আফসানা মিমি
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৫৫ পিএম
ঢাকা মানেই শুধু ব্যস্ততা নয়, এখানে লুকিয়ে আছে অসংখ্য খাবারের স্বাদের গল্প। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে মুখরোচক স্ট্রিট ফুডের স্বর্গরাজ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঢাকার কিছু বিখ্যাত জায়গা সম্পর্কে, যেখানে গেলে খালি পেটে ফেরা একেবারেই সম্ভব নয়।
নীলক্ষেত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার প্রাণকেন্দ্র নীলক্ষেত শুধু বইয়ের দোকান নয়, খাবার প্রেমীদেরও প্রিয় জায়গা। এখানে পাবেন গরম গরম ফুচকা, ঝালমুড়ি, দই-চটপটি আর বিকেলে টক-মিষ্টি লাচ্ছি। বিশেষ করে ‘ফুচকা আপা’ বা ‘মুরগির চটপটির দোকান’ নামেই এখানে কিছু জায়গা বেশ বিখ্যাত।
চাঁদনি চক ও নিউমার্কেট
নিউমার্কেটের গলিগুলোয় হাঁটলেই নাকে ভেসে আসবে কাবাব, শিক-কাবাব আর পরোটা ভাজার গন্ধ। এখানে ‘বুখারী কাবাব হাউস’ বা ‘আলমাস হোটেল’-এর মতো পুরনো দোকানে সন্ধ্যার পর জমে যায় ভোজনরসিকদের ভিড়। যারা হালকা কিছু চান, তাদের জন্য আছে ঝালমুড়ি, ভাজাপোড়া, পাপড় বা ঠান্ডা লাচ্ছি।
ধানমন্ডি লেক
ধানমন্ডির লেকের পাশে এখন তরুণদের আড্ডা মানেই স্ট্রিট ফুড। এখানে পাবেন থাই রোল, মোমো, চিকেন শাওয়ারমা, ফ্রাইড চিংড়ি, এমনকি নানা ফ্লেভারের আইসক্রিমও। লেকের বাতাস আর খাবারের গন্ধÑ দুটোর মিশেলে এখানকার সন্ধ্যা হয়ে ওঠে অন্যরকম।
মোহাম্মদপুর টাউন হল
মোহাম্মদপুরের টাউন হল এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই সারি সারি খাবারের দোকানের দেখা মেলে। তেলে ভাজা নানা খাবার, হালিম, চিকেন রোল, পরোটা-কাবাবÑ সবই পাওয়া যায় একসঙ্গে। এখানকার ‘বনানী বিরিয়ানি ঘর’ বা ‘কাবাব কর্নার’-এর মতো দোকানগুলোর নাম মুখে মুখে ফেরে।
পুরান ঢাকা
ঢাকার আসল স্বাদ যদি কোথাও মেলে, তা হলো পুরান ঢাকা। চকবাজার, নবাবপুর, লালবাগÑ যেখানেই যান, পাবেন ঐতিহ্যবাহী খাবারের ভান্ডার। ইফতারের সময় চকবাজারে কাবাব, বোরহানী, বুট-ছোলা আর হালুয়া-পরোটার গন্ধে চারদিক ভরে যায়। আবার সারা বছর পাওয়া যায় বিখ্যাত ‘হাজী বিরিয়ানি’, ‘আল রাযাক’ বা ‘নাসির ভাইয়ের কাবাব’। মিষ্টিপ্রেমীদের জন্য আছে ‘সেনবাগের জিলাপি’ বা ‘শাহী লাচ্ছি’।
গুলশান-বনানী
গুলশান লেকের পাশে কিংবা বনানীর ১১ নম্বর রোডে এখন নানা রকম স্ট্রিট ফুড ট্রাক ও ছোট ক্যাফে। এখানে টাকো, হটডগ, কোরিয়ান ফ্রাইড চিকেন বা সুশি রোলের মতো আধুনিক স্বাদের পাশাপাশি পাওয়া যায় ক্লাসিক ফুচকা আর আইসড টি।
ঢাকা শহর যেন এক বিশাল খাবার মানচিত্রÑ যেখানে প্রতিটি মোড়, প্রতিটি গলি আলাদা স্বাদের গল্প বলে। তাই পরেরবার সন্ধ্যায় একটু সময় নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, হয়তো কোনো অচেনা গলিতে খুঁজে পাবেন আপনার নতুন প্রিয় খাবার।