× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হেমন্তকথা

রুবাইয়া হাসনাইন

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১২:২৬ পিএম

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৫৪ পিএম

হেমন্তকথা

সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়ালাম। আমাদের বারান্দাটা দক্ষিণমুখী। সকালের সূর্য এসে বারান্দায় পড়ে। এখানে দাঁড়িয়েই আমি প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ আর সকালের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করি। আজকের সকালটা কেমন অচেনা অচেনা লাগছে। সূর্যটাকে ডিমের কুসুমের মতো হলুদ হলুদ লাগছে। প্রতিদিন যে সূর্য দেখি, ঠিক ও রকম না। একটু অন্যরকম। কেমন যেন একটা নরম নরম ভাব। দিগন্তটা ঘোলা ঘোলা লাগছে। মনে হচ্ছে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে।

আমাকে বারান্দায় দেখে বাবা এগিয়ে এলেন। মা রান্নাঘরে ব্যস্ত। বাবাকে বললাম, বাবা আজকের সকালটা একটু অন্যরকম না? তিনি মাথা নেড়ে সায় দিলেন। তারপর বললাম, দূরে ওগুলো সাদা সাদা কী দেখা যাচ্ছে? বৃষ্টি?

বাবা বললেন, ‘না, ওগুলো কুয়াশা। এখন হেমন্তকাল। এ সময় একটু একটু করে কুয়াশা পড়ে। গ্রামে গেলে আরও ভালো করে দেখা যায়। শহরে হেমন্তের তেমন আভাস পাওয়া যায় না।’

বাবাকে বললাম, তাহলে চলেন আমরা গ্রামের বাড়ি গিয়ে ঘুরে আসি। এখন ঠান্ডা একটু কম। বাইক নিয়েই যাওয়া যাবে। বাবা বললেন, ‘নিশ্চয় যাব। তবে এখন না। সামনে তোমার ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষাটা আগে শেষ হোক, তারপর নিয়ে যাব।’

-তাহলে তো হেমন্ত চলে যাবে।

-চলে আর যাবে কোথায়? তোমার দাদিকে বলে দেব, হেমন্তকে আটকে রাখতে।’ বলেই বাবা হাসলেন। আমারও কিছুটা হাসি পেল। বাবা প্রায়ই এমন মজা করেন। ভালো লাগে তার কৌতুকগুলো। বললাম, হেমন্তকে আটকে রাখা যায়? কীভাবে সম্ভব? তাহলে গত বছরের হেমন্তকে কোথায় আটকে রেখেছেন?

বাবা আবারও হাসতে লাগলেন। বললেন, ‘রাখা যায়’। এবার আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, তাহলে আপনাকে বলতেই হবে, হেমন্তকে কীভাবে আটকানো যায়। আসলে আমাকে দাদিবাড়ি না নেওয়ার একটা ফন্দি, তাই না?

বাবা আবার একটু মুচকি হাসলেন। বললেন, ‘সত্যি সত্যি হেমন্তকে আটকানো যায়। যেদিন আমরা বাড়ি যাব, সেদিনই দেখিয়ে দেব। এখন নাশতা করে প্রাইভেটে যাও।’ আমি কিছুটা ধাঁধায় পড়ে গেলাম। কিন্তু কথা না বাড়িয়ে প্রাইভেটে চলে গেলাম।

আমি, জান্নাত, রাইসা ও ইসরাত একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ি। পড়া শেষে সবাইকে বললাম, আজ একটা ধাঁধায় পড়ে গেছি। আব্বু বলছেন, হেমন্তকে আটকিয়ে রাখা যায়। এক বছরের হেমন্তকে আরেক বছরে গিয়ে দেখা যায়। ব্যাপারটা আসলে কেমন!

সবাই খানিকটা চিন্তায় পড়ে গেল। জান্নাত উঠে বলল, ‘তাহলে কি বসন্তকেও আটকিয়ে রাখা যায়?’

রাইসা বলল, ‘হেমন্তকে আটকানো গেলে শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম সব ঋতুকেই আটকিয়ে রাখা যাবে।’

-হ্যাঁ, তাহলে সেটাই বের করো। ঘটনাটা কী?

ইসরাত বলল, ‘ক্যালেন্ডারের ভেতর হতে পারে। কারণ ঘুরেফিরে সেই একই মাসে হেমন্ত আসে। নির্দিষ্ট এই সময়ের ভেতরেই হেমন্ত আটকে আছে। শীতের সময়ে শীত। বসন্তের সময়ে বসন্ত...’

ইসরাতকে বললাম, তার মানে তুমি সময়ের কথা বলছো। সময়কে কি আটকানো যায়? যায় না। তা ছাড়া এক শীত গেলে অন্য শীত আসে। একই শীত তো আসে না। এক বছর শীত কম হলে অন্য বছর শীত বেশি হতে পারে। এক বছর বন্যা হলে পরের বছর বন্যা না-ও হতে পারে। তাহলে তো হচ্ছে না।

ইসরাত বলল, ‘কী জানি বাবা! তোমার বাবা কবি মানুষ। অনেক গভীর করে কথা বলেন। আমরা কি তা ধরতে পারব?’

আমাদের কথাগুলো শুনে স্যার মিষ্টি মিষ্টি হাসছিলেন। তোমরা এত কিছু ভাবতে পারো দেখে অবাক লাগছে। তোমাদের ভাবনাগুলো খুবই ভালো। তবে শোনো, ধরো এ হেমন্তে যা যা পাওয়া যায়, যা যা ফলে তা যদি তুমি রেখে দাও। পরের বছর গিয়ে যদি সে সর দেখ, খাও। তাহলেই তো হয়। যেমন ধরো, হেমন্তের উৎসবে আমরা নতুন ধানের পিঠাপুলি থেকে শুরু করে কত কিছুই না খাই। এ সময় কতবেল, আমলকী, জলপাই পাওয়া যায়। এগুলো যদি আচার বানিয়ে রাখা যায়। যেকোনো সময় তা বের করে খেতে পারো। তার মানে হেমন্তকে তুমি বয়ামের ভেতর আটকে রাখলে। ব্যাপারটা কি ঠিক আছে? আমরা আর কিছু বললাম না। যার যার মতো বাড়ি ফিরে গেলাম।

সপ্তম শ্রেণি, পলাশ ইউরিয়া সারকারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পলাশ, নরসিংদী


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা