নবনী আহমেদ
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৫ ১৩:০২ পিএম
আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৫ ১৩:১১ পিএম
রমজান বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের সিয়াম সাধনার মাস। একদিকে সারা দিন রোজা রেখে ইফতারিতে নানান মুখরোচক খাবার গ্রহণ, অন্যদিকে চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনে অনেক সময়ই বিভিন্ন শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। কিছুটা ওজন বৃদ্ধিও হতে পারে। সে কারণে শরীরচর্চা বা ব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। তবে হ্যাঁ, এ সময়ে অন্য সময়ের মতো করে নয়, আপনার ব্যায়ামে কিছুটা পরিমার্জন এবং সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।
রোজায় কীভাবে ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখতে পারেন তা নিয়েই আজকের লেখা। যারা নিয়মিত ব্যায়ামে অভ্যস্ত তারা যেন রমজানেও শরীরচর্চা থেকে দূরে সরে না যান এবং যারা নতুন তারাও যেন কিছুটা সহজ অথচ কার্যকর উপায়ে ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন সে বিষয়টিই আজকের উপজীব্য।

১. রমজানে শরীরচর্চার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো সময়। আমরা সচরাচর সকালের সময়টিই ব্যায়ামের জন্য বেছে নিই। কিন্তু রোজায় এ সময়ে না হেঁটে শেষ রাতে খাবারের পর, ইফতারের পর কিংবা তারাবির নামাজের পর ব্যায়াম অনুশীলন করা উচিত। বেশি দূরত্বে না হেঁটে অল্প দূরত্বে হাঁটুন। কিছু সময় পরপর বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারেন।
২. সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে কিছুটা ক্লান্তিভাব আসতে পারে। তাই ইফতারের আগে শরীরচর্চা না করাই ভালো। যদি জিমে যান, তাহলে ভারী ব্যায়াম না করে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।
৩. রোজায় অবশ্যই হালকা ব্যায়াম করতে হবে। কারণ এ সময়ে শরীরে এমনিতেই পানিশূন্যতা দেখা দেয়। বেশি ঘাম ঝরলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৪. শেষরাতে খাবারের পর মিনিট দশ-পনেরো হাঁটাহাঁটি করে নিতে পারেন। ইফতারের খাওয়াদাওয়ার পর শরীর ভারী হয়ে আসে। সঙ্গে সঙ্গেই ব্যায়াম না করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে চাইলে হালকা কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। তারাবির নামাজ একটি চমৎকার শরীরচর্চা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আপনি চাইলে নামাজ শেষে মিনিট বিশেক হেঁটেও নিতে পারেন।
৫. যারা পুশআপ, বুকডন, সাইক্লিংয়ে অভ্যস্ত তারা ব্যায়ামের সময় কিছুটা কমিয়ে আনুন।
৬. রোজা রেখে হালকা ও মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করা যেতে পারে। হাঁটা, ধীরগতিতে জগিং করা, ওজন উত্তোলন করা, সাঁতার কাটা, সাইক্লিংয়ের মতো মৃদু মাত্রার ব্যায়াম করতে কোনো বাধা নেই।
৭. যেসব শরীরচর্চায় হৃৎস্পন্দনের গতি মিনিটে ১৫০-এর বেশি হয় সে ধরনের শরীরচর্চা রোজা রেখে করা উচিত নয়। পেশিশক্তিবর্ধক ব্যায়াম রোজার সময় বেশি উপযোগী। রিচআপ, পুশআপ, ওজন উত্তোলন, জায়গায় দাঁড়িয়ে ওঠাবসা করা এসব ব্যায়ামের পর্যায়ে পড়ে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে আমাদের সঞ্চিত চর্বি থেকে শরীরে জ্বালানির সরবরাহ হয়। সে কারণে রোজায় এমনিতেই শরীর যথেষ্ট ঝরঝরে হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মৃদু কিছু ব্যায়াম শরীরের ব্যালান্স ধরে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে অতিরিক্ত ব্যায়াম যেন না করা হয়। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। হাঁটাহাঁটি, ধীরগতিতে জগিং তাই রোজায় সবচেয়ে উপকারী ব্যায়াম পদ্ধতি হতে পারে। এবং অবশ্যই ইফতার ও শেষরাতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।