× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দেশজুড়ে আমের পসরা

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫ ১৩:৫২ পিএম

দেশজুড়ে আমের পসরা

আগে বাড়ি বাড়ি আম-কাঁঠাল নিয়ে যাওয়ার যে চল ছিল, সেগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়। আগের মতো আয়োজন না হলেও থেমে থাকেনি আম খাওয়া। দেশের বিভিন্ন জায়গায় নানা জাতের আমের বেচাকেনা হচ্ছে। জাত ও আবহাওয়া অনুযায়ী এসব আমের দাম নির্ধারিত হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন নিজ নিজ জেলার আমের খবর

নওগাঁতে সুমিষ্ট আম্রপালি

জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মানেই হরেক রকমের রসালো ফলের সমাহার নিয়ে হাজির হয় বাংলার রূপ বৈচিত্র। আম, জাম, জামরুল, লিচু, কাঁঠাল, বনকাঁঠাল, আনারস, কচি তালের মিষ্টি রসালো শাঁস, খেজুর, বাঙ্গি, তরমুজে ভরপুর বাজার। বাজারজুড়ে এখন দেশীয় মৌসুমি ফলের রাজত্ব। পাকা ফলের ম ম গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। আদিকাল থেকেই বাংলায় জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ফল খাওয়ার রেওয়াজ। অনেকে এই মাসকে মধু মাস বলে থাকেন। দেশের উত্তর জনপদে ঐতিহ্যগতভাবেই এখন চলছে ফল উৎসব। বাড়িতে দই-চিড়া ও মুড়ির সঙ্গে পাকা ফলের রসে মেতে উঠেছেন ভোজনরসিকরা। শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইবাড়িতে যেত ফলের সাজন। আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল উৎসব না থাকলেও বাড়ি বাড়ি ছিল উৎসবের আমেজ। বর্তমানে জামাইবাড়িতে ফলের সাজন যাওয়ার বিষয়টি কম লক্ষ করা গেলেও ফল খাওয়ার কোনো কমতি নেই। আবার প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও ফল উৎসব করতে দেখা গেছে বেশ কিছু এলাকায়। 

নওগাঁর বিশিষ্ট নাট্যশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী মো. কায়েস উদ্দিন বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই ফল খাওয়ার ধুম পড়ে যেত। প্রতিটি বাড়ি বাড়ি দেখা যেত ফলের উৎসব। এ সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভার-শিখাই, গরুর গাড়িবোঝাই করে নানা ফলের সমাহারে সাজন নিয়ে যেত জামাইবাড়িতে। আবার যারা সাজন নিয়ে যায়, জামাইবাড়ির পক্ষ থেকে তাদের নতুন কাপড় দিয়ে সম্মানিত করারও চল ছিল। বর্তমানে সেই সব আর চোখে পড়ে না। আগে ফল উৎসব না হলেও সবার কাছে পরিচিত ছিল কোনটা কোন ফল। এখনকার ছেলেমেয়েরা ফলের নামই জানে না। আর এই আমের সঙ্গে পরিচয় ঘটাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে ফল উৎসব করছে অনেকেই। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে একুশে পরিষদ নওগাঁর উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব উৎসবের মানুষের উপচে পড়া ভিড়ও লক্ষ করা গেছে। 

অন্যদিকে মৌসুমি ফলের ব্যবসাও জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কচি তালের শাঁস রমরমা বেচাকেনা চোখে পড়ছে। এ বছর জোগানও ভালো। তবে জেলায় আম উৎপাদনে চাষিরা সবচেয়ে এগিয়ে এসেছে বেশি। ২০১৩ সাল থেকে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ শুরু হয়েছে। 

দেশের ধান-চাল উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে নওগাঁর পরিচিতি রয়েছে বেশ কয়েক যুগ ধরেই। এরই মধ্যে জেলার অর্জনের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে আম উৎপাদনে। ইতোমধ্যে স্বাদে ও উৎপাদনে পাশের রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ছাড়িয়ে গেছে নওগাঁ। জেলায় এবার প্রায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বিদেশিসহ নানা জাতের আম চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়েছে। এবার সেটি সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। 

জেলার সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ও দেশসেরা সুমিষ্ট আম্রপালি আম বাজারে আসে। ২৫ জুন ফজলি ও ব্যানানা ম্যাংগো, ১০ জুলাই থেকে সংগ্রহ করা যাবে আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌড়মতি। এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচণ্ড তাপদাহে ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম্রপালিসহ বেশ কিছু আম বাজারে চলে আসে। এতে করে সেই তুলনায় ক্রেতা না থাকায় আমের দরপতন ঘটছে। সময়ের আগে আম পেকে যাওয়ায় বাজারে প্রচুর আমের আমদানি হতে শুরু করে। এতে আমের দরপতন ঘটে। আমচাষিরা বলছেন, একদিকে আমের দরপতন, অন্যদিকে ঢলন প্রথার শিকার হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। বর্তমানে গত বছরের তুলনায় সব জাতের আম অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি মণ ল্যাংড়া ৮০০-১৫০০ টাকা, আম্রপালি ১৮০০-৩০০০ টাকা, নাক ফজলি ১২০০-১৮০০ টাকা, ব্যানানা ম্যাংগো ২৫০০-৩৫০০ টাকা, হিমসাগর ১২০০-১৬০০ টাকা, বারি-৪ ১৭০০-২২০০ টাকায় ও লোকনা (আশ্বিনা) ৫০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাঁড়িভাঙা আমের রাজত্ব 

১৭ জুন থেকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে শুরু করেছে দেশসেরা ‘হাঁড়িভাঙা’ আম। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন। পাইকাররা বাগান থেকে আম সংগ্রহ শুরু করেছেন। এবার খরতাপ ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হাঁড়িভাঙা আম পাকতে শুরু করেছে। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই বাজারে আসছে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পশ্চিমে এঁটেল মাটিবিধৌত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগানে প্রচুর পরিমাণ আমের ফলন হয়। স্বাদে অনন্য এই আমের দেশব্যাপী কদর রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুলেছেন স্থানীয় চাষিরা। স্বাদে-মানে অনন্য এই আম ইতোমধ্যে ‘জিআই’ স্বীকৃতি পেয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের জায়গীর বাসস্ট্যান্ড থেকে পশ্চিমে রানীপুকুর-এরশাদ মোড় সড়ক ধরে গেলে খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের দেখা মিলবে। এ গ্রামের মৃত নফেল উদ্দিনের হাত ধরে ২০ বছর আগে প্রথম হাঁড়িভাঙা আম বাজারে আসে। ধীরে ধীরে পাশের ময়েনপুর, চেংমারী, বালুয়া মাসিমপুর, রানীপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় হাঁড়িভাঙা আমগাছের চাষ হয়। পরে এসব এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে ওঠে।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার এই উপজেলায় ২৬ হাজার মেট্রিক টন হাঁড়িভাঙা ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মৌসুমে দেড় কোটি টাকার কেনাবেচা হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। এবার ৩টি দেশ ভারত, জার্মানি ও মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হবে ২০ থেকে ৩০ টন হাঁড়িভাঙা।

হাঁড়িভাঙার অন্যতম উৎপাদন এলাকা খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ বাজারে প্রতি বছর সবচেয়ে বড় হাঁড়িভাঙা আমের হাট বসে। এই হাটে আমের আকার ও মানভেদে প্রতি মণ দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

জমজমাট আম বাজার কানসাট 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের বাজারগুলো জমে উঠেছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় চলতি বছরে আমের ফলনও হয়েছে আশানুরূপ। ফলে জেলার কয়েকটি বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বিক্রি হচ্ছে আম। এদিকে পুরো জেলায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। চলতি মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৫০৪ হেক্টর জমিতে আম চাষাবাদ হচ্ছে। এতে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন।

দেশের সর্ববৃহৎ আম বাজার হলো কানসাট। সোমবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বাজারে গুটি, খিরশাপাতসহ ৬ রকমের আম বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রকমভেদে গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০০-২ হাজার টাকা পর্যন্ত, লক্ষণভোগ ৮০০-১১০০, ফজলি ৭০০-১১০০, খিরশাপাত দেড় হাজার থেকে ৪ হাজার, ল্যাংড়া ১২০০ থেকে আড়াই হাজার এবং আম্রপালি আম বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে-২৭০০ টাকা মণ দরে।

কানসাট আম আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছুদিন থেকেই আমের বাজার খারাপ ছিল। বৃষ্টিতে চাষিরা আম ভাঙতে পারেননি। চাষি ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। সব মিলিয়ে দুদিন থেকে কানসাট আম বাজারে কেনাবেচা ভালো হচ্ছে। চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। বর্তমানে কানসাট আম বাজারে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। পুরো জেলায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে।

আমের দরপতনে বেকায়দায় বাগানি ও ব্যবসায়ী

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার আম বাগানি রহমত উল্লা। লিজ নেওয়া বাগান থেকে আম ভেঙে ১০টি ক্যারেট ভরে ভ্যানে করে বানেশ্বর বাজারে নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার দুপুর দুটায় কথা হয় তার সঙ্গে। রহমত উল্লা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমের এত দরপতন হয়নি। এখন ল্যাংড়া, লখনা, আম্রপালি জাতের আমের সরবরাহ রয়েছে। ঈদের আগে লখনা ছিল মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়। খিরশাপাত ছিল ১৮০০, এখন তা ৮০০ টাকা মণ। ল্যাংড়া ছিল ১৬০০-১৭০০, এখন তা ৮০০-১২০০। এভাবে চললে তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। 

শুধু রহমত উল্লই নয়, রাজশাহীতে আমের দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছে সব বাগানী ও ব্যবসায়ীরা। বাজারে আম নিয়ে গেলেও ক্রেতা নেই। ঈদের আগে যে দাম ছিল ঈদের পর তা অর্ধেকে নেমে গেছে। রাজশাহীর ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুসারে, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি আম বাজারে নেমেছে। এ ছাড়া ২২ মে গোপালভোগ; রানীপছন্দ বা লক্ষণভোগ ২৫ মে; হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে; বানানা ম্যাংগো বা ল্যাংড়া ১০ জুন; আম্রপালি বা ফজলি ১৫ জুন; ৫ জুলাই বারি আম-৪; আশ্বিনা ১০ জুলাই এবং গৌড়মতি পাড়া নামেছে ১৫ জুলাই। ভেজার ও কেমিক্যালমুক্ত আম বাজারজাত করণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেয় কৃষি বিভাগ।

আম ব্যবসায়ী সুমন আলী বলেন, বাগান থেকে আম ভাঙতে ও ভ্যানে করে হাটে তুলতে লেবার খরচ হয় ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা। অনেকে ক্ষোভে বাগান থেকে আম পাড়ছেন না। বাজারে আমি নিয়ে যাওয়ার ওপর সারা দিন বনে থাকলেও ক্রেতা আসে না। এলেও আমের যে দাম বলে, তাতে মনে হয় ওকে মারি নয়তো নিজে মরি।

এবার আমের দাম কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় আম বাগানী হেদায়েত মিয়া বলেন, ঈদের আগে আমের চাহিদা ছিল। এর মাঝে অতিরিক্ত গরম পড়ায় আম সব একত্রে পেকে গেছে। এর ভেতরে ঈদের পর আমের চাহিদা কম। সবাই মাংস খাচ্ছে। বাজারে আমের জোগান বেশি ক্রেতা কম। এ কারণে আমের দরপতন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, চলতি বছর ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। এবার রাজশাহীতে আমের বাজার প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। 

ঠাকুরগাঁওয়ের সুনাম বাড়াচ্ছে সূর্যমুখী আম 

সূর্যপুরী আমের জন্য বিখ্যাত ঠাকুরগাঁও জেলা। এ জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় বা ইউনিয়নে আম বাগান রয়েছে। শুধু সূর্যপুরি না, বেশ কয়েক বছর ধরে এ জেলায় বিভিন্ন জাতের আম বাগান করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আর এ জেলায় সূর্যপুরি আমের পরিচিতি হয়েছে এশিয়া দেশের সবচেয়ে বড় ২২২ বছরের পুরনো সূর্যপুরি আমগাছটির জন্য। আর সে গাছটির অবস্থান ঠাকুরগাঁও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী মন্ডুলা গ্রামে। এবারও গাছটি অনেক বেশি পরিমাণ সূর্যপুরি আম এসেছে। যারা এই গাছটি দেখতে যায় তারা মূলত আম কেনে এবং বাজার থেকে এই গাছের আমের মূল্য বেশি। বর্তমানে সূর্যপুরি আম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা করে। 

ঠাকুরগাঁও রোড যুব সংসদ মাঠের আম আড়ৎদার আব্দুল হক বলেন, সারা দেশে ঠাকুরগাঁওয়ের সূর্যপুরি আমের চাহিদা অনেক। কেবল আম শুরু হয়েছে আসা। এখনও বড় বড় বাগান থেকে আম সংগ্রহ শুরু হয়নি। ক্ষুদ্র আম চাষিরা আমের জোগান দিচ্ছেন। বড় বড় আম বাগানগুলো থেকে আম আসা শুরু করলে আমের দাম একটু কমতে পারে।

কালীবাড়ি আম ব্যবসায়ী নাজমুল হক বলেন, এবার শুরুতে আমের দাম ভালো আর ফলন হয়েছে অনেক। বর্তমান সূর্যপুরি আম প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১১০০-১২০০, ল্যাংড়া প্রতি মণ ১৩০০-১৫০০, মিশ্রিভোগ ১২০০-১৪০০, লগদা ৮০০-১০০০, হাঁড়িভাঙা ১৫০০-১৭০০, হিমসাগর ১৪০০-১৬০০ টাকা ও গুটি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলায় সূর্যপরি আম বাগান রয়েছে ১৩৯টি। এ ছাড়াও অন্যান্য বাগান রয়েছে ৪০৫৬টি । মোট জমির পরিমাণ ৪৩৮৭০ হেক্টর। প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩.৫ টন আম। প্রতিবারের চেয়ে এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত চাষিদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে মৌসুমের শেষের দিকে আমে মাছির আক্রমণ হতে পারে। তাই আমরা কৃষকদের বেগিং করার পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করা যায় এবার চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।


লেখা সহযোগিতায় : মেহেদি হাসান শিয়াম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), এম আর ইসলাম রতন (নওগাঁ), মিল্লাত হাসান (মিঠাপুকুর রংপুর), রহিম শুভ (ঠাকুরগাঁও), রাজু আহমেদ (রাজশাহী)


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা