নাফিদের বাড়ি বাংলাদেশের সিধল গ্রামে। নাফি তার বাবার সঙ্গে এক দিন গ্রামের পথ ধরে সাইকেলে চড়ে যাচ্ছিল। তখন কিছু লোককে বন্যা নিয়ে আলোচনা করতে শুনল তারা। সেই গ্রামটি নদীর ধারে। তারা বন্যা নিয়ে অনেক আতঙ্কে ছিল, কারণ নদীর পানি বেড়ে যাচ্ছিল। নাফির বাবা গিয়ে সবাইকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বলতে থাকে। কিন্তু কেউ তার বাবার কথা গুরুত্ব দিল না। নাফির বাবা নিরুপায় হয়ে বাড়িতে ফিরে গেল।
সে তার পরিবারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করল। তখন নাফির দাদা তার ছোটবেলার বন্যার ঘটনা তাদেরকে বললেন। নাফির দাদার বন্যায় ত্রাণ সংগ্রহ এবং বন্যার পরের সংস্কার কার্যক্রম নাফিকে অনেক অনুপ্রাণিত করে। এর মধ্যেই তাদের গ্রামেও অনেক বন্যা হয়, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়, গবাদি পশু মারা যায়, মানুষ বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় নিল। এতে নাফি খুব কষ্ট পেল। নাফি ও তার বন্ধুরা মিলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে টাকা, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, কাপড়-চোপড় সংগ্রহ করে ভলান্টিয়ারদের কাছে দেয়।
আস্তে আস্তে বন্যার পানি কমে যায়। তখন নাফির বাবা ও দাদা গ্রামবাসীকে বোঝায় যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য মূলত দায়ী আমরা। আমরা যদি নদী, খালবিলসহ জলাশয়গুলো ভরাট না করি, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা, বাঁধ ও ব্রিজ নির্মাণ না করি, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলি, তাহলে বন্যার ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তখন গ্রামবাসী বুঝতে পারে। তারপর সবাই মিলে তাদের কথামতো চলতে থাকল। গ্রামের মানুষ গাছ লাগানো শুরু করল, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপন করে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে শুরু করল। পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে দিল। গ্রামের সবাই মিলে জলাশয়গুলোকে দখলমুক্ত করে ফেলল। এভাবে তারা সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটি গ্রাম গড়ে তুলল। তখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক অনেক কমে গেল। এর পর নাফিরা সবার কাছে অনুকরণীয় হয়ে ওঠে।
চতুর্থ শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল