প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৭:৩২ পিএম
কর্মজীবী নারীদের
জন্য সঠিক পুষ্টি বা নিউট্রিশন বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা কাজের চাপ সামলানো
থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় ও সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থ থাকতে এবং
কর্মস্পৃহা বজায় রাখতে কর্মজীবী নারীদের সঠিক নিউট্রিশন নিশ্চিত করতে হবে, এমনটাই বললেন
লাইফস্প্রিংয়ের পুষ্টিবিদ নিগার সুলতানা। তিনি আরও বলেন, দিনের তিনটি প্রধান খাবার
গ্রহণের দিকে লক্ষ রাখতে হবে সঙ্গে বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকা যাবে না।
সঠিক নিউট্রিশন
বজায় রাখতে খেয়াল রাখুনÑ
নিয়মিত পুষ্টিকর
খাবার খেতে হবে
প্রতিদিনের খাদ্য
তালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন এবং মিনারেলসমৃদ্ধ
খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। মাছ, ডিম, মাংস, দুধ, ডাল এবং বাদামের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
খাবেন। প্রোটিন শরীরের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি
ও ফল খান। ফল ও শাকসবজিতে ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার থাকে যা শরীরের পুষ্টি বজায় রাখে।
সকালের নাশতা
বাদ না দেওয়া
সকালের নাশতা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ; যা সারা দিনের জন্য শক্তি জোগায়। ওটস, ফল, ডিম বা পুরো শস্যের রুটি
ও স্যুপ জাতীয় খাবার নাশতার জন্য ভালো।
প্রচুর পানি
পান করুন
প্রতিদিন কমপক্ষে
৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। পানির অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্লান্তি অনুভব হতে
পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, ফলের জুস খাওয়ার চেষ্টা করুন।
পোর্টেবল স্ন্যাকস
অফিসে বা বাইরে
থাকার সময় পুষ্টিকর স্ন্যাকস সঙ্গে রাখুন, যেমন বাদাম, ফল, গ্রানোলা বার বা দই। এতে
ক্ষুধা লাগলে জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলা সহজ হবে।
ক্যাফেইন এবং
চিনি নিয়ন্ত্রণ করা
চা, কফি বা সফট
ড্রিঙ্কসের অতিরিক্ত গ্রহণ এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেইন এবং চিনি সাময়িকভাবে এনার্জি বাড়ালেও
পরে ক্লান্তি বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে হারবাল টি, গ্রিন টি বা লেবু পানি খেতে পারেন।
খাবারের সময়
নির্ধারণ
প্রতিদিন নির্দিষ্ট
সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত বিরতিতে খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো
থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ফাস্ট ফুড
এড়ানো
ফাস্ট ফুড এবং
প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এতে উচ্চ মাত্রার চর্বি, লবণ এবং চিনি থাকে
যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
ভিটামিন এবং
সাপ্লিমেন্ট
যদি আপনার খাদ্য
তালিকায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব থাকে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন বা মিনারেল
সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। তবে এগুলো কখনোই সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়।
মনোযোগসহকারে
খাওয়া
ধীরে ধীরে এবং
মনোযোগসহকারে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর বুঝতে পারবে কখন আপনি পরিপূর্ণ হয়েছেন,
ফলে অতিরিক্ত খাওয়া এড়ানো যাবে।
সঠিক নিউট্রিশন
কর্মজীবী নারীর কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করবে।
এ পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে আপনি প্রতিদিন আরও উদ্যমী এবং সজীব থাকতে পারবেন।