× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিতি ও চইচই

জহিরুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৪১ পিএম

এই সুন্দর অলংকরণটি করেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

এই সুন্দর অলংকরণটি করেছে অর্নিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী

মা একটু অন্যদিকে তাকাতেই মায়ের ডানার নিচ থেকে পালিয়ে বাড়ির পাশের ঝোপের আড়ালে চলে গেল তিতি। অন্য বাচ্চাদের সামলাতে গিয়ে মা খেয়ালই করতে পারল না ব্যাপারটা। ওদিকে চইচই আগে থেকেই মায়ের কাছ থেকে পালিয়ে ঝোপের আড়ালে এসে তিতির জন্য অপেক্ষা করছিল

তিতি চলে আসতেই চইচই তার খাটো খাটো পা দুটো দিয়ে থপথপ করতে করতে আর তিতি তার লম্বা পা দুটো দিয়ে টিঙটিঙ করে হাঁটতে হাঁটতে গৃহস্থবাড়ির পেছনের বাগানটার দিকে এগিয়ে চলল। দুজনে আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল তারা বাড়ি থেকে পালাবে। দিনরাত বাঁধাধরা নিয়ম একদম ভালো লাগছিল না। কোথায় চইচই সারা দিন বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে লুটোপুটি খেলবে, তিতি ঘুরে বেড়াবে বনে-জঙ্গলে, কিন্তু তা কি হওয়ার জো আছে? খালি খবরদারি আর খবরদারি। একা একা পানিতে নামবে না, একা কোথাও ঘুরতে যাবে না। চিলু ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে, অথবা খট্টাস এসে থাবা দিয়ে নিয়ে যাবে। তারপর তোমাদের নরম মাংস ছিঁড়েখুঁড়ে খাবে। সারা দিন মায়ের ডানার নিচে গুটিসুটি মেরে বসে থাকো। আবার সন্ধ্যা হতেই ছোট্ট একেকটা অন্ধকার ঘরে দরজা বন্ধ করে রাখবে তাদের। এসব কত আর ভালো লাগে! তাই বাড়ি থেকে পালানোর এ পরিকল্পনা তাদের।

গৃহস্থবাড়ির পেছনের বাগানটাতে এসে দুজনের মনে খুশি আর ধরে না। কত সুন্দর সুন্দর গাছপালা, ফুলফল, লতাপাতা। কত সুন্দর ঘুরে বেড়ানোর জায়গা। গাছে গাছে পাখিরা টুইটুই, কিচিরমিচির কত ধরনের শব্দ করে গান গাইছে। আনন্দে মেতে উঠে তারাও সেসব পাখির মতো গান ধরতে চাইল। কিন্তু তাদের কণ্ঠ থেকে অত সুন্দর আওয়াজ বের হলো না। একজনের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো প্যাঁকপ্যাঁক শব্দ। এক ধরনের ফ্যাসফেসে আওয়াজ। আরেক জনের মুখ থেকে বেরুল কেমন একটা চিঁচিঁ আওয়াজ। তা বের হোক। মনের মতো ঘুরে বেড়াতে পারছে এটাই তাদের কাছে বেশ আনন্দের।
কিন্তু তিতি আর চইচইয়ের এ আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। হঠাৎ করেই দুজনের প্রায় একসঙ্গেই নজর গিয়ে পড়ল বিড়ালের মতো কী একটা প্রাণীর দিকে। বিড়ালের মতো, কিন্তু বিড়াল নয়। নিশ্চয় এটাই খট্টাস। একটা গাছের নিচে বসে তাদের দিকেই জুলজুল করে তাকিয়ে আছে খট্টাসটা। দেখে দুজনেরই আত্মারাম খাঁচাছাড়া। দুজনেই মায়ের কাছে শুনেছে, চিলু আর খট্টাস তাদের বড় শত্রু। বাগে পেলে আর রক্ষা নেই। খপ করে ধরে তাদের মাথাটা আর পাখনা দুটো আগে ছিঁড়ে ফেলবে। তারপর তাদের নরম মাংস মজা করে খাবে।
দুজনে প্রথমে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেও কী করতে হবে সেটা ঠিক করতে বেশি সময় নিল না। চইচই থপথপ করতে করতে দৌড়ে গিয়ে লাফিয়ে পড়ল পাশের বড় পুকুরটাতে। আর তিতি তার নতুন গজানো পাখনা মেলে ছোট্ট একটা উড়াল দিয়ে পাশের একটা গাছের সবচেয়ে নিচের ডালটাতে গিয়ে বসল। অবশ্য এর বেশি সে উড়তেও পারে না। তারপর সেখান থেকে অন্য ডালপালা বেয়ে বেয়ে আরও ওপরের দিকে উঠে লতাপাতার আড়ালে চুপচাপ বসে রইল। ওদিকে খট্টাসও তাদের পিছু ছাড়ল না। সে একটু এগিয়ে একবার গাছটার ওপরের দিকে, আরেকবার পুকুরের মাঝখানে চইচইয়ের দিকে তাকাতে লাগল। তাকালে কী হবে, তারা দুজনেই যে তার নাগালের বাইরে।
এভাবেই কেটে গেল সারাটা দিন। সন্ধ্যা প্রায় ঘনিয়ে আসছে। কীভাবে খট্টাসের হাত থেকে রক্ষা পাবে দুজনে কিছুতেই ঠিক করতে পারছিল না। বাড়ি থেকে পালানোর সাধ তাদের অল্পতেই মিটে গেল। এখন কোনোমতে জানটা নিয়ে মায়ের কাছে ফিরতে পারলে হয়।
এমন সময় গৃহস্থবাড়ির বউটিকে দেখতে পেল দুজনে। এ মানুষটিই প্রতিদিন সন্ধ্যায় তাদের ছোট্ট একটি ঘরে বন্দি করে রাখে বলে তাকে একদম পছন্দ করে না তিতি আর চইচই। অথচ আজ তাকে দেখে বাঁচার একটা আশা তৈরি হলো তাদের মনে। ওদিকে বউটিকে দেখে মুহূর্তের মধ্যেই খট্টাস কোথায় যেন গা ঢাকা দিয়েছে। তাই দেখে চইচই প্যাঁকপ্যাঁক করে আর তিতি চিঁচিঁ করে যত জোরে সম্ভব চেঁচাতে লাগল। তাদের ডাক শুনে বউটিও তাদের দেখতে পেল। দেখেই আয় তিতি, আয় চইচই বলে তাদের কাছে ডাকতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে চইচই পুকুর থেকে উঠে এলো আর তিতি গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ল একদম বউটির সামনে। আসলে হয়েছে কী, সন্ধ্যায় হাঁস আর মুরগির খোপ বন্ধ করার সময় বউটি গুনে গুনে দেখতে পেল, একটি হাঁসের বাচ্চা আর একটি মুরগির বাচ্চা কম। প্রথমে সে মনে করল, খাটাস বা চিলের হাতে নিশ্চয় ধরা পড়েছে। পরে চিন্তা করে দেখল, বাড়ির আশপাশে একটু খুঁজে দেখা যাক। খুঁজতে এসেই পেয়ে গেল হাঁসছানা আর মুরগির ছানাটিকে।
এ পর্যন্ত বলে তিতলির মা তিতলিকে প্রশ্ন করলেন, এবার বলো তো আজকের গল্পটি দিয়ে তুমি কী শিখলে? তিতলি ঘুমজড়ানো কণ্ঠে বলল, ছোটদের বড়দের কথামতো চলতে হয়। নইলে বিপদে পড়তে হয়।
মা বললেন, একদম ঠিক ঠিক বুঝেছ তুমি। এবার চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ো। কাল অন্য গল্প শোনাব।
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা