× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কারা হাঁসের মাংস খাবেন, কারা খাবেন না

আফসানা মিমি

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৫৫ পিএম

কারা হাঁসের মাংস খাবেন, কারা খাবেন না

বাংলাদেশের গ্রামবাংলার রান্নাঘরে হাঁসের মাংস একটি সুপরিচিত নাম। বিশেষ করে শীতকাল বা বর্ষার মৌসুমে হাঁসের মাংসের ঝোল কিংবা ভুনা যেকোনো ভোজনরসিকেরই প্রিয় খাবার। স্বাদের পাশাপাশি এতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। তবে সব খাবারের মতো হাঁসের মাংসও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কারও জন্য এটি শক্তি ও পুষ্টির উৎস, আবার কারও জন্য হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জানা দরকার কারা হাঁসের মাংস খেতে পারবেন আর কারা পারবেন না।

হাঁসের মাংসের পুষ্টিগুণ

হাঁসের মাংস প্রোটিনসমৃদ্ধ, যা শরীরের বৃদ্ধি ও মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে। এতে রয়েছে আয়রন ও ভিটামিন বি-১২, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর। একই সঙ্গে এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। তবে মুরগি বা গরুর মাংসের তুলনায় হাঁসের মাংসে ফ্যাটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি। এ কারণে এটি একদিকে যেমন শক্তি জোগায়, অন্যদিকে বেশি খেলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

কারা হাঁসের মাংস খেতে পারবেন- 

সুস্থ ব্যক্তি

যাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ নেই, তারা পরিমিত পরিমাণে হাঁসের মাংস নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

রক্তস্বল্পতায় ভোগা মানুষ

হাঁসের মাংসে আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

ওজন বাড়াতে চান যারা

হাঁসের মাংসে তুলনামূলকভাবে বেশি ক্যালরি ও ফ্যাট থাকে। যাদের শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তারা হাঁস খেলে উপকার পেতে পারেন।

কারা হাঁসের মাংস এড়িয়ে চলবেন- 

হৃদরোগী ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী

হাঁসের মাংসে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগী

চর্বিজাতীয় খাবার ইনসুলিন প্রতিরোধ বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হাঁসের মাংস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

স্থূলকায় মানুষ

যাদের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি, তাদের হাঁসের মাংস কম খাওয়াই উচিত। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি জমে স্থূলতা আরও বাড়তে পারে।

লিভারের রোগী

ফ্যাটি লিভার বা অন্য লিভার-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য হাঁসের মাংস একেবারেই অনুপযুক্ত।

বয়স্ক মানুষ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হজমক্ষমতা কমে যায়। হাঁসের মাংসে ফ্যাট বেশি থাকায় তা বয়স্কদের হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

পরামর্শ

* চিকিৎসকদের মতে, হাঁসের মাংস খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পরিমিত পরিমাণে খাওয়া।

* সপ্তাহে একবার বা দুইবার সামান্য পরিমাণ খাওয়া নিরাপদ।

* রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করে ঝোল বা সিদ্ধ আকারে খাওয়াই উত্তম।

* ফ্যাট কমানোর জন্য হাঁসের চামড়া না খাওয়াই ভালো।

পুষ্টিবিদরা জানান, হাঁসের মাংস কোলেস্টেরল ও ফ্যাটে বেশি হলেও শরীর উষ্ণ করে। শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখার জন্য যদি কোনো অ্যালার্জি না থাকে, হাঁসের মাংস খাওয়া ভালো। রক্তস্বল্পতা বা খাবারে অনীহা থাকলে এটি শক্তির ভালো উৎস। তবে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া উচিত নয়। সাধারণত একজন মানুষকে ৬০-৭০ গ্রাম মাংস খাওয়ার কথা বলা হয়। হাঁসের মাংসের ক্ষেত্রেও ৩০ গ্রাম ১ টুকরা হিসেবে, ২ টুকরা খেলে ৬০ গ্রাম হয়, যা সুষম। হাঁসের মাংস সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং শরীরের জন্য শক্তির একটি ভালো উৎস। তবে মনে রাখতে হবেÑ সবার জন্য একই খাবার সমান উপযোগী হয় না। সুস্থ মানুষ ও শ্রমজীবীরা হাঁসের মাংস নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারে। কিন্তু হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী বা স্থূলকায়দের ক্ষেত্রে এটি সীমিত রাখা উচিত।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা