× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস রোপণ বন্ধ হবে কবে

সঞ্জয় চৌধুরী

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৫৪ পিএম

নিষিদ্ধ ইউক্যালিপটাস রোপণ বন্ধ হবে কবে

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন বা প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষার কথা উঠলেই বৃক্ষ রোপণ ও বনায়নের কথা প্রাসঙ্গিকভাবে খুব গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। গাছ মানুষের পরম বন্ধু, এই কথাগুলো শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষাজীবন থেকেই শুনতে অভ্যস্ত। বর্ষা মৌসুম এলেই বৃক্ষ রোপণের কথা উঠে আসে বারবার। তবু আমরা পরিসংখ্যানে দেখি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে দিনের পর দিন বনাঞ্চল কমে যাচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে। এই বন ধ্বংসের প্রক্রিয়াটি বিগত ৩ হাজার বছর ধরে পৃথিবীতে চলমান। বাংলাদেশও এই প্রক্রিয়ার বাইরে নয়, বরং এগিয়ে রয়েছে। বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নানাবিধ ক্ষতির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ, ২০২১ সালে তাদের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে দেখা যায়, ২০০১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই ২০ বছরে বাংলাদেশে গাছের আবরণ-আচ্ছাদন হ্রাস পেয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর। যেখানে বনাঞ্চল বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি, সেখানে বাংলাদেশে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা রোপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সম্প্রতি।

চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে বলা হয়, ‘আগ্রাসী প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হলো। উক্ত আগ্রাসী প্রজাতির গাছের চারা রোপণের পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে বনায়ন করতে হবে।’

ইউক্যালিপটাস গাছ কেন ক্ষতিকর 

গাছ মাত্রই তার গুণাগুণ রয়েছে। তাই বলে সব গাছই যে মানুষের জন্য উপকারী বা পরিবেশবান্ধব, তা নয়। এ প্রসঙ্গে প্রথমেই বিদেশি গাছ সম্পর্কে জানা দরকার।

একটি বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশকারী নতুন প্রজাতিকে বলা হয় অ্যালিয়েন স্পেসিস। যেসব প্রজাতি ভিন্ন বা নতুন বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করে স্থানীয় প্রজাতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় তাদের বলা হয় আগ্রাসী অ্যালিয়েন স্পেসিস। এই আগ্রাসী অ্যালিয়েন স্পেসিস আমাদের বাস্তুতন্ত্র তথা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এরা স্থানীয় প্রজাতিকে শুধু হুমকির মুখে ফেলে তা নয়, বরং ধ্বংসও করে ফেলে। ন্যাশনাল বায়োডাইভার্সিটি স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশনপ্ল্যান অ্যালিয়েন স্পেসিসকে আগ্রাসী ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেছে।

বিদেশি প্রজাতির গাছ, যেমনÑ রেইনট্রি, সেগুন, আকাশমণি, শিশু, বাবলা ও ইউক্যালিপ্টাস জাতীয় গাছের জন্য প্রচুর জায়গার দরকার হয়। অন্যদিকে এগুলো দেশি গাছের তুলনায় অনেক দ্রুততার সঙ্গে বেশি পরিমাণে পুষ্টি ও পানি মাটি থেকে শুষে নেয়।

আমাদের এ অঞ্চলে রেইনট্রি, মেহগনি, চাম্বুলসহ কিছু বিদেশি প্রজাতির গাছ আনা হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। আবার সত্তর ও আশির দশকে প্রবেশ করেছে আকাশমণি, ইউক্যালিপটাস, শিশু, ইপিলইপিল, বাবলা ও খয়ের জাতীয় গাছ। এ ছাড়া অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেছে বেশ কিছু লতা ও গুল্ম। যেমনÑ রিফুজিলতা, স্বর্ণলতা, মটমটিয়া, পিসাইস, পার্থেনিয়াম, কচুরিপানা ইত্যাদি। ফলে কয়েক দশক ধরে এসব বিদেশি প্রজাতি আমাদের নিজস্ব ইকোসিস্টেমকে করেছে বিপর্যস্ত এবং বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে অন্তত এক হাজার প্রজাতির নিজস্ব গাছ। বাংলাদেশে প্রবেশকারী বিদেশি নানা প্রজাতির গাছের মধ্যে অন্যতম এই ইউক্যালিপটাস। 

সারা বিশ্বে প্রায় ৭০০ প্রজাতির ইউক্যালিপটাস রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই গাছকে ইউক্যালিপটাস ওবলিকোয়া নামে ডাকা হয়। কাঠ উৎপাদনে এ গাছের বিশেষ নামডাক রয়েছে।

ইউক্যালিপটাসের আবাসভূমি অস্ট্রেলিয়া। দেশটি প্রতি বছর ৪৫ লাখ টন ইউক্যালিপটাস কাঠের ফালি রপ্তানি করে, যা আসবাবপত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। এই গাছটি থেকে কিনো, তেল ও ট্যানিন পাওয়া যায়। এই গাছের তেল অ্যান্টিসেপটিক ও পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। এমনকি মশা নিধনেও ভূমিকা রাখে এর তেল। এই গাছের ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে; যা মধু উৎপাদনেও ভূমিকা রাখে। ইউক্যালিপটাসের এত গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও রয়েছে নানাবিধ বিরূপ প্রভাব ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া; যা গুণাগুণকে ছাপিয়ে অধিকহারে পরিবেশের ক্ষতি করছে। 

ইউক্যালিপটাসে অধিক পরিমাণে তেল থাকায় এটা বেশ দাহ্য এবং খোদ এর আবাসভূমি অস্ট্রেলিয়ায়ই একে অগ্নি সৃষ্টিকারী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দেশটির আবাসিক এলাকায় এবং ঘরবাড়ির আশপাশে এই গাছ কম রোপণ করা হয়। মাটি থেকে অতিমাত্রায় পানি শোষণ করে এই ইউক্যালিপটাস; যা পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটায়।

একটি ইউক্যালিপটাস গাছ তার আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার পানি ও ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করে, যা প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই এই প্রক্রিয়াটি চলমান রাখে গাছটি। যার ফলে দ্রুত মাটিতে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। এ কারণে এর আশপাশের অন্য প্রজাতির গাছও জন্মাতে পারে না। গাছটি মাটিকে করে ফেলে শুষ্ক। ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেললেও মাটির উর্বরতা ফিরে আসতে লাগে দীর্ঘ সময়; যা অধিক জনসংখ্যাপ্রবণ বাংলাদেশের কৃষির জন্য বড় হুমকি।

বাংলাদেশের কৃষিতে এই গাছ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এর পাতায় এক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক থাকায় এর নিচে জন্মানো গাছ বাড়তে পারে না। মারা যায় পোকামাকড়ও। সে তালিকায় কৃষির জন্য উপকারী পোকামাকড়ও রয়েছে। ফলে বনায়ন, ফসল এবং জীববৈচিত্র্য সবকিছুই হুমকির মুখে পড়ছে। এমনকি এই গাছের ফুল এবং পাপড়িগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের শ্বাসনালিতে ঢুকে শ্বাসকষ্ট ও হার্টের অসুখ সৃষ্টি করে।

সামাজিক বনায়নকে প্রাধান্য দিয়ে সত্তরের দশকে বাংলাদেশে শুরু হয় নানান কার্যক্রম। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ১৯৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্যালিপটাসসহ নানা প্রজাতির বিদেশি দ্রুতবর্ধনশীল গাছ আমাদের দেশে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি ও সরকারের বন বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পে ১৯৮০ সালের মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাপকহারে ইউক্যালিপটাসসহ বিদেশি প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এমনকি দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ইউক্যালিপটাস গাছের চারা বিনা মূল্যে বিতরণেরও নজির রয়েছে।

বর্তমানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ইউক্যালিপটাস গাছ চোখে পড়ে। দেশের উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে সবুজ মরুকরণের অন্যতম কারিগর এই ইউক্যালিপটাস গাছ।

কেন ইউক্যালিপটাস গাছ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ 

ইউক্যালিপটাস গাছের নানাবিধ ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় আমাদের দেশে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২০০২ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই গাছের চারা রোপণ বন্ধের পদক্ষেপ নিয়েছিল। সে পদক্ষেপ যে কাজে আসেনি তা বর্তমানের বাংলাদেশের রাস্তার ধারে, আবাদি জমিতে, ধানক্ষেতের আইলে, পুকুরপাড়ে এমনকি কোনো কোনো বাড়ির আঙিনার আশপাশের পরিণত ইউক্যালিপটাস গাছগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ২০২৫ সালে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এই গাছকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন ওঠে, আদৌ কি এই গাছের চারা উৎপাদন, বিপনন বা ক্রয়-বিক্রয় ও রোপণ বন্ধ হয়েছে? যদিও দেশের কোথাও কোথাও উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণিগাছের চারা ধ্বংসকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবু খুব স্বাভাবিকভাবেই চলছে এই গাছের চারা উৎপাদন, বিপণন ও রোপণ কার্যক্রম।

গত সপ্তাহে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কলেজপাড়ায় চোখে পড়ে গাছের চারা ভর্তি একটি ভ্যান। একজন গাছের চারা বিক্রেতা বিক্রির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছেন। নাম রমজান আলী (৫০)। ভ্যানে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা দেখে দাঁড় করিয়ে চারার দাম জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন ৫০ টাকা জোড়া। আরও জানালেন, যত হাজার গাছ লাগবে তিনি এনে দিতে পারবেন। তার নিজের নার্সারি নেই, তবে তিনি অন্যের নার্সারি থেকে এই চারা সংগ্রহ করে দিতে পারবেন। ইউক্যালিপটাস নিষিদ্ধ হওয়ার কথা শুনে তিনি জানালেন, এ ব্যাপারে তিনি এখনও জানেন না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে চারা উৎপাদন, বিপণন ও রোপণ খুব স্বাভাবিকভাবেই চলছে নিষিদ্ধ এই গাছের।

পরিবেশ রক্ষায় করণীয় 

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ইকো দীর্ঘ সময় ধরে দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণের ব্যাপারে নানান কার্যক্রম পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় কুড়িগ্রাম জেলার ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে কাঁঠালগাছের চারা বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের মাটি, পানি, জলবায়ু, পরিবেশ, প্রতিবেশ, মানবস্বাস্থ্য, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গ তথা জীববৈচিত্র্যকে এই আগ্রাসী অ্যালিয়েন স্পেসিস ইউক্যালিপটাসের হাত থেকে সত্যিকার অর্থেই রক্ষা করতে চাইলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এখনই।

দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উৎপাদন, বিপণন এবং রোপণ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব। নার্সারির মালিকদের নিয়ে বসতে হবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে এবং তাদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এই গাছের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে গবেষণা বৃদ্ধিকরণ ও সাধারণ জনগণ, বিশেষ করে গ্রামের প্রান্তিক কৃষকের কাছে এর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে সচেতন করতে হবে।

বিদেশি ক্ষতিকর প্রজাতি তথা ইউক্যালিপটাসকে ঠেকাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় ঘটাতে হবে। সে দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে।

ইউক্যালিপটাসের বিপরীতে দেশীয় প্রজাতির কাঠের গাছ, ফলদ গাছ বা আর্থিক সচ্ছলতা আনে এমন গাছ সম্পর্কে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া বিদেশ থেকে গাছ বা বীজ আনা বন্ধ করতে হবে। যথাযথ ও কঠোর আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সৃষ্টি করতে হবে ব্যাপক জনসচেতনতা। তবেই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ গাছ ইউক্যালিপটাস সত্যিকার অর্থেই নিষিদ্ধ হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা