জারাদ ত্রিস্তান
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১৩:২৭ পিএম
প্রচ্ছদ : অর্নিলা ভৌমিক
সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে এসে গেছে শরৎ। বর্ষা শেষে শরৎ আসে বাংলাদেশে। শরৎ এলে বাঙালির মনে ছড়িয়ে পড়ে এক প্রশান্তি। সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখা যায় শরতে। এই ঋতুর আগমনে প্রকাশ পায় নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা সাদা মেঘ। কাশের শুভ্রতায় ছেয়ে যায় নদীর তীর।
শরৎ এলেই গাছের পাতার আড়াল থেকে উঁকি মারে হলদে বোঁটার শিউলি। শেফালি, বকুল, গাদা বা গগনশিশির অথবা জলে ভেসে বেড়ানো পদ্ম শরতেরই প্রতীক। নদীর ধারের কাশফুল তার শুভ্রতায় শরতের রেশ ধরে রাখে।
গাছের ডালের আমলকী, ডুমুর, জলপাই, করমচা ও আমড়া শরতের কথাই মনে করায়। কমলা রঙের তালও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
শরৎকাল কিন্তু সবজির দিক দিয়েও পিছিয়ে নেই, ফুলকপি, ব্রুকলি, বাঁধাকপি, বিট ইত্যাদি বিদেশে সবজির আগমন ঘটে শরৎকালের শেষের দিকে।
শরৎকালে কৃষকদের মধ্যে পড়ে ফসল বোনার ধুম। তাইতো খনা বলেছেন, ‘ওরে ও চাষার পো, শরতের শেষে সরিষা রো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাদ্রে চারি আশ্বিনে চারি, কলাই রোবে যত পারি।’
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বছর ঘুরে শরৎকালেই উমা সন্তান-সন্তানাদি সঙ্গে নিয়ে আসে বাপের বাড়ি। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী এক হুলস্থুল কাণ্ড। ধূপ-ধুনোর গন্ধ এবং ঢাকের বোলে কেটে যায় বেশ কয়েকটি দিন।
আজ থেকে বহু বছর আগে কোনো এক শরৎকালে সংসার ত্যাগ করার পর নিজের চুল তরবারি দিয়ে কেটে বাতাসে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন কুমার সিদ্ধার্থ বা গৌতম বুদ্ধ। সেই চুল দিয়ে স্বর্গে বানানো হয় চুলামনি চৈত্য। প্রবারণা পূর্ণিমার মাধ্যমে পালিত হয় এ দিনটি। বৌদ্ধরা আকাশে ওড়ায় ফানুস।
শরৎকালে কিন্তু খাওয়া-দাওয়া কম হয় না। তালসহ বিভিন্ন ফল দিয়ে তৈরি করা হয় মজার মজার পিঠা। কি যে স্বাদ সেসব খাবারের। ভালো ইলিশ পাওয়া যায় বলে শরৎকালে ইলিশ খাওয়ার পরে ধুম। এ ছাড়াও দেশীয় নানান জাতের মাছ পাওয়া যায় এ সময়ে।
শরৎকালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্য ঋতুর চেয়ে আলাদা। শরতের শিশির ভেজা পথ দেখে মন হয়ে উঠে চঞ্চল। শরতের প্রভাতে শ্যামর বাংলার রূপ যে ঝলমল করে ওঠে। শরৎ রাতের কোলে দোলে শিউলি ফুলের মালা।
অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শরতের আবহাওয়া থাকে খুব সুন্দর। না শীত, না গরম। এই হলো শরতের রূপ। অন্যান্য ঋতুর মতো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও স্পর্শ করে না। সত্যি বলতে কী, শরৎকে কিন্তু ঋতুর রানীই বলা চলে!
পঞ্চম শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাকরাইল, ঢাকা