প্রচ্ছদ
সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:১৩ পিএম
সুন্দর ও ঝলমলে চুল কে না চায়! কিন্তু প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে আমাদের চুলেরও পরিবর্তন দেখা যায়। মাথার ত্বকে খুশকি, চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে যাওয়ার মতো নানা সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী। বৈরী, শুষ্ক আবহাওয়ায় চুলের সুরক্ষার উপায় দেখুন আজকের প্রচ্ছদে-

হেমন্তের সময়
আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায়, যা চুলের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয় এবং চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন
করে তোলে। চুল সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে কিছু নিয়মিত পরিচর্যা এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন
হয়। এমনটাই বললেন শোভন মেকওভারের স্বত্বাধিকারী ও রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা।
চলুন জেনে নিই
এ সময়ে চুল প্রাণবন্ত রাখতে কী করবেনÑ

ময়েশ্চারাইজিং
তেল ব্যবহার
চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করা অত্যন্ত জরুরি। নারকেল, অলিভ বা আমন্ড তেল ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার হালকা গরম তেল দিয়ে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন, এটি চুলের রুক্ষতা কমাবে এবং চুল মসৃণ রাখবে।
ডিপ কন্ডিশনিং
হেমন্তের সময় চুলে ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ক ব্যবহার করা ভালো। ডিমের সাদা অংশ, মধু ও দইয়ের মিশ্রণ একটি প্রাকৃতিক কন্ডিশনিং মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি চুলের আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনে চুল নরম ও উজ্জ্বল করে তুলবে।
শ্যাম্পুর
পর কন্ডিশনার ব্যবহার বাদ দেওয়া যাবে না
চুল ধোয়ার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা আবশ্যক। এটি চুলের প্রাকৃতিক তেল ধরে রাখে এবং শুষ্কতা কমায়। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়া ও কন্ডিশনার লাগানো উচিত। শোভন সাহা বলেন, ‘অনেকেই প্রতিবার শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার করেন না। এটি একদম ঠিক নয়। শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর চুল তার ময়েশ্চার হারায়। তাই প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে যাতে চুলে ময়েশ্চার ফিরে আসে এবং সফট হয়।’
মাইল্ড শ্যাম্পু
বেছে নিন
অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত
শ্যাম্পু চুলের আর্দ্রতা কমাতে পারে, তাই হালকা এবং প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি শ্যাম্পু
ব্যবহার করুন। এটি চুলের প্রাকৃতিক তেল বজায় রাখতে সাহায্য করে। এখন বাজারে অনেক ধরনের
মাইল্ড শ্যাম্পু পাওয়া যায়। চুলের ধরন অনুযায়ী বেছে নিন শ্যাম্পু।
হেমন্তের সময়
চুলের বেশ কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়। এ প্রসঙ্গে শোভন সাহা বলেন, ‘এ সময়ে তাপমাত্রা
পরিবর্তনের ফলে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, যার কারণে চুল আর্দ্রতা হারিয়ে রুক্ষ ও দুর্বল
হয়ে পড়ে। তাই চুলের সমস্যা সঠিকভাবে জেনে সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে।’
এ সময়ের কিছু
সাধারণ সমস্যা ও তার সমাধানের উপায় জেনে নেওয়া যাকÑ

চুল শুষ্ক
এবং রুক্ষ হয়ে যাওয়া
হেমন্তের শুষ্ক
বাতাসে চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারায়, ফলে চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। এজন্য নিয়মিত
তেল ম্যাসাজ করুন। নারকেল, অলিভ বা আমন্ড তেল হালকা গরম করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করলে
এটি চুলের শুষ্কতা কমায় এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে একবার প্রাকৃতিক
হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলে আর্দ্রতা আসে। অ্যালোভেরা জেল, কলা ও অলিভ অয়েলের
মিশ্রণ চুলে পুষ্টি জোগায় এবং রুক্ষতা কমায়।

চুল পড়া বৃদ্ধি
পাওয়া
হেমন্তের শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকের চুল পড়া বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় ঘাবড়ে না গিয়ে লাইফস্টাইলের দিকে নজর দিন। প্রোটিন ও ভিটামিন বি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, দই, বাদাম ও শাকসবজি খান নিয়মিত। এ ছাড়া বায়োটিন ও ভিটামিন ই-সমৃদ্ধ হেয়ার অয়েল ব্যবহার করলে চুলের গোড়া মজবুত হয়। বেশি সমস্যা মনে করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
খুশকির সমস্যা
আবহাওয়া শুষ্ক
হওয়ায় স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা কমে যায় এবং এতে খুশকি হতে পারে। এ সময়ে অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ
শ্যাম্পু সপ্তাহে দু-তিন বার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা জেল, মধু
বা লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে খুশকি কমে যায়। শ্যাম্পু করার আগে মাথার ত্বকে নারকেল
বা আমন্ড তেল ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, এটি স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখবে।

চুলে জট লেগে
যাওয়া
চুল রুক্ষ হয়ে
গেলে জট লেগে যায়, যা চুল ভাঙার কারণ হতে পারে। তাই চুলের রুক্ষতা কমাতে হেয়ার সিরাম
ব্যবহার করুন। চুল ধোয়ার পর চিরুনি দিয়ে সাবধানে আঁচড়ান এবং চুল প্রাকৃতিকভাবে শুকানোর
চেষ্টা করুন।
চুলের উজ্জ্বলতা
কমে যাওয়া
শুষ্ক আবহাওয়ার
কারণে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে চুল মলিন দেখাতে পারে। চুলে নারকেল, আমন্ড ও এক্সট্রা
ভার্জিন অলিভ তেলের মিশ্রণ লাগান। সপ্তাহে একবার ডিম ও মধুর হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে
চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

যা করবেন
যা করবেন না