিয়ে যতটা সম্ভব তথ্য জোগাড় করা, সঠিক রিসার্চ করা। তারা কেমন প্রতিষ্ঠান, কী নিয়ে কাজ করছে ইত্যাদি জানা জরুরি। এর সঙ্গে সঙ্গে আপনি যে পজিশনে চাকরি করতে চাচ্ছেন সে পজিশনের দায়িত্ব কী, কোন কোন দিক আপনার খেয়াল রাখতে হবেÑ এসবও ভালো করে জেনে নেবেন।

সাধারণ প্রশ্নের জন্য নিজেকে তৈরি করুন
বেশিরভাগ ইন্টারভিউতে কিছু সাধারণ প্রশ্ন থাকেÑ যেমন আপনার পরিচয় দিন, আপনি নিজেকে নিয়ে কী ভাবেন, এই পজিশনে আপনি জয়েন করলে কোম্পানির কী লাভ হবে, এই পজিশনে আপনার দায়িত্ব আপনি জানেন কি না, চাকরিরত অবস্থায় থাকলে কেন পাল্টাতে চাচ্ছেন ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। প্রয়োজন হলে উত্তরগুলো লিখে কয়েকবার করে পড়ে মাথায় রাখুন।
উপযুক্ত পোশাক বাছাই করুন
ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় বিষয় হলো নিজেকে উপস্থাপন। শুধু কথা আর ভারী সিভি নয়, বরং পোশাক, চালচলনÑ এর সবই ইন্টারভিউয়ে খেয়াল করা হয়। তাই পরিবেশ বুঝে পোশাক বাছাই করুন। পরিষ্কার ও গোছানোভাবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য সব জিনিস তৈরি করে রাখুন। শুধু কথা বা সিভিতে নয় বরং গেটাপেও আনুন স্মার্টনেস।
নিজের ভেতর কনফিডেন্স আনুন
ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগের প্রস্তুতির মাঝে আরেকটি খুব জরুরি স্টেপ হলো কনফিডেন্ট হওয়া। আপনি যদি কনফিডেন্ট হন তাহলে যুদ্ধ অর্ধেক জয় করে ফেলেছেন। কারণ কোনো কোম্পানিই চায় না মানসিকভাবে দুর্বল বা নিজের ওপর বিশ্বাস নেই এমন এমপ্লয়ি নিতে। তাই নিজেকে বোঝান, গ্রুমিং করুন এবং কনফিডেন্ট হোন।
ইন্টারভিউয়ের সময়
এবার আসা যাক ইন্টারভিউয়ের সময় কী করবেন তা নিয়ে। ইন্টারভিউয়ের সময় সবচেয়ে জরুরি হলো কনফিডেন্ট থাকা, নার্ভাস না হওয়া। এ ছাড়াও যেসব করবেনÑ
যথাসময়ে পৌঁছান
সময়ানুবর্তিতা একটি বড় গুণ, যা প্রত্যেকটা কোম্পানি তার কর্মীর মাঝে দেখতে চায়। তাই অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে রাস্তায় বের হন। সম্ভব হলে আগে গিয়ে পৌঁছান। ইন্টারভিউতে দেরি করে পৌঁছলে শুরুতেই আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা হতে পারে কোম্পানির।
ইন্টারভিউ চলাকালীন আদবকেতা মেনে চলা
ঢুকেই সালাম দেওয়া, বসতে বললে বসা, ইন্টারভিউ শেষে ধন্যবাদ বা বিদায় জানানোÑ এ ধরনের আদবকেতা মেনে চলা উচিত। এতে আপনার আচার-ব্যবহারের মার্জিতভাব প্রকাশ পায়। এ ছাড়াও উত্তর দেওয়ার আগে প্রশ্ন ভালোভাবে শোনা, কথা শেষ হলে কথা বলা, কোনো প্রশ্ন বুঝতে না পারলে বিনয়ীভাবে জিজ্ঞেস করা উচিত। এতে আপনার সম্পর্কে পরীক্ষকদের ভালো ধারণা হবে।
ইন্টারভিউয়ের পরে
ইন্টারভিউয়ের পরে আপনার করণীয় অল্পকিছু কাজ আছে। সেগুলো হলো :
ফলোআপের জন্য মেইল করা
যদি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে কোম্পানি থেকে নেগেটিভ বা পজিটিভ কোনো মেইল না আসে, তবে একটি ফরমাল মেইল ফিডব্যাক জানার জন্য করা যেতে পারে।
হতাশ না হওয়া
একটি ইন্টারভিউই আপনার জীবনের সব না। একটিতে যদি সফল না হন তবে নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করুন। খুঁজে বের করুন আপনার কোথায় দুর্বলতা আছে, আগের ইন্টারভিউতে আপনার কোথায় ভুল ছিল। এগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন প্রতিটি বিফলতাই একেকটা অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
আরও কিছু পরামর্শ
বাংলাদেশি কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে কখনও কখনও আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ছাড়াও যোগাযোগ-দক্ষতা বা সাফল্যের গল্প বেশি গুরুত্ব পায়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকুন। অনলাইন/ভিডিও ইন্টারভিউয়ের সময় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিন যেমনÑ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ, পরিষ্কার ক্যামেরা, ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড এসব রেডি রাখা।
ড্রেস কোড কোম্পানিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। করপোরেট অফিস হলে অফিসিয়াল পোশাক; মিডল-লেভেল বা রিমোট হলে একটু ক্যাজুয়াল কিন্তু মার্জিত পোশাক বাছাই করুন।