লেখা ও আঁকা : সিম্মল ধূলি
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৫ ১২:২২ পিএম
অনেক দূরে একটা বড় গ্রাম। গ্রামটার নাম অনন্তনগর। ওই গ্রামে অনেক বাচ্চা থাকত। ওদের মধ্যে কিছু বাচ্চা ১০-১১ বছরের হবে। ওরা চিন্তা করল একদিন কোথাও ঘুরতে যাবে। ওরা পাঁচজন যাবে। তাদের নাম অনুসূয়া, ঝুমকো, ঝিনুক, প্রাচ্য ও কাব্য। পরদিন সকালবেলা ওরা ঘুরতে বের হলো। প্রথমে ওরা একটা নদীর পাড়ে গেল। নদীর মধ্যে একটা নৌকা বাঁধা ছিল। ওরা ওই নৌকাতে করে নদীর মাঝখানে গেল। নৌকাটা চালাচ্ছিল প্রাচ্য। কিছুক্ষণ পর ওরা নদী পার হলো। ওটা ছিল একটা গ্রাম। তখন রাত হয়ে গিয়েছিল। এজন্য ওরা একজন বুড়িমার ঘরে গিয়ে রাতে ঘুমাল। বুড়িমা তাদের ঘুমাতে দিল। পরদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে কিছু না খেয়ে আবার বের হলো। এখন ওরা চিন্তা করল ওরা পাহাড়ে যাবে। প্রথম যাবে একটা ছোট পাহাড়ে। তারপর যাবে একটা অনেক বড় পাহাড়ে। তারপর ওরা হাঁটতে হাঁটতে ছোট পাহাড়টার একদম নিচে চলে এলো। হাঁটতে হাঁটতে ওরা একদম ক্লান্ত হয়ে গেল। তখন ঝিনুক বলল, চল পাহাড়ে উঠি। তারপর ওরা সবাই মিলে পাহাড়ে ওঠা শুরু করল। উঠতে উঠতে ওরা একদম পাহাড়ের ওপরে উঠে গেল। পাহাড়ের ওপরে তিন-চারটি বাড়ি। তখন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো। ওরা তাড়াতাড়ি একটি বাড়ির নিচে গিয়ে দাঁড়াল। যাতে বৃষ্টিতে না ভেজে। ওই বাড়ি থেকে তখন একটা বাচ্চা মেয়ে বেরিয়ে এলো। তখন বৃষ্টি থেমে গেল।
মেয়েটি বলল, তোমাদের
নাম কী? তোমরা এখানে কেন এসেছো? তারপর ওরা একজন একজন করে ওদের নাম বলল। ওরা বলল, আমরা
এখানে ঘুরতে এসেছি। মেয়েটি বলল, তোমরা দুপুরের খাবার খেয়েছো? ওরা বলল, না আমরা এখনও
খাইনি। মেয়েটি তখন তাদের বলল, চলো আমার বাড়িতে আজ তোমরা খাবে এবং থাকবে। ওরা সবাই রাজি
হলো। তারপর ওরা খাওয়াদাওয়া শেষ করে পাহাড়ের ওপরে অনেকক্ষণ ঘুরল। তখন প্রায় রাত হয়ে
গেল। তারপর ওরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। এর পরদিন ওরা সকালবেলা কিছু না খেয়ে রওনা
দিল বড় পাহাড়ের দিকে। ওরা আস্তে আস্তে পাহাড় থেকে নামল। তারপর হাঁটতে হাঁটতে অনেকক্ষণ
পর ওই বড় পাহাড়টার নিচে এসে দাঁড়াল। ওরা সবাই এত ক্লান্ত হলো যে সবাই মাটিতে বসে পড়ল।
আর ওদের অনেক খিদে লাগল। অনুসূয়া দেখল পাশে একটা কলা গাছ। অনুসূয়া আর কাব্য মিলে সবার
জন্য একটি করে কলা এনে দিল এবং নিজেরাও খেলো। ওরা তাড়াতাড়ি কলা খেয়ে আবার ওই পাহাড়ে
ওঠা শুরু করল। অনেকক্ষণ পর ওরা পাহাড়ের ওপরে উঠে গেল। ওপরে উঠে ওরা তো অবাক। সবাই মিলে
বলল, এত সুন্দর প্রজাপতির বাগান! ওখানে অনেক প্রজাতি ছিল আর পুরো পাহাড় ছিল প্রজাপতি
দিয়ে ঢাকা। তখন ঝুমকো গান ধরল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই ধরল গান।
‘সুন্দর সুন্দর
প্রজাপতির বাগান
কত কত প্রজাপতি
গায় কত গান।
মধু খেতে যায়
ফুলে ফুলে
পাতায় পাতায় ঝুলে
ঝুলে।
প্রজাপতি গেল
নদীর পাড়ে
উড়ে উড়ে ঘুরে
ঘুরে।
প্রজাপতির ডানায়
নীল হলুদ মালা
এবার খেলায় তোমার
আমার পালা।
সুন্দর সুন্দর
প্রজাপতির বাগান
কত কত প্রজাপতি
গায় কত গান।’
গাইতে গাইতে ওদের
গায়ে গায়ে প্রজাপতি এসে বসল। ওরা সবাই এত সুন্দর জায়গা দেখে খুব খুশি হলো। একদম রাত
হয়ে গেল। ওরা কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে গেল প্রজাপতির বাগানে। সকালবেলা উঠে বাড়ি যাওয়ার
জন্য ওরা রওনা দিল। যেভাবে এসেছিল, সেভাবেই আবার বাড়ি ফিরে এলো।
চতুর্থ শ্রেণি, নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা