× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রচ্ছদ

ফ্যাশনে লাল

নুসরাত খন্দকার

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৪৭ পিএম

মডেল : প্রিয়ন্তী উর্বী; পোশাক : দেশাল

মডেল : প্রিয়ন্তী উর্বী; পোশাক : দেশাল

উষ্ণতা, ভালোবাসা এবং শক্তির প্রতীক এ রঙ যুগে যুগে ফ্যাশনের মঞ্চে দাপটের সঙ্গে নিজের স্থান ধরে রেখেছে। যেকোনো উৎসব, বিয়ে বা বিশেষ মুহূর্তে লালের গর্জিয়াস উপস্থিতি অন্যসব রঙকে ছাপিয়ে যায়। লাল পোশাকের আবেদন চিরন্তন। শাড়ি, কামিজ, কুর্তি কিংবা গাউন, প্রতিটি পোশাকেই লাল তার জাদু ছড়াতে জানে। শুধু চমকই নয়, লাল রঙের পোশাকের রয়েছে নিজস্ব ব্যক্তিত্ব, যা যেকোনো নারীকে করে তোলে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মোহময়।

মডেল: জারা; পোশাক : দেশাল

লাল রঙ বরাবরই ফ্যাশনের একটি অনন্য প্রতীক। লাল পোশাক পরলে যেকোনো নারীকেই দেখতে সুন্দর লাগে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি শক্তি, ভালোবাসা এবং আত্মবিশ্বাসেরও বহিঃপ্রকাশ পায় বটে এ রঙে। আর তা যেকোনো অনুষ্ঠানে যেকোনো ব্যক্তিকেই মানিয়ে যায়।

লাল রঙ আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটি শুধু ফ্যাশন নয়, বরং আপনার ব্যক্তিত্বের শক্তি ও সৌন্দর্যের প্রতীক। বিভিন্ন ধরনের লাল শেড যেমন মেরুন, ব্রিক রেড বা পিউর রেড ব্যবহার করে লুকের বৈচিত্র্য আনা সম্ভব।

মডেল : উর্বী; পোশাক : দেশাল

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে লাল শাড়ি

শাড়ি বাঙালি নারীর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির চিরন্তন প্রতীক। আর লাল শাড়ি সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। বিশেষ করে বিয়ে বা অন্য যেকোনো উৎসবের ক্ষেত্রে লাল শাড়ির আবেদন অনস্বীকার্য। লাল বেনারসি শাড়ি, যা সোনালি জরির কাজ বা নকশায় সমৃদ্ধ, বাঙালি কনের সাজে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। শুধু বিয়েতেই নয়, পূজা বা পারিবারিক কোনো বড় অনুষ্ঠানের জন্যও লাল বেনারসি শাড়ি দারুণ মানানসই। এর আভিজাত্য এবং উজ্জ্বলতা আপনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসবে।

তবে লালের আবেদন শুধু বেনারসিতে সীমাবদ্ধ নয়। কটন, মসলিন কিংবা তসর সিল্কের লাল শাড়িও ফ্যাশনপ্রেমীদের প্রিয়। এ ধরনের শাড়ি যেমন হালকা, তেমন আরামদায়ক। দৈনন্দিন জীবনে লাল কটনের শাড়ি একেবারে পারফেক্ট। সাদামাটা ব্লাউজ এবং হালকা গয়নার সঙ্গে এ শাড়ি পরলে স্নিগ্ধ এবং রুচিশীল লুক পাওয়া যায়। অফিসে বা করপোরেট ইভেন্টেও এ ধরনের লুক বেশ মানানসই।

বিশেষ কোনো ইভেন্টের জন্য চাইলে ভারী কাজের লাল শাড়ি বেছে নিতে পারেন। যেমন জরির কাজ করা কাঁথা স্টিচ বা সিল্কের শাড়ি। এর সঙ্গে মানানসই সোনার বা ইমিটেশনের গয়না পরলে পুরো লুকটাই হয়ে উঠবে চমকপ্রদ। এ ছাড়া ট্রেন্ডি ফিউশন লুক পেতে শাড়ির সঙ্গে বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন। কেপ ব্লাউজ বা অফ-শোল্ডার ব্লাউজও হতে পারে একটি আকর্ষণীয় সংযোজন।

মডেল: জারা; পোশাক : দেশাল

আধুনিক ফ্লেয়ারের ছোঁয়ায় কুর্তি-কামিজ

লাল রঙে কামিজ বা কুর্তি পরলে যেকোনো নারী হয়ে উঠতে পারেন আরও আত্মবিশ্বাসী এবং স্টাইলিশ। কুর্তি বা কামিজ এমন এক ধরনের পোশাক যা সব বয়সের নারীর কাছেই জনপ্রিয়। এর আরাম এবং ফ্যাশনেবল ডিজাইন প্রতিটি মুহূর্তে এর আবেদন বাড়িয়ে তোলে। উৎসব বা পার্টির জন্য লাল জর্জেট বা শিফনের কামিজ হতে পারে আদর্শ। এর ওপর এমব্রয়ডারি, পুঁতি কিংবা জরি কাজের নকশা যোগ হলে পুরো পোশাকটি হয়ে ওঠে আরও গর্জিয়াস।

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য লাল সুতির কামিজ দারুণ আরামদায়ক। সাদা সালোয়ার এবং সাদামাটা ওড়নার সঙ্গে এ লুক একদিকে যেমন সাধারণ, তেমন বেশ স্টাইলিশ। অফিসের জন্য সলিড লাল রঙের কুর্তি এবং পালাজো একটি আধুনিক এবং পেশাদার লুক তৈরি করে। এর সঙ্গে হালকা সিলভার গয়না যোগ করলে পুরো লুকটি হয়ে উঠবে স্নিগ্ধ এবং মার্জিত।

পার্টিতে যাওয়ার জন্য লালের জর্জেট বা নেটের কামিজ একেবারে সেরা পছন্দ হতে পারে। এর সঙ্গে বড় ঝুমকা, চুড়ি এবং মানানসই মেকআপ আপনাকে পুরো পার্টির মধ্যমণি করে তুলবে। আর যারা ফিউশন লুক পছন্দ করেন তারা লাল কুর্তির সঙ্গে ডেনিম জ্যাকেট বা ট্রেন্ডি ওভারকোট যোগ করতে পারেন।

মডেল : উর্বী; পোশাক : দেশাল

দৈনন্দিন ও ক্যাজুয়াল ফ্যাশনে লাল

লাল রঙ শুধু উৎসব বা পার্টির জন্য নয়, বরং দৈনন্দিন এবং ক্যাজুয়াল পোশাকেও বেশ মানানসই। লাল টপস, স্কার্ট, জিন্স বা লেগিংস সব বয়সের মানুষকেই একটি ফ্রেশ ও এনার্জেটিক লুক দেয়।

হালকা সুতির লাল টপসের সঙ্গে ব্লু ডেনিম পরতে পারেন। লাল প্রিন্টেড ড্রেস বা স্কার্টের সঙ্গে সাদা স্নিকার্স একটি চমৎকার কম্বিনেশন। অফিসের জন্য লাল ব্লাউজের সঙ্গে ব্ল্যাক ট্রাউজার বা পেনসিল স্কার্ট ব্যবহার করতে পারেন।

মডেল : উর্বী; পোশাক : দেশাল

ফেব্রিক বাছাইয়ে গুরুত্ব দিন

ফ্যাশনে পোশাকের রঙ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমন ফেব্রিকের সঠিক নির্বাচনও অত্যন্ত জরুরি। আরামদায়ক ও মানানসই ফেব্রিক নির্বাচন করলে একটি পোশাক কেবল সুন্দর দেখায় না, বরং তা দীর্ঘ সময় ধরে পরিধান করাও সহজ হয়। অনুষ্ঠানের ধরন, মৌসুম এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর ভিত্তি করে ফেব্রিক নির্বাচন করলে পোশাকের আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়।

মডেল: জারা; পোশাক : দেশাল

বিয়ে, পার্টি বা অন্য যেকোনো গ্ল্যামারাস অনুষ্ঠানের জন্য সিল্ক এবং জর্জেটের পোশাক সব সময় আদর্শ। সিল্কের প্রাকৃতিক ঝলমল ভাব এবং জর্জেটের সূক্ষ্ম কারুকাজ আপনাকে স্পটলাইটে নিয়ে আসতে যথেষ্ট। সিল্কের পোশাকগুলো দেখতে যেমন আভিজাত্যপূর্ণ, তেমন এর আরামদায়ক ফিনিশিং যে-কাউকে মুগ্ধ করে। জর্জেট আবার তার লাইটওয়েট এবং মসৃণ টেক্সচারের কারণে পার্টির পোশাক হিসেবে খুবই জনপ্রিয়। এর সঙ্গে পুঁতি, জরির কাজ বা এমব্রয়ডারি যোগ হলে এটি আরও জমকালো হয়ে ওঠে।

কটন এবং লিনেন এমন ফেব্রিক যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আদর্শ। এগুলো একদিকে যেমন আরামদায়ক, তেমন সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়। গরমের সময় কটনের পোশাক শরীর ঠান্ডা রাখে এবং দীর্ঘ সময় পরলেও স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। লিনেনও হালকা এবং শ্বাসপ্রশ্বাসযোগ্য ফেব্রিক হওয়ায় গরমের জন্য দারুণ কার্যকর। অফিস বা প্রতিদিনের কাজে কটন বা লিনেনের পোশাক মানানসই এবং চমৎকার লুক দেয়। এগুলোর সঙ্গে সাদামাটা অ্যাকসেসরিজ ব্যবহার করলেও স্নিগ্ধ ও মার্জিত দেখা যায়।

শীতকালীন অনুষ্ঠানের জন্য ভেলভেট এবং শিফনের পোশাকগুলো আভিজাত্যের প্রতীক। ভেলভেট তার ভারী এবং মসৃণ টেক্সচারের জন্য পরিচিত। এটি পরিধানকারীকে কেবল উষ্ণতাই দেয় না, বরং আভিজাত্যপূর্ণ লুকও প্রদান করে। বিশেষ করে শীতে বিয়ে বা রাতের পার্টির জন্য ভেলভেটের শাড়ি, গাউন বা কুর্তি হতে পারে একটি আদর্শ পছন্দ।

অন্যদিকে, শিফন তার নরম এবং হালকা প্রকৃতির জন্য শীতকালেও জনপ্রিয়। শিফনের পোশাকগুলোতে সূক্ষ্ম পুঁতি বা জরির কাজ যোগ করে পার্টি লুক তৈরি করা যায়। আর ভেলভেটের মতো এটি উষ্ণতা না দিলেও শিফনের পোশাক পরিধানে এক ধরনের আরাম এবং রুচিশীলতা রয়েছে। শিফনের ওড়না বা শাড়ির সঙ্গে ভারী ব্লাউজ বা গহনা ব্যবহার করলে পুরো লুকটি আরও স্টাইলিশ হয়ে ওঠে।

ঋতুভেদে এবং অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী ফেব্রিক নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মকালে কটন বা লিনেনের পোশাক যেমন আরামদায়ক, তেমন শীতকালে ভেলভেট বা সিল্ক হতে পারে উষ্ণতার পাশাপাশি ফ্যাশনের একটি চমৎকার উপায়। আবার, বিয়ে বা পার্টির জন্য সিল্ক, জর্জেট বা নেটের মতো ঝলমলে ফেব্রিক বেছে নেওয়া উচিত।

মডেল : উর্বী; পোশাক : দেশাল

লাল রঙের পোশাক সব সময়ই ফ্যাশনে বিশেষ স্থান দখল করে রাখে। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং যেকোনো অনুষ্ঠানে আপনাকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। সঠিক ফেব্রিক এবং স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে লালের সৌন্দর্য আরও বেশি করে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। তাই ওয়ারড্রবে কিছু আকর্ষণীয় লাল পোশাক তো রাখা যেতেই পারে।

লাল পোশাকের যত্ন

লাল রঙের পোশাকের উজ্জ্বলতা এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। লাল রঙের কাপড় ধোয়ার সময় সামান্য ভুলের কারণে রঙ ফিকে হয়ে যেতে পারে বা অন্য কাপড়ে লাল রঙ লেগে যেতে পারে। তাই ধোয়া এবং যত্নের সময় কিছু বিশেষ সতর্কতা মেনে চলা উচিত।

  • প্রথমবার ধোয়ার আগে রঙের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করুন। একটি তুলা বা সাদা কাপড় ভিজিয়ে লালের কোনো অংশে হালকাভাবে ঘষুন। যদি তুলায় রঙ লেগে আসে, তবে নিশ্চিত হন যে এটি রঙ ছেড়ে দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে পোশাকটি আলাদাভাবে ধোয়া উচিত।
  • লাল পোশাকের রঙের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে ঠান্ডা পানিতে ধোয়া সবচেয়ে ভালো। গরম পানিতে ধোয়ার ফলে রঙ দ্রুত ফিকে হয়ে যেতে পারে। ধোয়ার জন্য মৃদু ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন।
  • কাপড় ধোয়ার পর দ্রুত শুকানোর জন্য সরাসরি রোদে না দিয়ে ছায়ায় শুকাতে দিন। সূর্যের অতিরিক্ত তাপ রঙ ফিকে করে ফেলতে পারে।
  • যদি লাল পোশাক ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া হয়, তবে ডেলিকেট মোডে সেট করে ধোয়া উচিত। মেশিনে ধোয়ার আগে রঙ ধরে রাখার জন্য কাপড়টি নেট ব্যাগে রাখলে তা আরও নিরাপদ হয়।
  • ইস্তিরি করার আগে কাপড়ের লেবেল দেখে তাপমাত্রা ঠিক করুন। সম্ভব হলে পোশাক উল্টো করে ইস্তিরি করুন।
  • লাল রঙের পোশাক ধোয়ার আগে কিছু সময় পানিতে এক চামচ ভিনেগার বা এক চিমটি লবণ মিশিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। এটি রঙকে আরও স্থায়িত্ব প্রদান করবে।
  • পোশাক দীর্ঘদিন না পরলে তা ভালোভাবে ভাঁজ করে শুষ্ক এবং অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • বেশি ধোয়ার প্রয়োজন না হলে পোশাক শুধু বাতাসে ঝুলিয়ে নিন।

  • স্টোরেজের সময় ন্যাপথলিন বা সিলিকা জেল ব্যবহার করলে পোশাক সুরক্ষিত থাকবে।
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা