রানা আহম্মেদ অভি
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:৫৫ পিএম
নিজের চেষ্টায় শিক্ষিত হয়েও মাসুদ রানার জীবনসংগ্রাম এখনও চলছে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মুখ ভ্যানচালক মাসুদ রানা। কুষ্টিয়ার ইবি থানার মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। জীবনের প্রতিটি ধাপে লড়াই করে বেঁচে আছেন। তার জীবনের শুরুতেই ছিল ভয়াবহ দারিদ্র্য আর অভাবের তীব্র কশাঘাত। এত কষ্টের মধ্যেও তিনি হাল ছেড়ে দেননি।
মাত্র চার বছর বয়সে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মামার বাসায় কাজ শুরু করেন। নিজের শৈশব হারিয়ে অন্যের সংসারের ভার টেনে নিতে হয় তাকে। মোহাম্মদপুর নুরানি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তার শিক্ষা শুরু হয়। তিন বছরের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও আরবি প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। সেই শিশুটি স্বপ্ন দেখতেনÑ বড় হয়ে শিক্ষিত হবেন, জীবনে এগিয়ে যাবেন।
তার স্বপ্নের যাত্রা তাকে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার লুধুয়া মাদ্রাসায় নিয়ে যায়, যেখানে তিনি হেফজ সম্পন্ন করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আর্থিক সংকট তার পড়াশোনার পথ রুদ্ধ করে দেয়। কিতাব বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।
এরপর জীবনের তাগিদে মাসুদ রানা একটি বেসরকারি নতুন মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পবিত্র এ পেশায় থেকেও তার আয়ের সীমাবদ্ধতা ছিল, মাত্র ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা বেতন পেতেন। প্রতিদিন নতুন সংকটে পড়তে হয়। অবশেষে এলাকায় ফিরে এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার হরিনারায়ণপুরের পাশে বেলবারাধিতে একটি মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব নেন। সেখানেও বেতন নেই।
পরে প্রায় ২৫ বছর ধরে ঢাকার একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করে পরিবারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবু শান্তি পাননি। অবশেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে স্বাধীন পেশায় প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমানে মাসুদ রানা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যান চালান। এ আয়ে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে কোনোরকমে টেনে নিয়ে চলেছেন। আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারের সামান্য সুখস্বচ্ছন্দও দূরের স্বপ্ন। সামান্য জমি আছে, তবে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে একটি বাড়িতে থেকে দিন পার করছেন।
এ অসহায়তার মধ্যেও মাসুদ রানার একমাত্র স্বপ্ন একটি ছোট্ট টিনের ঘর, যেখানে তার পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। বিদ্যুৎ, পানি এ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। এটাই তার জন্য আজ সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
মাসুদ রানার জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প করুণ শোনায়। আমাদের সবার সম্মিলিত সাহায্যে হয়তো একজন মানুষ ও তার পরিবার ফিরে পাবে একটু সচ্ছল জীবন। সে আশায় তারা হয়তো আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবেন।