শাকিব হুসাইন
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৭:১৬ পিএম
আঁকা : মেহেরুন্নিসা, সপ্তম শ্রেণি, রানী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকছড়ি, খাগড়াছড়ি
‘জিলপিন মামা এসেছে। ঢাকায়। তুতুনদের বাসায়। সঙ্গে এনেছে জিলিপি। প্যাঁচ মার্কা! গোলগাল!
‘শুধু কি জিলিপি?
মিষ্টি, সন্দেশ আরও কত্ত কিছু।
‘আর কী এনেছে জানো?’
‘বলছি বাপু বলছি।’
এনেছে ঢের গল্প। উঁহু! গল্পের ঝুড়ি। ভেতরে থোকা থোকা গল্প। সেখান থেকে গল্প বের হবে। টুপ করে। জিলপিন মামা গল্প বলবে। তুতুন বসে বসে শুনবে।
তাই হলো। রাতে খেয়েদেয়ে তুতুন এলো। জিলপিন মামার কাছে। বায়না ধরল গল্প শুনবে। তুতুন আবার নাছোড়বান্দা। গল্প শোনাতেই হবে। বয়েস মাত্র পাঁচের ঘরে যে, তাই!
‘জিলপিন মামার ঠোঁটের কোণে হাসি।
‘একটুখানি হেসে বলল, তুতুন বুড়িটা কী গল্প শুনবে, শুনি?
‘তুতুনও চটপট করে বলল, প্রিন্সেস, প্রিন্সেস।
‘ওহ, রাজকুমারীর গল্প বুঝি?’
‘হুম, হুম। রাজকুমারী, রাজকুমারী।’
‘আচ্ছা বাবা বলছি। তুমি মন দিয়ে শুনবে কেমন!’
‘ওকে ওকে।’
‘এক দেশে ছিল এক রাজকুমারী। রাজকুমারী জুলিয়া। ঠিক তোমার মতো ছোট্ট।’
‘আমার মতো!’ তুতুনের চোখেমুখে বিস্ময়।
‘তা আর বলতে। ঠিক তোমার মতো। গাছ ছিল জুলিয়ার খুব প্রিয়। জুলিয়া গাছ লাগাত। ছোট ছোট গাছ। ফুলের। ফলের। গাছ লাগাতে লাগাতে তৈরি করে ফেলল একটি বাগান।’
‘সত্যি মামা?’
‘হুম, সত্যি। সবুজ সবুজ গাছের বাগান।’
‘কত্ত বড় বাগান মামা?’
‘অত্ত বড় না। ছোট্টমোট্ট। এই যে তোমাদের বাসার ছাদের মতো।’
‘ওহ্, তারপর কী হলো?’
‘জুলিয়া নিয়মিত যেত বাগানে। পানি দিত গাছের গোড়ায়। পাতায় দিত। গোসল করিয়ে দিত গাছেদের। গাছেরাও ইচ্ছেমতো পানি খেত। গোসলও করত হেলেদুলে। আর তড়তড় করে বাড়তে লাগল।’
‘গাছেরাও আবার খেত বুঝি!’
‘খাবেই তো। ওদেরও যে জীবন আছে। ওরা নাচতে জানে। হেলতে জানে। দুলতে জানে। হেলেদুলে নাচুনে একেকটা। শুধু চলাফেরাটাই করতে পারে না। ওরাও আমাদের মতো। বুঝলে তুতুন বুড়ি?’
‘খুব বুঝেছি। তাপ্পর কী হলো?’
‘তারপর গাছেদের ফুল এলো। বাগানটা ফুলের গন্ধে ভরে উঠল। দেশ-বিদেশ থেকে মৌমাছি এলো। রঙবেরঙের প্রজাপতি এলো। জুলিয়ার সঙ্গে খুব করে গল্প করতে। জুলিয়া সবার সঙ্গে গল্প করে দিন কাটাত। আর হ্যাঁ, এখানেই আমার গল্প ফুরাল।
‘মামা, মামা আমিও বাগান করব। মৌমাছির সঙ্গে গল্প করব। প্রজাপতির সঙ্গে গল্প করব।’
‘বাহ্ তুতুন বুড়ি বাহ্! চলো চলো বাগান করি।’
‘কিন্তু মামা মাটি কোথায়। এখানে যে বিল্ডিং আর বিল্ডিং।’
‘তাই তো। তাই তো। আমাকে ভাবতে দেও তুতুন বুড়ি। ইউরেকা ইউরেকা! পেয়েছি পেয়েছি।’
‘কী পেলে মামা?’
‘বাগান করার জায়গা।’
‘কোথায়? কোথায়?’
‘ছাদে। তোদের ছাদে।’
‘ছাদে কি মৌমাছি, প্রজাপতি আসবে?’
‘আসবে। আসবে।’
খুব সক্কালেই তুতুন চলল গাছ কিনতে। জিলপিন মামার সঙ্গে। তুতুন করবে বাগান। ছাদবাগান।