স্বপ্নিল কুমার ভদ্র
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:১৩ পিএম
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৪০ পিএম
প্রচ্ছদ ছবিটি এঁকেছে মুশরাত মাহ্জাবীন মাহা, সে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী
রবিন ও রুবি ভাই-বোন। থাকে ঢাকার মতিঝিলে। ওরা বড্ড মিশুক। নিজের কাজ নিজেই গুছিয়ে নিতে পারে। বাবা প্রকৌশলী রাজিন রহমান, মা দিলারা পারভীন ব্যাংক কর্মকর্তা। তারা সারা দিন ব্যস্ত থাকেন। তাই ছেলেমেয়েদের সঙ্গে তেমন সময় কাটাতে পারেন না। ওদেরও সময় কেটে যায় স্কুল এবং কোচিং নিয়ে। ইচ্ছে করে ওদের যদি একটু কোথাও বেড়াতে যাওয়া যেত। অনেক দিন কোথাও যাওয়া হয় না। গতকাল রবিন আর রুবিদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন শুধু আনন্দ আর মজা। বাবারও এখন কাজের চাপ কম, মা-ও অফিস থেকে ছুটি নিয়েছেন। রবিন আর রুবি আবদার করল, বাবা চলো না। নানি আর নানাকে দেখে আসি সাভার থেকে। স্কুলের মাহবুব স্যারও বলছিলেন, সামনে বিজয় দিবস। স্কুলে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে।
‘আচ্ছা বাবা, বিজয় দিবস কী?’ রবিন আর রুবি জিজ্ঞাসা করে। বাবা সারা দিন অফিস ও সাইটে কাজ শেষ করে বাসায় ফিরেছেন। শীতের সন্ধ্যায় গরম চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, ‘সে অনেক ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তো তোমরা জানোই। মুক্তিযুদ্ধ যখন শেষের দিকে তখন ভারতীয় মিত্রবাহিনী আর মুক্তিযোদ্ধারা মিলে “যৌথবাহিনী” গঠন করে। এ বাহিনীর হাতে পরাজিত হয় পাকিস্তানি সেনারা। অনেক ত্যাগ, রক্ত আর নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় সেই বিজয়।’
রবিন বলে, ‘সামনে তো বিজয় দিবস। নানা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাভারে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে যাবেন। তার সঙ্গে যাব।’
বাবা ভাবলেন, তাই তো। অনেক দিন যাওয়া হয় না ওদিকে। শ্বশুর আব্বাকে দেখে আসি। বাচ্চাদেরও ভালো লাগবে।
তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে। আজ তো ১২ তারিখ। কাল শুক্রবার। আগামীকালই যাওয়া যাক। আমি আমার গাড়ির ড্রাইভারকে বলে রাখব সকাল ছয়টার মধ্যে ফ্ল্যাটের নিচে থাকতে। তুমি কী বলো, দিলারা?’
মা বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিও একমত। আমারও ইচ্ছে করে তাদের দেখে আসতে।’
বাবা রবিন আর রুবিকে বললেন, ‘তাহলে তোমরা তোমাদের প্রস্তুতি নিয়ে নাও।’ ওরা আনন্দে ঘরের দিকে দৌড়ে গেল।
পরদিন সকালে ওরা তৈরি হয়ে নিল। তারপর উঠে বসল গাড়িতে। মতিঝিল থেকে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে গেল সাভার।
ওদের নানাবাড়ি একটু গ্রামের দিকে। রবিন আর রুবি পরিকল্পনা করে ফেলে কী কী করবে ওখানে গিয়ে। দাদার কাছে মুক্তিযুদ্ধের গল্প তো শুনবেই।
বাবা বললেন, ‘বিজয় এক দিনে আসেনি। বহুল আকাঙ্ক্ষিত এ বিজয়। বাঙালি দীর্ঘদিন ধরে চাচ্ছিল পরাধীনতার নাগপাশ থেক মুক্তি পেতে।’
ওরা পৌঁছে গেল নানাবাড়ি। নানা অপেক্ষা করছিলেন তাদের জন্য। রবিন আর রুবি দৌড়ে গিয়ে নানাকে সালাম করল।
নানার বয়স অনেক। আশির কাছাকাছি। তার পরও নিজের প্রায় সব কাজ নিজে করেন। তিনি সেক্টর ২ থেকে যুদ্ধে অংশ নেন। রবিন আর রুবিকে পেয়ে তিনি খুব খুশি হন। মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, ‘বেঁচে থাকো তোমরা। এ দেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদের।’
ষষ্ঠ শ্রেণি, ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুল, ময়মনসিংহ