সুমাইয়া খানম
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:৩০ পিএম
শিশুর সর্বপ্রথম পাঠশালা হচ্ছে পরিবার। ছোট থেকেই পরিবারের সব খুঁটিনাটি দেখে শেখে শিশুরা। গবেষণা বলে, সাত বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা বড়দের দেখে সবকিছু অবিকল অনুকরণ করতে থাকে। তাই এ বয়সেই শিশুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে।
সঞ্চয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচয় করানো
আমাদের জীবনে টাকাপয়সার হিসাবও যেহেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই শৈশবেই বাচ্চাদের টাকাপয়সা ম্যানেজমেন্টের বিষয়গুলোর সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর জন্য কিছু পরিমাণ টাকা জমানোর মাধ্যমে সঞ্চয় প্রক্রিয়ার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া জরুরি। তবে সঞ্চয় শুধু কেবল টাকাই না, ছোট যেকোনো জিনিস দিয়ে এ জমানোর প্র্যাকটিস করানো যেতে পারে। যেমন আপনি বললেন, তুমি প্রতিদিন দুটি করে ক্যান্ডি জমাও, সপ্তাহ পর দেখবে অনেক ক্যান্ডি জমে গেছে। স্কুলগামী বাচ্চাদের যে পকেটমানি দিচ্ছেন সে পকেটমানি থেকে সে কীভাবে এক-দুই টাকা করে জমাতে পারে এবং অনেক দিন পর ব্যাংক খুলে দেখল অনেক টাকাÑ এ গ্রোথের প্রক্রিয়াগুলো বাচ্চাদের শেখাতে পারেন।
গিফট দিয়ে উৎসাহ দেওয়া
সঞ্চয়ের ব্যাপারে আরও আগ্রহী করে তুলতে বা উৎসাহ দিতে ছোটখাটো গিফটও দেওয়া যেতে পারে। যেমন মাসিক একটা টার্গেট দিলেন বাচ্চাটিকে জমানোর, টার্গেট পূরণ করতে পারলে তার যেকোনো ছোটখাটো শিশুসুলভ ইচ্ছা পূরণের মাধ্যমে তাকে এ কাজে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করার এক ধরনের বড় সুযোগ রয়েছে।
মিতব্যয়িতা বোঝানো
সঞ্চয়ের সঙ্গে অনেক বেশি ওতপ্রোত জড়িত আরেকটি ফ্যাক্টর হচ্ছে মিতব্যয়িতা। অনেক ব্যয় করে যেহেতু কখনও সঞ্চয়ের পথে এগোনো সম্ভব নয়, তাই মিতব্যয়ী হওয়ার মাধ্যমেই সঞ্চয়ের পথ সহজ হয়। এ ক্ষেত্রে শিশুদের ছোট থেকেই প্রয়োজন ও চাহিদা বা শখের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখান। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু মেটানোর পর ঠিক কতখানি চাহিদা বা ইচ্ছা পূরণ করা যাবে সে ব্যাপারে তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। শিশুরা যেহেতু অনুকরণপ্রবণ, তাই নিজেও অযথা যেকোনো জিনিস কেনা বা খরচের খাতের দিকে মনোযোগ দিন, যাতে আপনার মধ্যেই কথা ও কাজের ফারাক তৈরি না হয়ে যায়।
দায়িত্ব দিন
সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রসঙ্গে আপনি কীভাবে তার খেয়াল রাখছেন, তার জন্য কী কী করছেন, একটি পরিবারে কার কন্ট্রিবিউশন কী এগুলো ছোট থেকেই তাকে বোঝানো শুরু করুন। ছোটখাটো ব্যাপারে তাকেও দায়িত্ব দেওয়া শুরু করুন। যার ফলে শিশুটির মধ্যেও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে, যেটি কি না সঞ্চয়ের ব্যাপারে আরও সাহায্য করবে।
সঞ্চয়ের গুরুত্ব বোঝান
যেকোনো জিনিস সঞ্চয় বা বুঝেশুনে ব্যবহারের উপকারিতা শিশুকে যখন বোঝাবেন, তার পাশাপাশি টাকা কেন সঞ্চয় করার অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর সে ব্যাপারে ধারণা দিতে বড়দের জীবনের যেকোনো সমস্যা বা ঘটনা তুলে সেটি কাটিয়ে আসার একটি উপাদান হিসেবে সঞ্চয়ের টাকার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে পারেন। যেমন কারও চাকরি চলে যাওয়া, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটা, চুরি-ডাকাতি হওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসার কাজে লাগা ইত্যাদি।
যেভাবে সঞ্চয়
শিশুরা তাদের সঞ্চয় মাটির ব্যাংক, পিগি ব্যাংক বা যে কোনো আকৃতির ব্যাংকে রাখতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পর এই ব্যাংক ভেঙ্গে শিশুর পছন্দের যে কোনো জিনিস কিনে দিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি নিকটবর্তী কোনো ব্যাংকে সঞ্চয়ের হিসাব খুলতে পারেন। করতে পারেন জীবন বীমা বা স্বাস্থ্য বীমা। এতে শিশুদের সঞ্চয় ধীরে ধীরে বাড়বে, সেই সাথে ব্যাংকিং কার্যাবলী কীভাবে সম্পাদিত হয় সেটাও তারা শিখবে ছোটবেলাতেই। অনেকেই শিশুর নামে ফলোজ বা বনোজ গাছ লাগান। সঞ্চয়ের এটাও একটি দারুণ উপায় হতে পারে।
শিশু যদি সঞ্চয়ের লক্ষ্য অর্জন করে তবে মন খুলে প্রশংসা করুন। হাতখরচের টাকা পুরোটা খরচ না করে কিছুটা জমানো প্রয়োজন এ প্রবণতা টিনএজের মধ্যে আনা উচিত। অনেকে আবার কোনো খরচ না করে পুরোটাই জমিয়ে রাখে। এটি করতে দেওয়া যাবে না। জীবন নির্বাহ ও সঞ্চয়ের মধ্যে ভালো ব্যালান্স থাকা জরুরি। ভবিষ্যতের জন্য টাকা লাগবে কিন্তু সবটা দিয়ে নয়। আপনার সন্তান যদি পছন্দের খেলনা, পোশাক কিংবা মোবাইল কেনার জন্য টাকা জমায়, তাহলে তার প্রশংসা করুন। মোট কথা আপনার অনুপ্রেরণা, সমর্থন সন্তানকে সঞ্চয়ী হতে সহায়তা করবে।