× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঈদ আনন্দ লাগল পোশাকে

সাদিয়া সিদ্দিকা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৫ ১৩:৩৪ পিএম

ঈদ আনন্দ  লাগল পোশাকে

ঈদের আনন্দ অনেকটাই জুড়ে থাকে ঈদ কেন্দ্র করে কেনা নতুন পোশাকে। প্রতিবারই ঈদ ফ্যাশনে মেয়েদের পোশাকে আসে নান্দনিক পরিবর্তন। ট্র্যাডিশনাল এবং ট্রেন্ডি ডিজাইনের সংমিশ্রণে তৈরি হয় বৈচিত্র্যময় যত কালেকশন। এসব পোশাকে যেমন স্টাইলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তেমন সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় স্বাচ্ছন্দ্যবোধকেও। ঈদ ফ্যাশনে মূলত প্রাধান্য দেওয়া হয় ট্রেন্ডি পোশাকে। মেয়েদের ঈদ পোশাক নিয়েই এবারের আয়োজন।

লম্বা কুর্তি ও পালাজো

আরামদায়ক ও স্টাইলিশ লুকের জন্য লম্বা কুর্তির সঙ্গে পালাজো বা ফ্লেয়ার্ড প্যান্ট বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। কটন, লিনেন, জর্জেট ও শিফনের মতো হালকা কাপড়ের কুর্তিগুলোতে ফ্লোরাল ও এমব্রয়ডারি কাজ বেশ দেখা যাচ্ছে। মেয়েদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে এ পোশাকগুলো।

ট্র্যাডিশনাল শাড়ির নতুন মোড়ক

ঈদে শাড়ির কদর সব সময়ই বেশি। তবে এ তালিকা থেকে কোনোভাবেই বাদ যাচ্ছে না বাঙালির পছন্দের পোশাক শাড়ি। কটন, মসলিন এবং সিল্কের শাড়ির পাশাপাশি অর্গানজা ও হ্যান্ডপেইন্টেড শাড়ির চাহিদা ইদানীং বেশ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণীদের মধ্যে বেল্টেড শাড়ি ও লেয়ার্ড ড্রেপিং স্টাইলের শাড়িও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

ওয়েস্টার্ন টাচ ও ক্যাজুয়াল লুক

অনেকেই ঈদে ক্যাজুয়াল ও ফিউশন পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাই কুর্তির সঙ্গে ডেনিম, স্ট্রেইট কাট প্যান্ট ও স্কার্টের কম্বিনেশন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এ ছাড়া পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং অ্যাকসেসরিজ যেমন ব্যাগ, জুয়েলারি ও স্টাইলিশ স্যান্ডেলের দিকেও নজর দিচ্ছেন। ট্র্যাডিশনাল ঝুমকা, ছোট পার্স ও হ্যান্ডক্রাফটেড জুয়েলারির চাহিদা তুলনামূলক বেড়েছে।

ট্রেন্ডি সালোয়ার-কামিজ

সালোয়ার-কামিজের আবেদন কখনোই কমার নয়। আরামদায়ক অনুভূতি, স্বাচ্ছন্দ্য, বাহারি রঙ, নিত্যনতুন নকশা সব মিলিয়ে সালোয়ার-কামিজের চাহিদা রয়েছে আগের মতোই। বাহারি লেইস, কাটআউট, ডাই, সুচের নকশা, ব্লক, এমব্রয়ডারি সব ধরনের কাজই দেখা যাচ্ছে এবারের কামিজগুলোতে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঈদের পোশাক 

বাংলাদেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো এবারের ঈদে মেয়েদের পোশাকে এনেছে চমৎকার সৃষ্টিশীলতা। বাহারি নকশায় সুসজ্জিত এসব পোশাকে দেখা গেছে ভিন্ন ধারার কারুকাজ।  

রঙ বাংলাদেশ

বাংলাদেশে মেয়েদের পোশাক ব্র্যান্ডে পছন্দের তালিকায় রয়েছে রঙ বাংলাদেশের নাম। ‘দেশের পোশাকে দেশের উৎসব’ এ স্লোগান সামনে রেখে এ ব্র্যান্ডটি এবারের ঈদে নিয়ে এসেছে চমৎকার নকশার পোশাক। মেয়েদের নান্দনিক পোশাকের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, সিঙ্গেল কামিজ, টিউনিক, টপস, ওড়না, রেডি ব্লাউজ, ব্লাউজপিস, আনস্টিচড থ্রি-পিস ইত্যাদি। সুতি, স্লাব কটন, জ্যাকার্ড কটন, লিনেন, হাফসিল্ক, জর্জেট, ভিসকস, বারফির মতো কাপড় দিয়ে ঈদ পোশাকগুলো তৈরি করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে ব্র্যান্ডটি কাজ করেছে চমৎকার কিছু পোশাক নিয়ে; যা ঈদ আনন্দ বাড়িয়ে দিতে পারবে আরও এক ধাপ।

বিশ্বরঙ

এবারের ঈদের পোশাক নিয়ে নানা রঙে নানা আকর্ষণে বর্ণিল সাজে সেজেছে বিশ্বরঙ। প্রতি ঈদেই ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য নতুন ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের পোশাক উপস্থাপন করে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এ ফ্যাশন ব্র্যান্ডটি। এবারের ঈদেও মেয়েদের জন্য তাদের কালেকশন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্বরঙের এবারের ঈদ কালেকশনে রয়েছে ডিজিটাল প্রিন্ট, প্যাচওয়ার্ক, ব্লকের সালোয়ার-কামিজ, কুর্তিসহ নানা রঙের আকর্ষণীয় শাড়ি। উজ্জ্বল ও নরম রঙের সমন্বয়ে তৈরি পোশাকগুলোতে ট্র্যাডিশনাল ও আধুনিক নকশার মিশেল দেখা যাবে বিশ্বরঙের এ পোশাকগুলোতে। সুতি, সিল্ক, জর্জেট, মসলিনসহ বিভিন্ন উচ্চমানের কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে আরামবোধে থাকবে না কোনো কমতি। বিশ্বরঙের এবারের ঈদের অন্যতম আকর্ষণ বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও তাদের আঁকা ছবি দিয়ে তৈরি শাড়ি। স্টারি নাইট, সানফ্লাওয়ার, ফ্রিদা কাহলোকে নিয়ে তৈরি করা শাড়িগুলো এবার নজর কেড়েছে আলাদাভাবে। প্রতিটি শাড়ি নিজ নিজ মহিমায় অনন্য হয়ে উঠেছে নকশার খাতিরে। বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহা জানান, ‘দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক কাপড় যেমন সুতি, ধুপিয়ান সিল্ক, তসর সিল্ক, লিনেন, কাতান, জ্যাকার্ড কাপড় ব্যবহার করেছে, রঙের ব্যবহারেও কনট্রাস্ট কালারের পাশাপাশি রঙের ম্যাচিউরড টোনের পরিমিত ব্যবহার লক্ষণীয়। কাজের মাধ্যম হিসেবে রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, ডিজিটাল প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি, কম্পিউটার এমব্রয়ডারি, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কারচুপি, নকশিকাঁথা জারদৌসিসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল।’  

সেইলর

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় আরও একটি ব্র্যান্ড সেইলর। ছেলেদের পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের পোশাকে প্রতি বছরই তাদের নান্দনিকতা চোখে পড়ার মতো। থ্রি-পিস থেকে শুরু করে কাফতান, ফ্রক, গাউনের নানা সমাহার যেন ঈদ আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। এবারের ঈদে ব্র্যান্ডটি নিয়ে এসেছে আরও নতুন নতুন চমক। বাহারি রঙের এসব পোশাকে শোভা পাচ্ছে নতুন ট্রেন্ডি পোশাকের বাহার। সঙ্গে রয়েছে রাজকীয় পোশাকের চোখ ধাঁধানো ডিজাইন, যা আপনাকে ঈদে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়।

ফ্যাশনে নিয়ে আসুন কমফোর্ট জোন

ঈদের দিনে আরামের জন্য লাইটওয়েট ও সফট ফেব্রিকের পোশাক বেছে নেওয়া ভালো। ম্যাচিং বা কনট্রাস্টিং হিজাব, ব্যাগ ও জুয়েলারির মাধ্যমে লুক কমপ্লিট করা যায়। কমফোর্ট ও স্টাইলের মধ্যে ব্যালান্স রেখে পোশাক নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আরামের জন্য বেছে নিতে পারেন সুতি কিংবা কটন ফেব্রিকের পোশাক। তাতে ঈদ কাটবে আরামদায়কভাবে।

পছন্দের পোশাকে এমব্রয়ডারি

পছন্দের ব্র্যান্ড থেকে পছন্দের পোশাক কেনার অফুরন্ত সুযোগ থাকলেও অনেক মেয়েই চান নিজস্ব নকশায় পোশাক বানাতে। ব্লক, বাটিক, কাঁথা সেলাই, হ্যান্ডপেইন্টের পাশাপাশি নিজস্ব নকশায় এমব্রয়ডারি করার চাহিদা এখন অনেক বেশি। এমব্রয়ডারি করার জন্য চলে যেতে পারেন ঢাকার নিউমার্কেটের প্রিয়াঙ্গন শপিং মলে।

এমব্রয়ডারিতে সাধারণত রেশমি সুতাই বেশি ব্যবহার করা হয়। কারচুপির কাজে স্প্রিং, পাইপ, চুমকিসহ আরও নানা জিনিসের ব্যবহার দেখা যায়। নিজের পছন্দমতো কেবল শাড়ি নয়, ব্লাউজেও করা যায় আকর্ষণীয় এসব এমব্রয়ডারি।

সাধারণত সিল্ক, মসলিন, টিস্যু, অরগাঞ্জা, কটন, ভেলভেট ইত্যাদি ফেব্রিকে করা হয় এ রাজকীয় কাজগুলো। থ্রি-পিস, বোরকা এমনকি পছন্দের শাড়িতেও নান্দনিক ডিজাইনের বাহার দেখা যায়। এমব্রয়ডারির চাহিদা সারা বছর লেগে থাকলেও সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ঈদের সময়। আর আসন্ন ঈদে তাই এ এমব্রয়ডারির দোকানগুলোতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ভিড় দেখা গিয়েছে। ধানসিঁড়ি ফ্যাশনের কর্মচারী সৌরভ জানান, এমব্রয়ডারির কাজ শুরু হয় ২ হাজার টাকায় এবং সর্বোচ্চ এর দাম ১ লাখ টাকা পর্যন্তও হতে পারে। নিজের মতো পছন্দ করে ডিজাইন করে নেওয়া যায় বলে অধিকাংশ মেয়েই এমব্রয়ডারি পোশাক বেছে নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। জানা যায়, কারিগরের অভাবে কাজের চাপ বেশি থাকায় চাহিদামাফিক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। 

যদিও সারা বছরই এর চাহিদা থাকে, তবু ঈদ এবং বিয়ের মৌসুমে এর চাহিদা অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়। বিয়ের শাড়িতে সাধারণত মসলিন এবং জামদানির চাহিদা বেশি এবং এসব শাড়িতে এমব্রয়ডারির কাজ পছন্দ করেন অনেকেই। যার কারণে বিয়ের মৌসুমগুলোতে ব্যস্ত থাকেন এসব কর্মচারী।

নিজের পছন্দমতো ডিজাইন করিয়ে নেওয়া যায় বলে অনেকের কাছেই এটি পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। অনেকের কাছে আরামদায়কও। তবে সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে নিজেদের পছন্দমতো ফেব্রিক ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। যদি রেডিমেড পোশাকের বাইরে মনে করেন নিজস্ব নকশায় সবার চেয়ে আলাদা করে কিছু বানাবেন সে ক্ষেত্রে এমব্রয়ডারি অপশনটি রাখতেই পারেন।


মডেল : তানজিদা, জলি, জারা

ছবি ও পোশাক : বিশ্বরঙ


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা