আরফাতুন নাবিলা
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৫ ১৩:৫১ পিএম
মডেল- অনন্যা, সংগীতা, সুখী, অদিতি পোশাক - ঈহা
বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই। সংজ্ঞা দিয়েও বন্ধুত্বকে ব্যাখ্যা করা যায় না। ছোটবেলায় স্কুলে টিফিন ভাগ করে যার সঙ্গে খাওয়া হতো, কলেজে উঠতে উঠতে তার সঙ্গে হয়তো আর যোগাযোগটুকুও হয় না। তার পরও বন্ধুত্ব অমলিন। বন্ধু দিবস উপলক্ষ করে এবারের চিত্রার আয়োজন সাজিয়েছেন আরফাতুন নাবিলা
মডেল- সুখী ও অনন্যা পোশাক - ঈহা
কোন বয়সে কেমন বন্ধুত্ব
পড়ালেখার হাতেখড়ি যখন হয়, তখন থেকেই বন্ধু শব্দটার সঙ্গে পরিচয় ঘটে আমাদের। মা-বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়া, প্রথম বন্ধুর পাশে বসা, টিফিন ভাগ করে খাওয়াÑ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সম্পর্ক। একসময় দেখা যায়, সেই বন্ধু ছাড়া পাশে অন্য কেউ বসলে ভালো লাগে না, মাঠে খেলতে ভালো লাগে না, গল্পের আসরও যেন বন্ধু ছাড়া জমে না। এভাবেই শুরু হয় বন্ধুত্বের পদযাত্রা।
ধীরে ধীরে বয়স বাড়ে। বন্ধুত্বে আসে পরিবর্তন। ছেলেবেলার সঙ্গীদের জায়গায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হয়। কলেজ পেরিয়ে এই বন্ধুমহল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়ারে পা রাখে। জীবনের নানা প্রান্ত ঘুরে এখানে এসেও শেকল বাঁধে অচেনা পরিবেশের ছেলেমেয়েরা। একবার, দুবার, তিনবারের আড্ডায় সে বন্ধুত্ব জমাট বাঁধে, পোক্ত হয়। ছেলেবেলার খেলার সঙ্গীদের ছেড়ে কৈশোর পেরোনোদের জীবনে আসে নতুন ছন্দ।
এর পর বাঁধনহারা জীবনে ছন্দপতন হয়। ব্যস্ত হয়ে যেতে হয় জীবনের নানা দায়িত্বে। ‘বন্ধু চল... এক দিন দেখা করি’, ‘এবারের ঈদে বাড়ি আসছি’, ‘ফোনে কথা বলব’Ñ এসবের মাঝেই কোথায় যেন আটকে যায় বন্ধু নামের মানুষগুলো। দূর থেকে দেখেই ছুটে আসা এসব বন্ধু হুট করেই যেন মিলিয়ে যায় সময়ের খেয়ালে। তবে যারা এই দূরত্বটুকু মিটিয়ে ফেলতে পারেন, তারা বন্ধুত্বের স্বাদ সহজে ভোলেন না।
চাকরি জীবন শেষে অবসর যাপনেও বন্ধুকেই পাশে দরকার হয়। ছেলেবেলার সেই হাসিঠাট্টা, আনন্দ, ভালো লাগা সব যেন আমরা ফিরে পেতে চাই নতুন করে। ধীরে ধীরে জীবন সায়াহ্নে চলে যাওয়ার সময়ও বন্ধুকেই আমরা পাশে চাই।
ছবিতে - ভাগ্য খাঁ ও মানসী সাহা
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্ধুত্ব
বন্ধুত্ব নিয়ে যত আলোচনাই হোকÑ এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে বন্ধুত্ব কখনও বয়স মানে না। শুধু সমবয়সি নয়, বয়স্কদের সঙ্গে কমবয়সিদের বন্ধুত্বও এখন স্বাভাবিক একটি বিষয়। একজন মানুষের সঙ্গে আরেকজন মানুষের মানসিক সম্পর্কের যে মেলবন্ধন, সেটাই মূলত বন্ধুত্বকে নির্দেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক অনলাইন পোর্টাল বেটারহেল্পের এক প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন একজন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার দারুণ একটি মাধ্যম হচ্ছে বন্ধুত্ব। বন্ধুরা একে অন্যের সঙ্গে সময় কাটান, নিজেদের ভালোভাবে বুঝতে পারেন, একে অন্যের কঠিন সময়ে পাশে থাকেন। কিছু বন্ধুত্ব খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন, সেক্ষেত্রে মানসিকভাবে চাপ বাড়ে। আধুনিক এ সময়ে বোঝা কঠিন, কে সত্যিকারের বন্ধু। তবু এসবের পরও বন্ধু বন্ধুই।
চল্লিশের পরের বন্ধুত্ব
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এসে নিজ ব্যবসায় থিতু হয়েছেন সাফিয়া হক। এখন আর সময় কোথায় আড্ডা দেওয়ার। ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন, গানও গাইতেন। কিন্তু সংসার, ব্যবসা, ব্যস্ততা সব ছাপিয়ে এসব আর করা হয়ে উঠছিল না তার। তবে বন্ধুদের মিস করতেন ভীষণ। এখন অনেকেই অন্য দেশে স্থায়ী। তাই সেভাবে যোগাযোগটাও নেই। সেই বন্ধুরা না থাকলেও নতুন করে ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকজন বন্ধু পেয়েছেন। তাদের মাঝে কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকুরিজীবী। তিন মাসে অন্তত একবার তারা চেষ্টা করেন দেখা করতে। আনন্দ-উল্লাসে সময়টা ভালোই কাটে তাদের। সাফিয়া বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বসলে সময় কীভাবে চলে যায় আমি বুঝতেও পারি না। সবাই যখন অনেক স্ট্রেসড হয়ে যাই, তখন সবাই অন্তত একবার বসে সময় কাটাই। দেখা যায়, কেউ হয়তো কিছু বলছি না। কিন্তু সবই বলা হয়ে যাচ্ছে। আসলে বন্ধুত্ব এমনই।’
ফ্যাশন ব্র্যান্ড ঈহার স্বত্বাধিকারী মৌরি নাজনীন বলেন, ‘এ বয়সে এসে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। স্টুডেন্ট লাইফের মতো এখন বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন দেখা হয় না, সেই এক্সপেক্টেশনও থাকে না। বরং এ বয়সের বন্ধুত্ব অনেক লিটমাস টেস্ট পার হয়ে আসে। এখন আমার বন্ধুটির সঙ্গে হয়তো দুমাসে এক দিনও দেখা হয় না, কথা হয় না সপ্তাহে এক দিন। কর্মজীবন, সংসার, সঙ্গে নানা দায়িত্ব মিলে আমরা কেউ-ই সেই আশা করি না। কিন্তু জানি মনে হয় কোনো প্রয়োজনে অথবা কোনো মন খারাপের দিনে চাইলেই তাকে পাশে পাব। তিনি হয়তো সামনে এগোতে কোনো হেল্পও করতে পারবেন না, কিন্তু পেছনে টেনে ধরবেন নাÑ এ বিশ্বাসটুকু আছে বলেই বন্ধুত্ব। এই জাজমেন্টাল সমাজের ফাঁক গলে বেরিয়ে এটা একটা খোলা জানালা, যেখানে মন খুলে আগপিছ হিসাব না করে কথা বলা যায়।’
পোশাক ও ছবি - রঙ বাংলাদেশ
পোশাক ও ছবি - রঙ বাংলাদেশ
রায়হান মালিকের গল্পটাও এমন। বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন অনেক বছর। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ছেলেমেয়েদের একা হাতে মানুষ করেছেন। সবাই এখন নিজ নিজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত। সবাই ভেবেছিল একাকী জীবনে হতাশ হয়ে পড়বেন তিনি। সবাইকে অবাক করে দিয়ে রায়হান মালিক বেঁচে আছেন হাসিখুশিভাবেই। এর প্রধান কারণ বন্ধুত্ব। তার বন্ধুরা প্রায় প্রতিদিনই তার বাসায় আসেন। সকালে হাঁটতে যান একসঙ্গে, সন্ধ্যার নাশতাটাও একসঙ্গে করেন সবাই। বন্ধুদের পরিবারের সদস্যরাও তাকে আপন ভাবেন। সারা দিন হাসিখুশিভাবে থাকার কারণে বিষণ্নতা তাকে খুব একটা হতাশ করতে পারেনি।
বয়স বাড়লেও বন্ধু হারায় নাÑ কথাটা বোধহয় এজন্যই বলা হয়। জীবনের বাঁকে বাঁকে হারিয়ে গিয়ে নিজেকে খুঁজে ফিরতেও তাই দরকার হয় বন্ধুর।
ডিজিটাল ফ্রেন্ডশিপ
আগে বন্ধুত্ব হতো সামনাসামনি দেখে, এক প্লেটে খাবার খেয়ে, এক মাঠে খেলতে গিয়ে। কিন্তু এখনকার বন্ধুত্বে এসব ছাড়াও ডিজিটাল ফ্রেন্ডশিপ দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে। সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধু বার্তা পাঠানোর পর কথা বলতে বলতে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তবে এভাবে যে সব সময় সঠিক বন্ধুত্ব হয়, তা নয়। কখনও কখনও বিপদও হয়। তাই এদিকে সাবধান থাকা জরুরি।
ছবিতে- নিনাদ , সানিন , অয়ন , সিমুম , শন্ত , প্রিয়ম
বন্ধুত্বের কিছু গল্প আবার অনেকটাই আলাদা। ডিজিটালি পরিচয় হওয়ার বদলে শুরুতে দেখা হয় আগন্তুক হিসেবে। এরপর আজীবনের বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে যায়। নিজের জীবনের এমনই এক গল্প বললেন সায়ান। চার বন্ধুর সঙ্গে দার্জিলিং বেড়াতে গিয়েছিলেন। বর্ডার পার হওয়ার পর তাদের সঙ্গে গাড়িতে করে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যান লিমা ও সোনিয়া। একই বাসে যাওয়ার সূত্রে কথাবার্তা থেকে তৈরি হয় বন্ধুত্ব। দার্জিলিংসহ অনেকগুলো জায়গা ঘুরে যখন দেশে ফিরে এসেছেন, তত দিনে লিমা সায়ানের বেশ ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছে। একসঙ্গে বন্ধুরা মিলে দেশ ও বিদেশে প্রায়ই ট্যুর দেন তারা। এই বন্ধুত্বের বয়সও সাত বছর পেরিয়েছে।
বন্ধু দিবসে ফ্যাশন
বছরজুড়ে উপলক্ষ বুঝে ফ্যাশনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে কাজ করা হয়। পোশাক, ব্যাগ, নানা অ্যাকসেসরিজ এমনকি হোম ডেকোর আইটেমও থাকে এর মাঝে। বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশ এবারের বন্ধু দিবস উপলক্ষ করে নিয়ে এসেছে পোশাক। সব বয়সি সবার জন্য বন্ধুত্বের থিমে করা ডিজিটাল প্রিন্টের স্পেশাল এই টি-শার্টগুলো তৈরি করা হয়েছে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার জন্য।
ঘড়ি এমন একটি অনুষঙ্গ, যেটি যেকোনো পোশাককেই বেশ দারুণভাবে কমপ্লিমেন্ট করে। বন্ধু দিবস উপলক্ষে YourZone পেইজে পাওয়া যাবে কোয়ালিটিফুল ব্র্যান্ডের ঘড়ি। Oliya, MOTF, olivia, Curren ছাড়াও ব্র্যান্ডেড ও নন-ব্র্যান্ডেড ঘড়ি পেয়ে যাবেন এখানে।
বন্ধু দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য সাটক এনেছে বাজেটের মধ্যে কাস্টমাইজড ব্লক পোশাক, পাঞ্জাবি, জামদানি শাড়ি, থ্রিপিস ও ওয়ানপিস। বন্ধু গ্রুপের সবার জন্য রয়েছে ফ্রেন্ডশিপ কম্বো (যেখানে শাড়ি, পাঞ্জাবি ম্যাচিং করে কাস্টমাইজ করে দেওয়া হবে)।
চুড়ির গল্প পেজে পেয়ে যাবেন বন্ধুকে দেওয়ার জন্য মোম দিয়ে তৈরি ফ্লাওয়ার বুকে, নানা নকশার সেন্টেড ক্যান্ডেল, জিপসামের তৈরি ছোট ট্রে, হাতে বানানো চুড়িসহ নানা উপহার। বন্ধু দিবস রঙিন করতে যেকোনো উপহারই দিতে পারেন।