সুমাইয়া খানম
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৫ ১৫:৩৭ পিএম
ঈদ মানেই শিশুমনের আনন্দ, খুশি। মাসজুড়ে রোজা পালনের পর ঈদুল ফিতরের আমেজ হচ্ছে শিশুদের কাছে নতুন জামা। বেশিরভাগ সময়ই ঈদুল ফিতর যেহেতু গরমকালে হয়ে থাকে, তাই সময়োপযোগী পোশাক, পছন্দের রঙের প্রাধান্য সব মিলিয়ে বাচ্চাদের পোশাক কিনতে হয় সবার আগে এবং অনেক সাবধানে। চলতি ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবার চেয়ে আলাদা জামা কেনার হিড়িক পড়ে যায় ঈদ ঘিরে। উৎসবমুখর এ মুহূর্তে বাচ্চাদের ঈদের পোশাক কেমন হবে তা পূর্বনির্ধারণ এবং পরিকল্পনা কিছুটা জরুরিই বলা চলে।
পোশাকের মান ও কাপড়
ঈদে বাচ্চাদের পোশাকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পোশাকের মান ও কাপড়। প্রায় ক্ষেত্রেই বাচ্চারা তাদের অস্বস্তির কথা প্রকাশ করতে বা মোটামুটি বড় হওয়া পর্যন্ত তারা ভালোভাবে এ বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলতে পারে না। তাই অবশ্যই বাচ্চাদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী, ভালো মানের কাপড়, কাপড়টা আরামদায়ক কি না বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, এ রকম ঈদ বা উৎসব ঘিরে বাবা-মা বেশি চাকচিক্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে বা অনেক ভারী কাজের পোশাক কিনে ফেলে। দেখতে ভালো লাগলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মূলত বাচ্চাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত সুতি, মসলিন, হালকা সিল্ক, ভিসকস, লিনেন, রেশমি, খাদি কাপড়ের তৈরি পোশাক গরমের সময় ঈদে বাচ্চাদের জন্য উপযোগী হয়ে থাকে। -67c6c9956929a.jpg)
বাচ্চাদের পোশাকের রঙ
ঈদের সময় বাচ্চাদের পোশাকের ক্ষেত্রে রঙের অনেক বড় প্রভাব লক্ষ করা যায়। বাচ্চারা অনেক রঙবেরঙের জামার প্রতি আকৃষ্ট হয়, সাতরঙা কাপড় বাচ্চাদের মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় রঙের সঙ্গে এক ধরনের সুন্দর সংমিশ্রণ তৈরিতে সাহায্য করে। অনেক বুটিক হাউস বাবা-মায়ের পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়েও বাচ্চাদের জামাকাপড় বানাচ্ছে কাস্টমাইজ করে। অনলাইনে অনেক উদ্যোক্তা কাজ করছেন বাচ্চাদের কাস্টমাইজ পোশাক নিয়ে। এর মধ্যে হ্যান্ডপেইন্ট, এমব্রয়ডারি, ব্লক প্রিন্ট রয়েছে। নরম সুতি কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাকে হ্যান্ডপেইন্ট বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই পছন্দসই রঙে ও নকশায় কাস্টমাইজ করে নেন। এতে নিজস্বতা বজায় থাকে। এমনই একটি অনলাইন উদ্যোগের নাম গ্যালারিয়া বাংলাদেশ। এর কর্ণধার কাশেমা রিমি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই বাচ্চাদের পোশাক নিয়ে কাজ করছি। নিউবর্ন বেবি থেকে শুরু করে সব বয়সীর জন্য আমরা পোশাক বানাই। মূলত সুতি ফেব্রিক নিয়েই আমাদের কাজ বেশি। সেই সঙ্গে যদি কেউ অন্য ফেব্রিক চান, আমরা বানিয়ে দিতে পারব। বাচ্চারা রঙিন পোশাক পছন্দ করে। তাই আমরা রঙ নির্বাচনে সব সময় সেদিকে খেয়াল রাখি। হ্যান্ডপেইন্টের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে এর স্বকীয়তার কারণে। অনেক অভিভাবক নিজেদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বাচ্চাদের জন্য পোশাক বেছে নেন। এ ধরনের কাজও আমরা করি।’ ঈদের দিন এভাবে বাবা- মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরাও বাচ্চাদের জন্য আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করে।
এই ঈদে কেমন পোশাক
ঈদের কেনাকাটার শুরুতেই মাথায় আসে বাড়ির ছোট্ট সোনামণিটির কথা। তাই শিশুদের জন্য কে ক্র্যাফটের ঈদ আয়োজনের কমতি নেই। যেহেতু ঈদ আসতে আসতে গরম পড়ে যাবে তাই উৎসবের দিনগুলোতে পরিবেশ ও আবহাওয়ার সঙ্গে আরাম ও স্বস্তিদায়ক হবে এমন পোশাক নির্বাচন করা প্রয়োজন। এবার কে ক্র্যাফটে তাই গুরুত্বসহকারে ফেব্রিক ও রঙ বাছাই করা হয়েছে। কে ক্র্যাফটের ডিজাইনার শরীফুল হুদা বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে উৎসবভিত্তিক পোশাক আয়োজনে মেয়েশিশুদের জন্য কে ক্র্যাফটে থাকছে সালোয়ার-কামিজ, ফ্রক, কুর্তি, টপস, লেহেঙ্গা সেট, টপস সেট, পার্টি ফ্রক, টপস-পালাজো সেট, টপস-সারা সেট। ছোট ছেলেদের পোশাক আয়োজনে পাঞ্জাবি, হাফহাতা শার্ট, টি-শার্ট এবং ফতুয়া। শিশুদের পছন্দ হবে বা ভালো লাগবে তাই প্রাধান্য পাচ্ছে এবার। এ ছাড়া ছোট মেয়েদের বোন অথবা মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে পরার জন্য সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি এবং বাবা ও ছেলের জন্য পাঞ্জাবি, শার্ট, ফতুয়া থাকবে বরাবরের মতো।’
কটন, জ্যাকার্ড কটন, টু-টোন, নিব কটন, জর্জেট, ভয়েল, রেমি কটনের মতো উল্লেখযোগ্য ফেব্রিকে নানা মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে অনেক রকম প্রিন্ট রয়েছে কে ক্র্যাফটে। হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, টাই-ডাইয়ের কাজও রয়েছে কমবেশি। মেরুন, নেভি ব্লু, রয়্যাল ব্লু, পিচ, বেবি পিঙ্ক, ভায়োলেট, ল্যাভেন্ডার, পার্পল ছাড়াও হালকা শেডের নানা রঙের পোশাক থাকবে।
মডেল : অরিক্ত, আমায়া, মাহি, মিশকাত, তাইফ
পোশাক ও ছবি : কে ক্র্যাফট, রঙ বাংলাদেশ