প্রচ্ছদ
সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৯ পিএম
মডেল : রিদি; পোশাক : টুয়েলভ ক্লদিং; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন; ছবি : ফারহান ফয়সাল
অফিসের সাজ পোশাকের ক্ষেত্রে পেশাদারি এবং স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন। নিত্যদিন অফিসে যেতে পোশাক নির্বাচনে সব নারীকেই বেশ বেগ পেতে হয়। অফিসের পরিবেশ এবং পেশার ধরন অনুযায়ী সাজ পোশাক ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু সাধারণ দিক অনুসরণ করলে আপনি সব সময় মানানসই এবং উপযুক্ত পোশাক পরতে পারবেন।

অফিসের জন্য পোশাক নির্বাচন করার সময় পরিবেশ, পেশার ধরন এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিন। অফিসের ধরন অনুযায়ী পোশাক হতে হবে। নিজের পেশার জন্য মানানসই পোশাক কেমন হতে পারে দেখে নিন-

ফরমাল অফিস
(করপোরেট বা ব্যাংকিং সেক্টর)
এ ক্ষেত্রে কয়েক
ধরনের পোশাক উপযোগী। সুতি বা টাঙ্গাইলের শাড়ি বেছে নিতে পারেন। তবে অফিসে পরার জন্য
শাড়ির রঙে বিশেষ নজর দিতে হবে। টকটকা লাল বা পার্টি শাড়ি পরে নিশ্চয় আপনি অফিসে যাবেন
না। হালকা যেকোনো রঙের শাড়ি বেছে নিন।
সালোয়ার-কামিজ
হতে পারে আদর্শ। সাধারণ কাটের ঢিলেঢালা কামিজের সঙ্গে প্যান্ট কাটিং সালোয়ার সারা দিনের
জন্য বেশ আরাম ও স্বস্তিদায়ক পোশাক হতে পারে।
ফরমাল অফিসের
জন্য ভালোভাবে ইস্তিরি করা শার্ট এবং প্যান্ট বেছে নিতে পারেন। শার্ট হতে পারে সাদা,
গোলাপি বা হালকা কোনো রঙের। এখন নানা কাটের প্যান্ট রয়েছে ট্রেন্ডে। একটু ঢোলা কাটের
প্যান্ট বেছে নিতে পারেন। পরতে আরামদায়ক হবে, অন্যদিকে সুন্দর লুক দেবে।
বিশেষ মিটিং বা গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোয় স্যুট পরা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কালো, অ্যাশ, বেবি পিঙ্ক, কফি কালারের স্যুট বেছে নিতে পারেন।

স্মার্ট ক্যাজুয়াল
অফিস (ক্রিয়েটিভ বা মিডিয়া সেক্টর)
নারীদের জন্য
শার্ট একটি স্মার্ট ক্যাজুয়াল পোশাক। এটি ফরমাল এবং ক্যাজুয়াল দুভাবেই ক্যারি করা
যায়। ক্রিয়েটিভ বা মিডিয়া সেক্টরে পোশাক নিয়ে তেমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। ব্যক্তির
পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে দেখতে উদ্ভট বা জবড়জং দেখাবে
এমন পোশাক না পরাই শ্রেয়।
সাধারণ শার্ট
বা টপের সঙ্গে একটি সুন্দর ব্লেজার পরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দেখতে প্রফেশনাল ও স্মার্ট
লাগে।
সৃজনশীল অফিস (ফ্যাশন বা ডিজাইন সেক্টর)
এ ধরনের অফিসে ট্রেন্ডি পোশাক যেমন প্যাটার্নড স্কার্ট, স্টাইলিশ ব্লাউজ বা ফ্যাশনেবল প্যান্ট পরা যায়। এখানে ফ্যাশন নিয়ে একটু পরীক্ষানিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে। স্টাইলিশ হ্যান্ডব্যাগ, গয়না বা স্নিকার্সের সঙ্গে ক্রিয়েটিভ মিশ্রণ করতে পারেন। তবে সবকিছুই অফিসের জন্য মানানসই এবং অতিরিক্ত না হওয়া উচিত।

