জারাদ ত্রিস্তান
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:১৯ পিএম
প্রচ্ছদটি এঁকেছে মিথিলা ভৌমিক। সে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী
কাঠফাটা গ্রীষ্ম এবং বৃষ্টিভেজা বর্ষার পর আসে শরৎ। শরৎ আকাশে ভেসে বেড়ায় পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘ। নদীর পার ভরে যায় ধবধবে সাদা কাশফুলে। গাছে গাছে ফুটে থাকে সাদা শিউলি ফুল। বিলের পানিতে ভাসে শাপলা ফুল। তাই অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শরৎকাল সৌন্দর্যের দিক থেকে আলাদা।Ñ এসব কথা বইয়ে পড়েছে সৌম্য। কিন্তু সামনাসামনি কখনও দেখেনি সে। এসব ভাবতে ভাবতে সৌম্যর ঘুম চলে এলো। হঠাৎ দেখল সে একটা কাশবনের মধ্যে দাঁড়িয়ে। সামনে রেললাইন, তার ওপর দিয়ে দুটো ছেলেমেয়ে দৌড়ে যাচ্ছে। ঠিক যেন পথের পাঁচালীর অপু দুর্গার। সে অবাক হয়ে গেল। সৌম্য আগে আর কখনও কাশবন দেখেনি। কী সুন্দর দেখতে। চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। মাঝে রেললাইনে অপু দুর্গা। ওরা কত স্বাধীন। কী মনে করে যেন সৌম্য আকাশের দিকে তাকাল। কী সুন্দর নীল আকাশে সাদা মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। হঠাৎ একটা গন্ধ নাকে এলো। এ কী! এ তো শিউলি ফুলের গন্ধ। সৌম্য অবাক হয়ে গেল, সে তো আগে কখনও শিউলি ফুলের ঘ্রাণ পায়নি। আর দূরে ওটা কী দেখা যাচ্ছে? এ যে বিলে ভেসে বেড়ানো শাপলা ফুল ঠিক বইয়ের ছবির মতো। নিশ্বাস নিল। বলে উঠল, আহা কী সুন্দর শরতের প্রকৃতি।
ওঠ! ওঠ! বলে চেঁচিয়ে উঠল সৌম্যের মা। লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠল সৌম্য। এ কী! সে ঘুমের মধ্যে এসব দেখছিল! উফ ভালো লাগে না, অপু দুর্গা কত স্বাধীন। আর ও পড়াশোনা-টিউশনে বন্দি। আর কোথায় কাশবন? চারদিকে শুধু বাড়িঘর আর বাড়িঘর। আকাশের নীল দেখতে পায় না। চারদিকে ধুলা আর ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। কোথায় শিউলির ঘ্রাণ, চারদিকে শুধু ধোঁয়ার আর ময়লার গন্ধ। আর বিলে শাপলা নয় বর্জ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। তবে এখনও গ্রামে আর মফস্বলে কোথাও কোথাও কাশবন দেখা যায়। সত্যিই প্রকৃতির রূপ অনেক সুন্দর। এখানকার পরিবেশ এখনও দূষিত হয়নি। নষ্টও করতে পারেনি।
চতুর্থ শ্রেণি, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা