লাবিবা ইরম
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৭ পিএম
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০১:০৬ এএম
শিশুরা সাধারণত সব সময়ই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে। বর্তমানে মায়েরা কাজে ব্যস্ত থাকলে শিশুকে সঠিকভাবে সময় দিতে পারেন না, সেসময় মোবাইল বা টিভিতে কার্টুন বা বাচ্চাদের পছন্দের জিনিস দিয়ে ব্যস্ত রাখেন। এর বেশ কিছু ক্ষতিকর প্রভাব বোঝা যায় পরে। যেমন- বাচ্চা দেরিতে কথা বলছে, মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না, বাচ্চা মানুষের সঙ্গে চলাফেরা বা মেলামেশা করতে পারছে না। স্ক্রিনটাইম বাদ দিয়ে বাচ্চাদের তাদের বয়স অনুযায়ী নানারকম অ্যাক্টিভিটিতে ব্যস্ত রাখতে পারলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। বাচ্চাদের নানা কাজে ব্যস্ত রাখার কয়েকটি উপায় সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ছবি আঁকা
বাচ্চারা বসা শিখে কলম বা পেনসিল ধরে দাগ দেওয়ার মতো হলেই তাকে কাগজ, রঙ-পেনসিল দিয়ে বসিয়ে দিতে পারেন। আঁকাআঁকি করতে বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। আরেকটু বড় হলে বিভিন্ন ধরনে রঙ এবং নানারকম কাগজ দিতে পারেন। এতে তারা তাদের কল্পনার জগৎকে কাগজে তুলে ধরতে পারে। এভাবে বাচ্চাদের সৃজনশীলতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনই তারা কর্মব্যস্তও থাকে।
ক্রাফটিং
ক্রাফটিং বাচ্চাদের আরেকটি পছন্দের কাজ। ক্রাফটিংযের নানারকম প্রকারভেদ আছে। হতে পারে কাগজ ভাঁজ করে বা কেটে কিছু বানানো। প্লে ডো বা খেলার ক্লে, কার্ডবোর্ড অথবা হাতের কাছে থাকা ফেলনা জিনিস জুড়ে দিয়ে নানান জিনিস বানানো শেখান বাচ্চাকে। এতে বাচ্চার সৃজনশীলতা ও মেধার যেমন বিকাশ হবে, তেমনই বাচ্চারা মোবাইল বা টিভি স্ক্রিনের দিকে আকর্ষিত হবে কম।

নিজেরাই বানিয়ে নিন খেলনা
বাইরে থেকে কেনা নানা খেলনা বাচ্চাদের মজা দিলেও নিজেরা বানিয়ে নিতে পারেন এমন খেলনা বাচ্চাদের আরও অনেক বেশি আনন্দ দেয়। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে নানা খেলনা যেমনÑ বিভিন্ন রকম পাজল, শব্দখেলা, লুডুর ছক, ছোট ছোট খেলনা গাড়ির জন্য কার্ডবোর্ডের ওপর গাছপালা ও ট্রাক বানানো, সমুদ্র তলদেশের দৃশ্য তৈরি, বড়শি দিয়ে মাছ ধরা বানাতে পারেন।
ট্রেজার হান্ট
বাচ্চাদের জন্য আরেকটি মজার অ্যাক্টিভিটি হতে পারে ট্রেজার হান্ট। নানা জিনিস বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রেখে সেগুলো খুঁজে বের করতে বলা। কার্ডবোর্ড দিয়ে নানা জিনিস বানিয়ে অথবা বিভিন্ন খেলনা ইত্যাদি বাচ্চা তার হাতের নাগালে পাবে বাসার এমন জায়গায় লুকিয়ে রেখে তা খুঁজে বের করতে বলতে হবে। এতে বাচ্চারা খুব আনন্দ পায় সঙ্গে কর্মদক্ষতাও বাড়ে।
বাসার কাজে অংশীদার করুন
বাচ্চার বয়স অনুযায়ী তাকে ছোট ছোট করে বাসার নানান কাজে ব্যস্ত রাখুন। সঙ্গে নিয়ে রান্না করুন, কাপড় গোছাতে শেখান। ছোট ছোট রান্না করার হাঁড়ি-পাতিল কিনে দিন। বাচ্চাকে আস্তে আস্তে ঘরের কাজে অংশগ্রহণ করতে দিলে সে যেমন ঘরের কাজে অভ্যস্ত হবে, তেমনই আনন্দও পাবে। প্রতিটি সফল কাজের জন্য ছোট ছোট পুরস্কারও দিতে পারেন।
শিশুদের বই দিন
বাচ্চারা ছোট হলেও রঙিন বই তাদের আকর্ষিত করে। তা ছাড়া বর্তমানে বাচ্চাদের জন্য কাপড়ের বই, পপ আপ বই, হার্ড বই ইত্যাদি পাওয়া যায়; যা খুবই আকর্ষণীয় এবং সহজে নষ্ট হয় না। বাচ্চারা এসব বই নাড়াচাড়া করেও বেশ মজা পায়। আর তাদের এগুলো থেকে গল্প পড়ে শোনাতে থাকলে আস্তে আস্তে পড়ার প্রতিও আগ্রহ জন্ম নেবে। ফলে মোবাইল বা টিভির দিকে ঝোঁক হবে না সহজে।
সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করুন
বাচ্চাদের বিজ্ঞানের দিকে আগ্রহী করতে ছোট ছোট মজার মজার বিভিন্ন সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট যেগুলোতে ঝুঁকি নেই, সেগুলো করতে পারেন। এতে বাচ্চা আনন্দের পাশাপাশি বিজ্ঞানের নানা মজার জিনিস আবিষ্কার করবে ও আরও জানতে আগ্রহী হবে। এ ছাড়া দুরবিন, ম্যাগনিফাইং গ্লাস, ক্লাইডিওস্কোপÑ এ রকম মজার মজার সায়েন্স টুলসের ব্যবহারও বাচ্চাদের শেখাতে পারেন।
বাগান করুন
বাচ্চারা কাদামাটি নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসে। তা ছাড়া নানা গবেষণায় উঠে এসেছে বাচ্চাদের এই কাদামাটির সংস্পর্শে থাকাটা তাদের জন্য বেশ উপকারী। তাই বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে বাগান করুন। এতে তারা যেমন প্রকৃতির প্রতি যত্নশীল হবে, তেমনই তাদের শরীর ও মনের জন্য হবে বেশ উপকার।
ছোট ছোট খেলার আয়োজন করুন
আজকাল বাচ্চারা মাঠে যাওয়ার সুযোগ কমই পায়। তাই ঘরের মাঝেই ওদের জগৎটা তৈরি হয়। বাসার মাঝেই ছোট ছোট দৌড়ঝাঁপের খেলার আয়োজন করতে পারলে ওরা যেমন খুশি হবে, তেমনি ওদের শরীর থাকবে ভালো। তবে এসব খেলার সময় ঘর একটু ফাঁকা করে দিতে হবে, বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শুধু দৌড় প্রতিযোগিতাই নয়, বরং বাস্কেটে বল ফেলা, উঁচুতে কিছু লাফ দিয়ে ধরা, সময়ের মাঝে দৌড়ে আসা বা সময়ের মাঝে টাস্ক কমপ্লিট করা, বিভিন্ন জিনিস সাজানো, লুকোচুরি ইত্যাদি হতে পারে বেশ আনন্দদায়ক। একের অধিক বাচ্চা হলে তাদের সবাইকে ব্যস্ত রাখতে এমন ছোট ছোট খেলার আয়োজন অনেক সময়ই তাদেরকে আনন্দ দেয় ও ব্যস্ত রাখে।