× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আপার চলে যাওয়া

আলফি মাহমুদ রুপকথা

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৫৯ পিএম

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:৩৭ পিএম

সুন্দর ছবিটি এঁকেছে বিনিতা পাল। সে ঢাকার শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী

সুন্দর ছবিটি এঁকেছে বিনিতা পাল। সে ঢাকার শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী

আমি তখন অনেক ছোট। এই তো তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। বাড়ি থেকে আমাদের স্কুল একদম কাছে ছিল। তাই আমি আর আমার ছোট ভাই তাহসান একসঙ্গে স্কুলে যেতাম। একই স্কুলে পড়ার কারণে আমাদের শিক্ষকরাও আমাদের দুজনকেই ভালো করে চিনতেন। বিশেষ করে আমার ছবি আঁকার শিক্ষক মিলি আপা তো আমাদের দুজনকে খুবই আদর করতেন।

একদম শেষ পিরিয়ডে মিলি আপা আমাদের ক্লাস নিতেন। ফুল, ফল, প্রকৃতির ছবি আঁকা থেকে শুরু করে তার কাছ থেকে কত যে ক্র্যাফট শিখেছি তার ইয়ত্তা নেই। এ ক্লাসটা আমার খুব পছন্দের ছিল। আমার বান্ধবী মাইশা আর মুক্তাও আপাকে ভীষণ পছন্দ করত। একদিন স্কুলে খবর এলো মিলি আপা নাকি এ স্কুল থেকে বদলি হয়ে যাবেন। এটা শুনে আমার, মাইশা, মুক্তা আর ছোট ভাই তাহসানের ভীষণ মন খারাপ হলো। স্কুল থেকে ফিরতে ফিরতে সবার মুখে সেদিন একই কথাÑ‘মিলি মিস চলে যাবেন।’ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তাহসান বুদ্ধি দিল, ‘আচ্ছা আপু, মিলি আপা তো আমাদের এটাসেটা কত কিছু শিখিয়ে সারপ্রাইস দিত। এবার যদি আমরা মিসকে সারপ্রাইস দিই কেমন হয়?’ সবাই মিলে বললাম, ‘পেয়েছি, পেয়েছি! তাই হবে।’ যে কথা সে কাজ। বাসায় ফিরেই যার যার বাসার মাটির ব্যাংকটা ভেঙে ফেললাম। সেদিন বিকালেই সবাই ক্লাস সাজানোর জন্য বিভিন্ন রঙের কাগজ কিনে আনলাম। সবাই আমাদের বাড়িতে এলো। কাঁচি দিয়ে কেটেকুটে একটু করে রঙ করে যার যার মনের মতো নকশা করে রাখলাম। পরদিন টিফিনের সময় বাকি কাজটা করে ক্লাসের সবাই মিলে দেয়ালে সাজিয়ে ফেললাম।

টিফিনের পরপরই মিলি আপার ক্লাস। তিনি চলে যাবেন এ কথা স্কুলের সবাই জেনে গেছে। ক্লাসে প্রবেশ করতেই তার চেহারা দেখে মনে হলো তার মনও অনেক খারাপ। আমরা সবাই মিলে সালাম দিতেই উনি আমাদের দিকে তাকালেন। আমাদের বসতে বলে যখন নিজে চেয়ার নিতে গেলেন তখন ক্লাস রুমটা দেখে তাকিয়ে রইলেন। উনি কিছুই বলছেন না দেখে আমরা তো অবাক! একটু পর উনি কান্না করে দিলেন খুশিতে! আমরাও তখন দৌড়ে গিয়ে সবাই মিলে উনাকে জড়িয়ে ধরলাম। এত সুন্দর মুহূর্ত স্কুলজীবনে আমার আর আসেনি। মিস ওই ঘটনার দুই দিন পরই বদলি হয়ে চলে গেলেন। এতদিনে সবাই হয়তো উনার কথা ভুলেই গেছে। কিন্তু মিসের সেদিনের সেই চোখের পানি আর আমাদের সবাই মিলে একসঙ্গে হওয়া আজও আমার মনে পড়ে।

নবম শ্রেণি, নাখালপাড়া হোসাইন আলী উচ্চবিদ্যালয় ঢাকা

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা