রুবাইয়া হাসনাইন
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:২১ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৭ পিএম
ছবিটি এঁকেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী
ভাবছি স্কুল ছুটিতে দাদিবাড়ি ঘুরতে যাব। পরীক্ষা শেষে বেশ কিছুদিন ছুটি পাওয়া গেছে। ছুটিতে তাই মজা করে ঘোরাঘুরি করা যাবে। বাবাকে বললাম। বাবা রাজি হয়ে গেল। বললেন, ‘এখন তো শীতকাল। গ্রামে অনেক শীত। সাবধানে থাকতে হবে।’ মা বললেন, তাহলে কিছু গরম কাপড় কেনা দরকার। পরদিন বাবা বাজারে নিয়ে গেলেন। মার জন্য চাদর আর আমার জন্য একটা উলের সোয়েটার কিনে দিলেন। দুই দিন পর আমরা রওনা হলাম দাদিবাড়ি।
দাদি আমাদের পেয়ে খুব খুশি হলেন। অনেকদিন পর দাদিবাড়ি এলাম। দাদি আমাদের নিজহাতে রান্না করে খাওয়ালেন। দাদিকে বললাম, এখন তো শীতকাল, আমাদের শীতের পিঠাপুলি খাওয়াতে হবে। দাদি বলল, ‘সেটা কি আর বলতে হবে দাদুভাই! আমি সব রেডি করে রেখেছি। শুধু তোমাদের আসার অপেক্ষায় ছিলাম। তুমি তো এসে গেছো, এবার অন্য সব মেহমানকে দাওয়াত দিয়ে একসঙ্গে আয়োজন করব।’
কথামতো দাদি পিঠার আয়োজন করল। ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, চিতই পিঠা আর দুধে ভেজানো রসালো পিঠার আয়োজন। সকালবেলা গরম গরম ভাপা পিঠার সঙ্গে খেজুরের গুড়, চিকন চিকন নারকেলের কুচি। খুব মজা করে খেলাম সবাই।
দুই দিন পর ফুপাতো বোনের বিয়ে। সেখানে যওয়ার জন্য সবাই রেডি হয়ে গেল। দেখলাম দাদির শীতের পোশাক নেই। দাদি কিছু বলছে না। মনটা একটু ভার ভার লাগছে। বুঝতে পারলাম তার জন্য একটা শীতের কাপড় লাগবে।
মাকে বললাম, আমার উলের সোয়েটারটা দাদিকে দিয়ে দিতে চাই। মা শুনে অবাক হলো। ভাবছে আমি মনে হয় শুধু শুধু বলছি দাদিকে খুশি করার জন্য।
মা তাই বলল, তোমার দাদিকে অন্য একটা কিনে দেব। তুমি এটা পড়ো।
বললাম, আমাকে অন্য একটা কিনে দিও। দাদি এটা পছন্দ করেছে। তা ছাড়া আমার তো চাদর আছে। আমার কোনো সমস্যা হবে না। মা এবার রাজি হয়ে গেল। দাদিকে আমার সোয়েটারটা দিয়ে দিলাম। দাদি প্রথমে নিতে চাইল না। অনেক জোরাজুরির পর নিল। তারপর আমরা ফুপুবাড়ি রওনা হলাম। দাদিকে এবার খুব খুশি খুশি লাগছে। দাদির হাসিভরা মুখ দেখে আমারও ভীষণ ভালো লাগছে। নতুন বছরে নতুন একটা প্রত্যাশা পূরণ হলো। কী যে ভালো লাগছে! চারদিকটা উৎসব উৎসব মনে হচ্ছে। আমি দাদির হাসিভরা মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। দাদির হাসিভরা মুখই যেন আমার উৎসবের গল্প।
অষ্টম শ্রেণি, পলাশ ইউরিয়া সারকারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পলাশ, নরসিংদী