সানজিদা বিনতে হাফিজ
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫ ১৮:০৯ পিএম
জামদানি শুধু একটি ফেব্রিকের নাম নয়, এটি বাংলার বহু পুরানো ঐতিহ্য। সময়ের সাথে সাথে জামদানি তৈরিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, কাউন্টের কমবেশি হয়েছে। জামদানি পোশাকের সঠিক দাম নিয়ে এখনও অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে। কেউ ভাবেন কম দামেই ভালো মানের জামদানি পাওয়া যায়। আসলেই কি তাই? জামদানির মূল্য মূলত এর কাজ ও সুতার উপর নির্ভর করে। দাম অনুযায়ী জামদানির ধরন সম্পর্কে চলুন জেনে নেয়া যাক।
মিডবাজেট জামদানির চেনার উপায়
১) সুতা একটু মোটা হয় তাই কিছুটা শক্ত হতে পারে।
২) বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মোটা সুতার হয়। ৬০ কাউন্ট অথবা ৮০/৬০ কাউন্ট মিক্সড সুতা অথবা ৬০+৮০ কাউন্ট এর মিক্সড থাকে।
৩) হাইশা ও আঁচল বড় হয়ে থাকে।
৪) মিড বাজেট রেঞ্জের শাড়িগুলোর প্রথম কুঁচিতে সাধারণত কাজ পড়ে না।
৫) মিড বাজেট শাড়িতে কাজের পরিমাণ এক্সক্লুসিভ জামদানি থেকে কম থাকে।
৬) ঘুরি ২.৫-৪ হাত। দামের পার্থক্য অনুযায়ী ঘুরি কম-বেশি হতে পারে।
অনেকেই ভয় পান মিড বাজেট শাড়ি পড়লে হয়তোবা ফুলে থাকে। আসলে এমন কিছুই না, সুন্দর করে শাড়ি পরলে ফুলে থাকার কোনো চান্স নেই।
এক্সক্লুসিভ জামদানি শাড়ি চেনার উপায়

একটি জামদানি শাড়ি এক্সক্লুসিভ হয় শাড়ির ডিজাইন, কাজের পরিমাণ, সুতার কাউন্ট এবং কাজের ফিনিশিংয়ের উপর নির্ভর করে। এক্সক্লুসিভ জামদানি আসলে কেমন হয় চলুন আজকে একটু ধারণা নেয়া যাক-
১) সফট হয় এবং ওজনে অনেক হালকা হয়। ওজন সাধারণত ২২০-৩৫০ গ্রামের মধ্যে থাকে।
২) ডিজাইনের অনেক পরিবর্তন থাকে, কাজের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
৩) পাড় ও আঁচলের কাজও এক্সক্লুসিভ হয়।
৪) চিকন সুতা থাকবে। সুতার কাউন্ট ৮০/৮৪/১০০/১২০। বর্তমানে ১০০/১২০ পাওয়া অবশ্য কঠিন হয়ে যায়।
৫) হাইশা কম, আঁচলের অংশ ছোট থাকে।
৬) ঘুরি ১-২ হাতের মধ্যে। সুপার এক্সক্লুসিভের ক্ষেত্রে ১-১.৫ হাত হয় বেশি।
৭) নিঁখুত বুননের হয়, দেখতে অনেক চকচকে হয়, কাজের ফিনিশিং খুব ভালো থাকে।
৮) একটি এক্সক্লুসিভ জামদানি যতটা সফট ও চকচকে দেখতে হবে, কমদামী জামদানি তেমনটা হবে না।
৯) আসল জামদানি চেনার সবচেয়ে বড় উপায় হল শাড়ি উল্টে দেখা। জামদানি শাড়ির উল্টো দিকে যদি সুতো কাটা দেখেন, তবে বুঝবেন এটা মেশিনে বোনা। জামদানি শাড়ি তৈরি করার সময় তাঁতিরা একটি একটি করে সুতো হাতের সাহায্যে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বোনেন। তাই শাড়িতে সুতোর কোনো অংশ বের হয়ে থাকে না। এই কারণে জামদানি শাড়িতে উল্টো পিঠ বোঝা যায় না সহজে।
জামদানি শাড়ির যত্ন

আমরা সব মেয়েরাই কম বেশি জামদানি পছ্ন্দ করি এবং ব্যবহার করি। কিন্তু আমরা কি সবাই জানি কীভাবে জামদানি শাড়ির যত্ন করতে হয়? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক।
১) জামদানি দীর্ঘদিন একইরকম ভাঁজে রেখে দিলে সাদা সাদা ফাঙ্গাস পড়তে পারে এবং ভাঁজে ভাঁজে ফেঁসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২) মাসে অন্তত একবার হলেও শাড়ি খুলে হালকা রোদ বা বাতাসে দিতে হবে এবং ঠান্ডা হলে ভাঁজ পরিবর্তন করে রাখলে শাড়ি ভালো থাকে।
৩) জামদানি পানিতে ভিজিয়ে ওয়াশ করতে হয় না। কয়েকবার পরার পরে কাটা ওয়াশ করিয়ে নিতে হবে।
৪) সুযোগ পেলেই জামদানি পরা উচিত কারণ জামদানি যত পরা হবে ততই ভাল থাকবে।
৫) জামদানি কখনোই স্যাঁতসেঁতে ভাব আছে এমন জায়গায় রাখা উচিত নয়। এতে ফাঙ্গাস পরতে পারে এবং সুতার টেম্পার নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৬) জামদানি আয়রন না করাই ভাল। আয়রন করলেও একদম হালকা হিটে জামদানি উপর সুতি কাপড় দিয়ে আয়রন করতে হবে। জামদানি পরার পর ভাঁজ করে কিছু সময় ভারী কোনো কিছুর নিচে রাখলে ঠিক হয়ে যায়, আয়রনের প্রয়োজন পরে না।
৭) জামদানি রোলারে রোল করে পেঁচিয়ে রাখলে বেশি ভালো থাকে। রোলার না থাকলে আলমারিতে এমনভাবে রাখতে হবে যেন একটির উপরে আরেকটি না থাকে। হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে না রাখাই ভাল।
জামদানি যেহেতু সম্পূর্ণ হাতের তৈরি একটা শাড়ি তাই এটি বেশ সেনসিটিভই বলা যায়। এজন্য বিশেষ যত্নে রাখতে হয়।
ছবি - সাটক