আশরাফুল আলম পিনটু
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ১২:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪ ১৩:১৮ পিএম
প্রিয় ঘুঙুর বন্ধুরা
আমাদের প্রিয় লেখক আশরাফুল আলম পিনটু ২৭ আগস্ট সবাইকে ছেড়ে দূর আকাশের তারা হয়ে গেছেন। তিনি তোমাদের জন্য লিখেছেন অনেক মজার গল্প, উপন্যাস, ছড়া ও কবিতা। তার সম্পাদনায় প্রকাশ হতো ‘কিশোর’ পত্রিকা। তার লেখা ‘এক যে ছিল ছোট্ট মেঘ’ গল্পটি আজ তোমাদের জন্য ছাপা হলো-

সুন্দর এক দেশ। সবুজ তার গাছপালা। সবুজ ঝোপঝাড়। পাখি ডাকা বন। সবুজ ফসলের মাঠ। ঝকমকে পানির পুকুর। দিঘি। নদী। ছায়া ঢাকা গ্রাম। ছোট ছোট ঘরবাড়ি। ছবির মতো। নীল নীল আকাশ। সেই আকাশে ছোট্ট একটা মেঘ। তুলোর মতো সাদা। ঝিরিঝিরি বাতাস। সেই বাতাস মেঘের গায়ে। ছোট মেঘ এখানে যায়। ওখানে যায়। সেখানে যায়। ঘুরে বেড়ায়। উড়ে বেড়ায়। মনে খুব খুউব আনন্দ। একদিন হলো কী! ছোট্ট মেঘ দেখল একটা বড় মেঘ। তার পাশ দিয়ে উড়ে গেল।
ছোট্ট মেঘ কত্ত ডাকল! ফিরে তাকাল না বড় মেঘ।
ছোট্ট মেঘ কত্ত ডাকল! থামলও না বড় মেঘ। পাত্তাই দিল না। উড়ে উড়ে চলে গেল। দূরে। বহুদূরে। সুন্দর সেই দেশ ছেড়ে। কোথায় গেল কে জানে!
খুব মন খারাপ হলো ছোট্ট মেঘের। হিংসা হলো বড় মেঘের ওপর। বড় বলেই অত দেমাগ!
ঠিক আছে, আমিও বড় হব। বৃষ্টি হয়ে ঝরব না আর। ধরে রাখব সব পানি। বড় মেঘ হব আমি।
বিরাট বড়। বিরাট বড়সড় মেঘ। ভাবল ছোট্ট মেঘ।
যেই ভাবা সেই কাজ।
বড় হতে শুরু করল ছোট্ট মেঘ। সত্যি সত্যি বড় হতে থাকল। বড়। আরও বড়। আরও বড়।
আরও...
আর ওদিকে হলো কী!
সুন্দর দেশের ইল শুকাল। বিল শুকাল। পুকুর শুকাল। দিঘি শুকাল। নদী শুকাল। শুকিয়ে গেল সবুজ মাঠ। গাছপালা। ফসলের ক্ষেত। মানুষজনও উশখুশ। সুন্দর দেশ হয়ে গেল মরুভূমি।
এসবে তোয়াক্কা নেই ছোট্ট মেঘের। বড় হলো। আরও বড়। আরও...
সূর্যের রোদ ঝাঁ ঝাঁ করে। ঠাঁ ঠাঁ করে সারা দেশ। বড় বিপদ। একদিন সেই বিপদ পড়ল মেঘের গায়েও। ঝাঁ ঝাঁ রোদে গা জ্বলে যায়! বাষ্প ওড়ে। ঠাঁ ঠাঁ রোদে গা পুড়ে যায়। বাষ্প ওড়ে। আর বাষ্প ওড়ে। বাষ্প ওড়ে। আর ছোট হয় মেঘ। বাষ্প ওড়ে আর ছোট হয় মেঘ। ছোট হয়। আরও ছোট। আরও ছোট্ট। বড় যে হবে তার উপায়ও নেই। কীভাবে হবে? পানিই তো নেই সারা দেশে।
হায়! এখন কী উপায়! তাহলে কি সে হারিয়ে যাবে! ছোট্ট হতে হতে মিলিয়ে যাবে? কী ভুলটাই না করেছে সে- হায় আফসোস!
সুতোর ফালির মতো ভাসছিল ছোট মেঘ। এলো এক দমকা বাতাস। সেই বাতাসের ঝাপটায় ছোট্ট মেঘ চলল উড়ে। দূরে। বহুদূরে। বহু বহু দূরে... এ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে। সুন্দর আরেক দেশে। সবুজ তার গাছপালা। সবুজ ঝোপঝাড়। পাখি ডাকা বন। সবুজ ফসলের মাঠ। ঝকমকে পানির পুকুর। দিঘি। নদী। ছায়া ঢাকা গ্রাম। ছোট ছোট ঘরবাড়ি। ছবির মতো। নীল নীল আকাশ। সেই আকাশে বড় সেই মেঘকে দেখল ছোট্ট মেঘ। বারবার ঝরছে। বৃষ্টি হয়ে ঝরছে। ‘বাড়ছ যে ভাই! ছোট হয়ে যাবে তো!’ ছোট্ট মেঘ বলল বড় মেঘকে।
বড় মেঘ বলল, ‘ঝরাই তো মেঘের কাজ। বৃষ্টি হবি। ঝরবি। আবার মেঘ হবি। উড়ে বেড়াবি। আবার বাড়বি। আবার মেঘ হবি। বৃষ্টি না হলে পানি পাবি কই? মেঘ হবি কী করে?’ অবাক হলো ছোট্ট মেঘ। তাকিয়ে থাকল বড় মেঘের দিকে।
বড় মেঘ আবার বলল, ‘নে ভাই নে। গায়ে কিছু পানি নে। একেবারে শুকিয়ে গেছিস দেখছি!’ খুশি হলো ছোট্ট মেঘ। অন্য দেশের আকাশে উড়ল। এখানে গেল। সেখানে গেল। ওখানে গেল। নদীর ওপর উড়ল। পুকুরের ওপর উড়ল। ইল আর বিলের ওপর উড়ল। পানি নিল গায়ে। আবার আগের মতো হয়ে গেল ছোট্ট মেঘ।
তারপর?
তাপর ফিরে এলো নিজের দেশে। বড় মেঘও এলো সঙ্গে। এলো আরও মেঘ। আরও মেঘ... তারপর তারা ঝরল বৃষ্টি হয়ে। ঝর ঝর ঝর। ঝর ঝর ঝর। বার ঝর ঝর...
শুকনো নদী হাসল। শুকনো পুকুর হাসল। দিঘি। ইল-বিল। পানিতে ভরে গেল নদী-পুকুর-দিঘি। ইল বিল সব। গাছপালা সবুজ হলো। ঝোপঝাড় সবুজ হলো। ফসলের মাঠ। সবুজ হলো দেশ। সুন্দর হলো দেশ। হাসল উশখুশ মানুষ।
আর বৃষ্টি শেষে সুন্দর এক রংধনু হাসল আকাশে।
সেই রংধনুর পাশে ভাসল ছোট্ট মেঘ। আর রংধনুর পাশে হাসল ছোট্ট মেঘ।