পোশাকের রঙ
নির্বাচন
অফিসের জন্য সাধারণত হালকা ও মিউটেড রঙের পোশাক ভালো হয়। তবে স্মার্ট, ক্যাজুয়াল বা ক্রিয়েটিভ অফিসের ক্ষেত্রে কিছু উজ্জ্বল রঙও ব্যবহার করা যায়। অফিসের জন্য সাধারণত কালো, নেভি ব্লু, ধূসর ও সাদা রঙ জনপ্রিয়। এগুলো দেখতে শালীন এবং পেশাদার মনে হয়। কিছু উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করতে পারেন, তবে এগুলো সীমিত এবং সাবলীলভাবে ব্যবহার করা উচিত। সে ক্ষেত্রে লাল, নীল বা সবুজের হালকা শেড ব্যবহার করতে পারেন।
পোশাকের আকার
পোশাকের ফিটিং
যেন সঠিক হয়, খুব টাইট বা খুব ঢিলেঢালা পোশাক হওয়া উচিত নয়। সঠিক ফিটিংয়ের পোশাক পরলে
দেখতে সুন্দর লাগে, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী দেখায়।

ইস্ত্রি করা
পোশাক
পোশাক অবশ্যই পরিষ্কার এবং ইস্ত্রি করা থাকা উচিত। এতে আপনাকে পরিপাটি এবং পরিশীলিত দেখাবে।
পরিবেশের সঙ্গে
মানানসই পোশাক
অফিসের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় এমন পোশাক পরা গুরুত্বপূর্ণ। অত্যধিক উন্মুক্ত বা খুবই ক্যাজুয়াল পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত।
অনুষঙ্গ
ছোট এবং হালকা জুয়েলারি পরতে পারেন, যেমন ছোট ইয়াররিং, একটি স্লিক ঘড়ি বা একটি পাতলা
ব্রেসলেট। জুয়েলারি যেন অতিরিক্ত ঝকঝকে বা বড় না হয়।
লেদার বা ফেব্রিক
ব্যাগ বেছে নিতে পারেন; যা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বহন করতে সক্ষম। সেই সঙ্গে পোশাকের
সঙ্গে মানিয়ে যাবে এমন ব্যাগ বেছে নিন। লক্ষ রাখবেন খুব বেশি বড় বা ছোট সাইজের ব্যাগ
না নিতে। ব্যাগ বেশি বড় হলে ক্যারি করতে অসুবিধা হবে এবং অফিসে বেমানান লাগবে। অন্যদিকে
ছোট আকারের হলে প্রয়োজনীয় সব জিনিস ক্যারি করতে পারবেন না।
ফরমাল পরিবেশে ক্লোজড্-টু শু পরা উচিত, যেমন লো হিল বা ফ্ল্যাটস। এগুলো দেখতে সুন্দর এবং আরামদায়ক। যদি হিল পরেন, তাহলে লো হিল বেছে নিন, যা হবে আরামদায়ক এবং সারা দিন পরার জন্য উপযুক্ত।

সাজগোজ
অফিসে নিজেকে
পরিপাটি ও সুন্দর রাখতে হালকা মেকআপ করুন। গাঢ় মেকআপ এড়িয়ে চলা ভালো, বিশেষ করে দিনের
বেলা। সেক্ষেত্রে মুখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পর কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
গালে পিচ রঙের ব্লাশন লাগালে দেখতে সুন্দর লাগবে।
চোখের সাজে কাজল
হতে পারে নিত্য সঙ্গী। আইলাইনার দিয়ে ছোট করে উইংস টেনে নিতে পারেন। এতে চোখ দেখতে
টানা টানা লাগবে। আইশ্যাডো যদি দিতে হয় তবে নিউট্রাল টোনের শ্যাডো লাগাতে পারেন।
লিপস্টিক ছাড়া
সাজ কিছুটা মলিন লাগে। তাই হালকা পিংক বা নুড ব্রাউন কালারের লিপস্টিকে ঠোঁট রাঙাতে
পারেন। একান্ত লিপস্টিক দিতে না চাইলে যেকোন লিপস্টিক বা হালকা গোলাপী আভা দিবে এমন
লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন।
অফিসে চুলগুলোকেও
পরিপাটি রাখতে চেষ্টা করুন। সামনে দুপাশ থেকে টুইস্ট করে পেছনে চুল আটকে নিতে পারেন।
এছাড়া চুল খোলা রাখলেও দেখতে যেন পরিপাটি লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন।