সারাফ ওয়াসিমা জিশান
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:০৭ পিএম
প্রতি মাসে নারীর শরীরে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় পিরিয়ড হয়। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও অনেক নারীর জন্য এটা খুবই কষ্টের মুহূর্ত। শারীরিক অস্বস্তি, হরমোনের ওঠানামা, হালকা থেকে তীব্র ব্যথা ও ক্লান্তিতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এ সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে অস্বস্তি অনেকটাই কমানো যায়, শরীরও দ্রুত শক্তি ফিরে পায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক এ সময় যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা উচিত সে সম্পর্কে।
আয়রন : হারানো রক্তের ঘাটতি পূরণ
পিরিয়ডের সময় শরীরে কিছুটা রক্তক্ষরণ হয়, যার ফলে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ কারণে দেখা দেয় ক্লান্তি, মাথা ঘোরানো কিংবা দুর্বলতা। তাই খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে আয়রন-সমৃদ্ধ খাবার। মুরগির কলিজা, ডাল, ছোলা, মসুর ডাল, পালংশাক ও কুমড়ার বীজ (পাম্পকিন সীডস) আয়রনের ভালো উৎস। এগুলোর সঙ্গে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার, যেমনÑ লেবু, কমলা, পেয়ারা ইত্যাদি খেলে আয়রন শরীরে দ্রুত শোষিত হয়।

ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম : ক্র্যাম্প কমানোর সঙ্গী
পিরিয়ডের সময় অনেকেই পেট ও কোমরে ক্র্যাম্প বা পেশির টান অনুভব করেন। ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম এই সমস্যা লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখে। খাদ্য তালিকায় কাঠবাদাম, কাজুবাদাম এবং ডার্ক চকলেট রাখা যেতে পারে। ডার্ক চকলেট শুধু পুষ্টিই প্রদান করে না, মনও ভালো করে; যা এ সময়ে বিশেষ প্রয়োজন।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড : প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে সহায়ক
প্রদাহ কমাতে এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় ওমেগা-৩ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্যালমন, সার্ডিনের মতো মাছ, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড ও আখরোট নিয়মিত খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
হাইড্রেশন : পর্যাপ্ত পানি পান
পিরিয়ড চলাকালে শরীরে পানি জমে ফুলে যাওয়া বা ব্লোটিং সাধারণ সমস্যা। অনেকে মনে করেন পানি কম খেলেই ব্লোটিং কমে যাবে, কিন্তু বাস্তবে পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর অতিরিক্ত পানি জমতে দেয় না। দিনে অন্তত পক্ষে আট গ্লাস পানি পান জরুরি। চাইলে হারবাল চা, যেমন- আদা চা বা ক্যামোমাইল চা খাওয়া যেতে পারে, যা ব্যথা ও অস্বস্তি কিছুটা প্রশমিত করে।
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট : দীর্ঘস্থায়ী শক্তির উৎস
পিরিয়ডের সময় দ্রুত শক্তি হারিয়ে ফেললে মনোযোগ ও কাজের গতি কমে যায়। হোলগ্রেইন রুটি, রাগী রুটি, রোল্ড ওটস, ব্রাউন রাইস বা কিনোয়া খেলে শক্তি ধীরে ধীরে সরবরাহ হয় এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কমে যায়।
যা এড়িয়ে চলবেন
এ সময়ে অতিরিক্ত লবণ খাবেন না, কারণ এটি ব্লোটিং বাড়ায়। ক্যাফেইন যুক্ত কফি বা চা থেকে আসা ক্যাফেইন অতিরিক্ত খেলে রক্তনালি সংকুচিত হয়, ফলে ক্র্যাম্প বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত চিনি খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা তীব্র হয়, যা মুড সুইং বাড়াতে পারে। তাই মিষ্টি খাবার কমিয়ে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়াই ভালো।
খাওয়ার ধরনে পরিবর্তন
পিরিয়ডের সময় বড় বড় মিলের পরিবর্তে দিনে চার থেকে পাঁচবার অল্প অল্প করে খাওয়া উপকারী। এতে হজম সহজ হয়, গ্যাসের সমস্যা কমে এবং শক্তি ধরে রাখা যায়।
মন ও শরীরের যত্ন
পিরিয়ড শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও প্রভাব ফেলে। তাই এ সময়ে খাদ্যের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং এবং মানসিক প্রশান্তি জরুরি। খাবারের মধ্যে অল্প ডার্ক চকলেট বা এক কাপ গরম স্যুপ মন ভালো করতে সাহায্য করে।
পিরিয়ড নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক চক্র। এটিকে ভয় বা বিরক্তির বিষয় না ভেবে নিজের যত্ন নেওয়ার সময় হিসেবে দেখলে জীবন অনেক সহজ হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেবল অস্বস্তি কমায় না, দীর্ঘমেয়াদে নারীর স্বাস্থ্যও রক্ষা করে। তাই নিজের শরীরের ভাষা শুনুন, তার প্রয়োজন মেনে খাওয়াদাওয়া করাই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ।