হুমায়রা রহমান
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১২:১১ পিএম
অলংকরণ : নিঝুম নিসর্গ, ষষ্ঠ শ্রেণি, রোজডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা
ঘুম আসছে না নিঝুর। একটু আগে মামনি বলে গেছেন ঘুমাতে। নিঝু সেই গল্পটা ভাবছে, যেই গল্পটা দাদা আজ রাতে শুনিয়েছেন। গল্পটা রূপকথার হলেও বাস্তবের চেয়েও কিছু কম নয়। শীতের রাত পশ্চিম জানালা দিয়ে হিম ঠান্ডা বাতাস হচ্ছে। সেই জানালাটা খোলা ছিল। হঠাৎ একটা কালো রঙের বিড়াল জানালা দিয়ে এলো। বিড়ালটা মিউ মিউ করা বাদ দিয়ে ওটা সুন্দর ভাষায় বলে উঠলÑ
নিঝু নিঝু নিঝু
ডাক পারি
নিঝু সোনা
ভাবেটা কী?
নিঝু চমকে গেল। খুঁজতে লাগল ওটা কে বলল। না, ঘরে কেউই নেই। নিঝু ভাবল ভূত মনে হয়। সে বলল,
কে বলল কে?
ভূতবাবাজি?
আমি কি ঠিক বলেছি।
কালোবিড়ালটা বলল,
ভূত নয়
ডাইনির সহকারী
পুষি।
নিঝু বলল,
পুষি পুষি
ডাক পারি
পুষিটা যে কোথায়?
তাই ভাবি।
পুষি বলল,
আমি এখন
পশ্চিম জানালায়।
নিঝু তাকাল সেখানে। ওমা কালোবিড়াল! নিঝু তাকে প্রশ্ন করল, তুমি কোত্থেকে এলে?
পুষি বলল, আমি এসেছি এমন দেশ থেকে, যেই দেশে ডাইনি বুড়িটা থাকে।
নিঝু ডায়নির কথা শুনে ভয় পেয়ে গেল। পুষি বুঝল যে নিঝু ডাইনির কথা শুনে ভয় পেয়েছে। সে তার ভয় কমানোর জন্য বলল, সেই ডাইনিটা কবে জন্মেছে জানো?
নিঝু মাথা নাড়ায়। পুষি বলল, সে জন্মেছে অমাবস্যার দিনে।
শুনে নিঝু কিছুটা শান্তি পেল। কারণ অমাবস্যায় যদি কারও জন্ম হয়, তার কোনো খুঁত (হিংসা, অহংকার, পরনিন্দা) থাকে না। আর যদি কারও জন্ম পূর্ণিমায় হয়, তার মনে সব ধরনের খারাপ কিছু (হিংসা, ঘৃণা, অহংকার) থাকে। নিঝুর দাদা আজই যেই গল্পটা শুনিয়ে গেছেন, ওই গল্পের কাহিনীটা ছিল এক ডাইনি আর তার সহকারী কালোবিড়ালের সম্পর্কে। নিঝুর মনে হলো নিশ্চয় গল্পের কালোবিড়ালটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। নিঝু কালোবিড়ালটাকে বলল,
পুষি! পুষি!
হ্যাঁ বলছি
তোমায়।
গাধার মতো
চেয়ো না
নিয়ে যাও
তোমার দেশে।
পুষি বলল,
যাবে কীভাবে
আমার দেশে
ভেসে ভেসে?
নিঝু বুঝতে পারল সেই দেশে যাওয়া অসম্ভব ওদিকে ওই দেশে। ডাইনিটা খুঁজছে তার আদর্শ সহকারী পুষিকে। সে কিন্তু পুষিকে বাংলাদেশে পাঠায়নি।
পুষি-ই-ই-ই। তুমি কোথা-আ-আয়। ডাইনিটা এভাবে পুষিকে ডাকছে। ততক্ষণে পুষি আর নিঝু দারুণ আড্ডা দিচ্ছে। পুষিকে ডাইনিটা ডেকেই যাচ্ছে। অবশেষে পুষিটার জন্য ডাইনিটা কাঁদতে লাগল। পুষি ডাইনির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল। সে নিঝুকে বলল,
করুণ সুরে
ডাইনি করছে কান্না
তোমার কাছে আর না।
প্লিজ, দয়া করে
আমাকে যেতে দাও
আমাকে যেতে দাও।
নিঝু বলল,
যাও যাও যাও
যাবার আগে
আমায়
তুমি
ক্ষমা করে
দাও।
পুষি নিঝুকে ক্ষমা করে দিল। এবং ডাকল ডাইনিকেÑ
ডাইনি ডাইনি
আমি এখানে
বাংলাদেশে।
ডাইনিটা শুনতে পেল পুষির ডাক। তার একটা বাহন ছিল। বাহনটা হলো একটা ঝাড়–। সে সেটার সাহায্যে এলো বাংলাদেশে। চলে এলো ১০৩ নাম্বার বাসায়। বাসার ভেতরে ঢুকে পুষি পুষি ডাক দিতেই পুষি সাড়া দিল।
ডাইনি, এসো আমি এখানে।
পুষি ছিল নিঝুর ঘরে। ডাইনিটাও নিঝুর ঘরে গেল এবং পুষিকে দেখতে পেল। পুষি লাফিয়ে ডাইনির কোলে চলে এলো। হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল দুজনে। ওদের কান্না দেখে নিঝুও কাঁদল।
এরপর তারা নিঝুকে বিদায় জানিয়ে নিজের দেশে ফিরে গেল।