× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিতলির মেঘবন্ধু

জহিরুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৫ ১৪:১৯ পিএম

ছবিটি এঁকেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

ছবিটি এঁকেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

বর্ষাকাল এসে গেছে। এমন এক দিনে তিতলি ওদের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেঘ দেখছিল। মেঘ খুব ভালো লাগে তিতলির। মেঘ দেখতে সে ভালোবাসে। ভালোবাসে মেঘের ছবি আঁকতে। হঠাৎ তার চোখে পড়ল, ছোট্ট একটুকরো মেঘ তার একদম কাছাকাছি চলে এসেছে। সে লাফিয়ে লাফিয়ে একবার এদিকে যাচ্ছে, তো পরক্ষণেই আরেকদিকে যাচ্ছে। তার হাবভাব দেখে তিতলির মনে হলোÑ সে পথ হারিয়েছে অথবা কিছু একটা খুঁজে বেড়াচ্ছে।

বেশ কিছুক্ষণ খেয়াল করার পর তিতলি একটু চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল, কী ভাই মেঘ, তুমি কি পথ হারিয়েছ? নাকি কাউকে খুঁজছ? 

এবার একটু স্থির হলো মেঘের টুকরোটি। সে আরও কিছুটা কাছে চলে এলো তিতলির। তার পর বলল, তা দুটোই বলতে পার তিতলি। পথও হারিয়েছি, আবার কাউকে খুঁজছিও। অন্য মেঘদের সঙ্গে চলতে চলতে একজায়গায় একটু থেমেছিলাম আমি। বলতে পারো, রংধনুর প্রেমে পড়েছিলাম। তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম তার রঙের বাহার। হঠাৎ দেখলাম আমার সঙ্গীরা সব হাওয়া। সেই থেকে তাদের খুঁজছি। তা ছাড়া ছোট্ট মেঘ আমি। তাদের ছাড়া কোথায় যাব, কী করব, কিছুই ঠিক করতে পারছি না। 

তিতলি বলল, একদম চিন্তা করো না। আমার কাছে যখন এসেই পড়েছ, একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ছোট্ট মেঘ বলল, কীভাবে? 

তিতলি বলল, একটু সবুর করো। আমি এক্ষুনি আসছি। 

এই বলে তিতলি বাসার ভেতরে গিয়ে তার ছবি আঁকার খাতা আর রঙ-পেনসিলগুলো নিয়ে এলো। তারপর বলল, তুমি নিশ্চয় তোমার সঙ্গীদের ঠিক ঠিক বর্ণনা দিতে পারবে, তাই না? তারা দেখতে কেমন, কেমন রঙ তাদের। কী, পারবে না?

অবশ্যই পারবÑ বলল ছোট্ট মেঘ।

তাহলে বসো আমার পাশেÑ তিতলি বলল।

মেঘ বলল, আমি তো বসতে পারি না। একমাত্র উড়ে বেড়াতেই পারি আমি। 

তিতলি বলল, কোনো সমস্যা নেই। তুমি আমার আশপাশে উড়তে থাক আর দেখো আমি কী করি। 

তিতলির ছবি আঁকার খাতার পাতাগুলো বেশ বড় বড়। অন্তত অন্য খাতার পাতার চেয়ে বড়। সে তার ছবি আঁকার খাতায় প্রথমে আকাশ আঁকল। তারপর রংধনু আঁকল। বেনীআসহকলার সবগুলো রঙ সে রংধনুতে দিল। 

বেনীআসহকলা কাকে বলে, কিছুদিন আগেও জানত না তিতলি। একদিন এই ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রংধনু দেখছিল সে। তখন মা তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন বেনীআসহকলা মানে কী।

বেনীআসহকলা মানে হলোÑ বেগুনি, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা আর লাল। 

বে মানে বেগুনি।

নী মানে নীল।

আ মানে আসমানি।

স মানে সবুজ।

হ মানে হলুদ। 

ক মানে কমলা। 

লা মানে লাল। 

মা বলেছিলেন, এই রঙগুলোই রংধনুতে একটার পর একটা সাজানো থাকে। মনে রাখার সুবিধার জন্য এই সাত রঙের প্রথম অক্ষরগুলো সাজিয়ে বলা হয়, বেনীআসহকলা। 

আকাশ আর রংধনু আঁকার পর তিতলি ছোট্ট মেঘকে জিজ্ঞেস করল তার সঙ্গীরা কেমন ছিল। 

ছোট্ট মেঘ তার সঙ্গীদের বর্ণনা দিল। তিতলি ঠিক তেমন করেই মেঘ আঁকল। 

তিতলির কাণ্ডকারখানা দেখে ছোট্ট মেঘ তো অবাক। তাকে আরও অবাক করে দিয়ে তিতলি করল কী, ছোট্ট মেঘকে ধরে এনে ছবির সেই মেঘদের মধ্যে ছেড়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে হইহই করে উঠল ছোট্ট মেঘ। তিতলির আঁকা মেঘেরাও ছোট্ট মেঘকে পেয়ে আনন্দে নেচে উঠল। তাদের মধ্যে একজন বলল, কী রে ছোটু! কোথায় ছিলি এতক্ষণ? তোকে খুঁজতে খুঁজতে আমরা যে হয়রান হয়ে গেলাম। 

ছোট্ট মেঘ বলল, একটু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রংধনুর রঙ দেখছিলাম। এই ফাঁকে তোমরা যে কোথায় হারিয়ে গেলে! আমিও তো তোমাদের খুঁজে খুঁজে হয়রান। ভাগ্যিস তিতলি বন্ধুকে পেয়ে গেলাম। আর সে তোমাদের খুঁজে বের করে আনল তার খাতায়। নইলে কোথায় যেতাম কে জানে?

ছোট্ট মেঘ তিতলিকে বলল, তিতলি বন্ধু, কী বলে যে তোমাকে ধন্যবাদ দেব বুঝতে পারছি না। 

তিতলি বলল, ধন্যবাদ দিতে হবে না বন্ধু। তুমি যে আমাকে বন্ধু বলে স্বীকার করেছ এটাই যথেষ্ট! বন্ধুর জন্য এইটুকু যদি না করতে পারি, তাহলে তোমার কেমন বন্ধু হলাম!

ছোট্ট মেঘ বলল, আজ আমি চলে যাচ্ছি বন্ধু। এরপর থেকে প্রতিদিন তোমার সঙ্গে গল্প করতে আসব। আর আমি একটু বড় হই, তারপর তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাব। কী, তুমি যাবে না আমার সঙ্গে ঘুরতে?

তিতলি বলল, অবশ্যই যাব। তবে মা যেন টের না পায়। তাহলে কিন্তু যেতে দেবে না।

ছোট্ট মেঘ বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। এবার আমি যাই, কেমন? আজকের মতো বিদায় বন্ধু।

এতক্ষণ ধরে তিতলি কথা বলছিল তার ছবি আঁকার খাতার দিকে চেয়ে চেয়ে। ছোট্ট মেঘ বিদায় বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিতলি দেখল, তার খাতার যে পাতাটায় এতক্ষণ আকাশ ছিল, রংধনু ছিল, মেঘ ছিল, সেগুলো কিচ্ছু নেই। পুরো পাতাই সাদা হয়ে গেছে। দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেল তিতলির। কিন্তু মুহূর্তেই আবার ভালো হয়ে উঠল তার মন। তার মেঘবন্ধু যে বলে গেছে, এখন থেকে প্রতিদিন তার কাছে আসবে। তার সঙ্গে গল্প করবে। এমনকি তার সঙ্গে বেড়াতেও নিয়ে যাবে। তার মানে নিশ্চয় তার মেঘবন্ধু আবার আসবে। মেঘেরা তো আর মানুষ নয় যে মিথ্যা কথা বলবে!

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা