মাহবুবা মিতু
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৫:৫৩ পিএম
দিনের শুরু হোক বা শেষÑ দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা যেমনÑ ক্যাভিটি, মাড়ির রোগ এবং দুর্গন্ধ প্রতিরোধে দাঁত ব্রাশের ভূমিকা অনেক। দাঁতের সুস্থতা মানে শুধু নিয়মিত ব্রাশ করা নয়, বরং সঠিক ব্রাশ ব্যবহার, নিয়ম করে ব্রাশ পরিবর্তন ও পরিষ্কার রাখার অভ্যাসও এর অংশ। চলুন জেনে নেই দাঁত ব্রাশের যত্ন নেওয়ার মূল বিষয়গুলো যা আপনার দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক হবে।
সঠিক ব্রাশ নির্বাচন
দাঁত ব্রাশের যত্নআত্তির প্রথম ধাপ হলো সঠিক টুথব্রাশ বেছে নেওয়া। ব্রাশের ক্ষেত্রে নরম ব্রিসেলযুক্ত টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত, কারণ শক্ত ব্রিসেল মাড়িকে আঘাত করতে পারে, এতে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। ব্রাশের মাথা ছোট হলে মুখের প্রতিটি কোণায়, বিশেষ করে পিছনের দাঁত পর্যন্ত, সহজে পৌঁছানো যায়।
সঠিক ব্রাশিং কৌশল
দাঁত ব্রাশ করার সঠিক কৌশল মৌখিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি। দিনে দুবার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রাশ করা উচিত। ব্রাশ করার সময় দাঁতের প্রতিটি অংশ ভেতরের, বাইরের এবং ওপরের দিক পরিষ্কার করতে হবে। তবে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি মাড়ির ক্ষতি করতে পারে। ব্রাশটি ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে ছোট, বৃত্তাকার গতিতে ব্রাশ করলে ভালো। জিহ্বা এবং মাড়ির লাইনও পরিষ্কার করতে ভুলবেন না, কারণ এখানেই ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে।

টুথপেস্ট নির্বাচন
দাঁত ব্রাশের জন্য ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন, কারণ এটি দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। দাঁতের সংবেদনশীলতা বা মাড়ির সমস্যা থাকলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিয়ে বিশেষ টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
ব্রাশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
টুথব্রাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা তার কার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার ব্রাশ করার পর টুথব্রাশটি পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, যাতে টুথপেস্টের অবশিষ্টাংশ বা খাদ্য কণা না থাকে। ধোয়ার পর ব্রাশটি খোলা জায়গায় দাঁড় করিয়ে শুকাতে দিন। আর্দ্র পরিবেশে ব্রাশ রাখলে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক বাড়তে পারে। তাই ব্রাশটি কখনও বন্ধ কভারে বা টুথপেস্টের টিউবে রাখবেন না। সপ্তাহে একবার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াস দিয়ে ব্রাশ ধুয়ে নিতে পারেন। এ ছাড়া বাথরুমে স্যানিটাইজার স্প্রে ব্যবহার করে ব্রাশের জীবাণু দূর করা যায়। এই পদ্ধতিগুলো ব্রাশকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ
টুথব্রাশের নিয়মিত পরিবর্তন এবং রক্ষণাবেক্ষণ মৌখিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক। প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর বা ব্রিসেল ছড়িয়ে গেলে ব্রাশ পরিবর্তন করুন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিসেল দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁত এবং মাড়ির ক্ষতি হতে পারে। অসুস্থতার সময় যেমনÑ সর্দি-কাশি বা ফ্লু, ব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত, কারণ পুরনো ব্রাশে জীবাণু থাকতে পারে। ইলেকট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহারকারীদের ব্রাশের হেড নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত এবং চার্জার ও হ্যান্ডেল পরিষ্কার রাখতে হবে। ব্রাশটি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি জীবাণু ছড়াতে পারে।
খাদ্যাভ্যাস
চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় যেমনÑ চকলেট, সফট ড্রিংকস বা মিষ্টি দাঁতের ক্ষয় দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাই এসব খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো। খাওয়ার পর মুখে অবশিষ্ট খাবার ও এসিড দূর করতে পানি দিয়ে ভালোভাবে কুলি করুন। তবে খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করা উচিত নয় বিশেষ করে অ্যাসিডিক খাবার যেমনÑ লেবু, টক ফল বা কোমল পানীয় গ্রহণের পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ করুন। এতে দাঁতের এনামেল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
সতর্কতা
দাঁত ব্রাশের যত্নের পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত সতর্কতা মৌখিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। যেমনÑ
- খাবারের পর মুখ ধুয়ে নিন, বিশেষ করে অ্যাসিডযুক্ত বা চিনিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর।
- দাঁতের মাঝে জমে থাকা খাদ্য কণা অপসারণের জন্য প্রতিদিন ফ্লসিং করুন।
- নিয়ম করে মাউথওয়াস ব্যবহার করুন এতে মুখের ব্যাকটেরিয়া কমে এবং দুর্গন্ধ দূর হয়।
- প্রতি ছয় মাস অন্তর ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপ করান, যাতে দাঁত এবং ব্রাশের অবস্থা যাচাই করা যায়।
- শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিন, তাদের ব্রাশ শেয়ার করবেন না এবং ব্রাশ করার সময় ধৈর্যের সঙ্গে তত্ত্বাবধান করুন। শিশুদের জন্য নরম এবং ছোট ব্রাশ বেছে নিন।