× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বটগাছের ভূত

আঁকা ও লেখা রাফিয়া তাহসিন ইথিকা

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৫ এএম

বটগাছের ভূত

নিজাম সাহেবের বাড়ি নন্দনপুর। তার একটা ছোট্ট দোকান আছে। বাড়িতে বানানো আচার, মসলা ওই দোকানে বিক্রি করেন। তার সাংসারিক অবস্থা ভালো। তবু তিনি বেশ হিসেবি। গ্রাম থেকে শহরে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই তিনি রওনা দেন আর বাড়ি ফেরেন সন্ধ্যায়। নন্দনপুর গ্রামের একটি আকর্ষণ শতবর্ষী এক বটগাছ। গ্রামের কেন্দ্রেই গাছটি। যেন বিশাল দেহ নিয়ে স্বাগত জানায় ।

একদিন নিজাম সাহেবের দোকানের কাজ শেষ করতে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেল। তিনি দেখলেন বেশ গর্জন করেই মেঘ ডাকছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃষ্টি নামতে পারে। তিনি দ্রুত একটা ভ্যানে উঠে বসলেন। তিনি সাধারণত ভ্যানেই যাতায়াত করেন, গ্রামের বাজারে গিয়ে নামেন। সেখান থেকে বাড়ি পর্যন্ত ১০ মিনিটের হাঁটার পথ। আবহাওয়া দেখে তিনি ভ্যানচালককে বললেন, ‘ও ভাই, আবহাওয়ার যে অবস্থা, বাড়ি পর্যন্ত একটু নামিয়ে দিয়ে আসতে পারবে?’ ভ্যানচালক বলল, ‘অবশ্যই পারব ভাই। ১০০ টাকা বেশি দিয়েন।’ নিজাম সাহেব আর মেজাজ ধরে রাখতে পারলেন না। ‘ভালোই তো সুযোগ পেয়েছো। এখানেই থামাও, আর যাব না। তোমার ওই ১০০ টাকা পরের দুদিনেও পকেটে যাবে না, বলে দিচ্ছি।’ এই বলে তাকে ভাড়া দিয়ে তিনি গ্রামের বাজারেই নেমে গেলেন। বটগাছটার কাছে যেতেই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। আশপাশে কোনো বাড়ি না থাকায় তিনি বটগাছটার নিচে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপরই কেমন একটা অদ্ভুত শব্দ হলো। ওপরের দিকে তাকাতেই দেখলেন একটা বিশাল কালো ছায়া ডালের ওপর বসে রক্তলাল চোখ নিয়ে তাকাচ্ছে তার দিকে। ভয়ে যেন শরীরের সব রক্ত শুকিয়ে গেল তার। ‘এএএএই ক..ক..কে??’ ছায়াটা তার দিকে এগোতেই তিনি জ্ঞান হারালেন। ভোরে গ্রামের এক লোক তাকে দেখে আরও কয়েকজন নিয়ে তাকে বাড়িতে দিয়ে আসেন। নিজাম সাহেবের পরিবার যেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। জ্বরে তার গা পুড়ে যাচ্ছে, এখনও হুঁশ নেই। ঘণ্টাখানেক পর তিনি চোখ মেলে তাকালেন। তাকে ঘিরে যেন পুরো গ্রাম দাঁড়িয়ে আছে। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন, রাতে কী হয়েছিল? হঠাৎ নিজাম সাহেব জোরে জোরে হাসতে শুরু করলেন। বলতে লাগলেন, ‘সেই মায়াবী লাল চোখ আমি ভুলব কী করে হায়?’ তারপর আবার জ্ঞান হারালেন। একজন বলতে লাগল, ‘আল্লাহ গো, নিজাম সাহেবরে কোনো পরী বশে আনসে। কেউ হুজুররে ডাইক্কা আনো, পানিপড়া খাওয়াও।’ নিজাম সাহেবের আবার জ্ঞান ফিরল, এবার তার চোখে-মুখে প্রচণ্ড ভয়ের ছাপ। একটু আগেই স্পষ্ট কথা বললেন, কিন্তু এখন মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বেরুচ্ছে না। শুধু বলছেন, ‘ভ..ভ..ভূ..’। একজন বলে উঠল, ‘আরে, উনার মনে হয় ভুট্টা খাওনের শখ হইসে, কেউ নিয়া আসেন একখান।’ নিজাম সাহেব বললেন, ‘ওই বটগাছে ভূত আছে, বড় বড় লাল চোখ।’ সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। তিনি লক্ষ করলেন, তার হাতের ঘড়িটা নেই। তিনি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন, কিন্তু তার স্ত্রী কিছুই জানেন না। যেই লোক তাকে দেখেছিলেন তিনি বললেন, ‘আমি যখন আপনারে দেখসিলাম, তহন আপনার ঘড়ি তো দেখি নাই।’ নিজাম সাহেব খেয়াল করলেন, তার টাকার ব্যাগটাও গায়েব। কিন্তু গ্রামের মানুষ কখনোই টাকা চুরি করবে না। একজন বলল, ‘আরে, ভূতেরাও তো একডা সময় মানুষ ছিল, ওদের ও তো শখ আছে। কিসু কেনার শখ হইসে, তাই তোমার টাকা নিয়া গেসে।’ ‘আরে, ধুর মিয়া, এহন মজা করতাসেন।’ নিজাম সাহেব বলে উঠলেন, ‘নিজেদের বাড়িতে যান। দরকার লাগলে ডাকব।’ 

দুদিন পর ঠিক এরকম আরেকটি ঘটনা শোনা গেল। এবার নাকি ভূতে মারধরও করেছে। সদা প্রাণচঞ্চল গ্রাম মুহূর্তেই যেন জনশূন্য হয়ে গেল। রাত তো দূরে থাক, সন্ধ্যাতেও মানুষ বাইরে বের হয় না। নিজাম সাহেবের ছেলে তপুকে বিষয়টি খুব ভাবিয়ে তুলল। তার মনে হলো, ভূত সবাইকে ভয় দেখিয়ে মেরে ফেলার কথা, তবুও কাউকে প্রাণে মারছে না কেন! সে একটি ফন্দি আটল। নিজাম সাহেব তার কথায় কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে ছেলের অনুরোধে রাজি হতে হলো। এক রাতে তিনি আবার বটগাছটার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। গাছের ডালে আবার সেই কালো বিশাল ছায়া আর লাল চোখ দেখে ‘ও..ও বাবা গো’ বলে মাটিতে পড়ে গেলেন। তবে এবার ইচ্ছা করেই এমনটা করলেন। তাকে পড়ে যেতে দেখে গাছের ভূতটা নেমে এলো আর তার সহকারী ভূতকে বলল, ‘নে নে তাড়াতাড়ি কর; যা টাকা-পয়সা আছে সব বের করে জলদি কেটে পড়তে হবে।’ কিন্তু তখনই জোরে জোরে হাসতে শুরু করল, বৃদ্ধা মহিলার হাসি সঙ্গে ঘুঙুরের শব্দ। ভূতগুলো ভয় পেয়ে গেল। তারা পালাতে যাবে, ঠিক তখনই সামনে চলে এলো সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা, পায়ে ঘুঙুর, হাতে লাল চুড়ি, বড় বড় চুল দিয়ে মুখটা ঢাকা আর সেই বিকট বৃদ্ধা মহিলার হাসি। ভূতগুলো নিজেরাই ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে গেল। পরদিন সকালে তপু সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে শুরু করল, ‘সবাই বাইরে এসো, দেখো ভূত ধরেছি।’ সবাই বাইরে গিয়ে দেখল দুজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বটতলায় রাখা হয়েছে। তপু বলল, ‘এই যে বটগাছের ভূত, যারা নিজেরাই ভূত দেখে ভয় পায়। এরা আসলে চোর, মানুষকে ভয় দেখিয়ে সব টাকা লুট করেছে। আর যে ভয় পায়নি তাকে মারধর করেছে।’ সবাই অবাক হয়ে গেল তপুর সাহসিকতা দেখে। বলল, ‘তপু, তোর বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারলাম না।’ ‘বুদ্ধি আমার কিন্তু বাবা, মা আর দাদির সাহায্য ছাড়া কিছুই হতো না। মা যেভাবে শাড়ি পড়ে ভয় দেখাল আর দাদির হাসি শুনে ভূতের কুপোকাত না হয়ে উপায় আছে কী!’ নন্দনপুর গ্রাম আবার আগের মতো হয়ে উঠল।

নবম শ্রেণি, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা, উচ্চ বিদ্যালয়, রাজশাহী


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা