প্রচ্ছদ
সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ১৫:২২ পিএম
পোশাক ও ছবি : রঙ বাংলাদেশ
নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলাÑ শরতের আকাশে এমন দৃশ্য সবার কাছেই উপভোগ্য। প্রকৃতির এমন শুভ্রতার সঙ্গে নীল-সাদার দেখা মেলে পোশাকেও। ফ্যাশনপ্রেমীরা এ সময় বেছে নিতে পারেন আরামদায়ক এবং শরতের রঙ ও মোটিফের পোশাক।

নীল আকাশে সাদা মেঘের ঘনঘটাÑ এ যেন শরতের ডাক। শরতের শুরুতেই প্রকৃতি
এক শান্ত-শীতল রূপ নিয়েছে। আকাশে সোনালি রোদ তো আবার হুটহাট বৃষ্টি, বাতাসে হালকা আর্দ্রতা।
গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীতÑ এ তিন ঋতুর সংমিশ্রণে শরতের প্রকৃতি যেন সেজে উঠেছে আপন রূপে। নীল
আকাশে সাদা মেঘের ভেলার সঙ্গে প্রকৃতির সজীবতাÑ এ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা জীবন্ত ক্যানভাস।
সব মিলিয়ে সময়টাও যেন ফিউশনের। ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে ফ্যাশন সচেতন মানুষের পোশাকেও
আসে ভিন্নতা। শরতের এমন দিনে কেমন হতে পারে পোশাক, তা দেখে নিন।
রঙ, রূপ ও বৈচিত্র্যে শরতের প্রকৃতি হয়ে উঠেছে রঙিন ও শান্ত। সেজন্য বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এ সময়ের পোশাকের রঙ আর নকশায় থাকে বিভিন্ন রঙের খেলা। মূলত শরতের স্নিগ্ধতা ফুটিয়ে তোলা হয় প্রধান দুটি রঙ সাদা ও নীলের মাধ্যমে। বেশিরভাগ পোশাকে তাই সাদা ও নীলের সংমিশ্রণ দেখা যায়। এ ছাড়া শরতে হালকা রঙের পোশাক পরাই ভালো। হালকা রঙের পোশাকে গরমও কম অনুভূত হয়। সাদা রঙের পোশাক পরলে গরম কম লাগে। কারণ সব বস্তুর তাপ বিকিরণ শোষণ করার ক্ষমতা সমান নয়। সাদা রঙের তাপ বিকিরণ শোষণ করার ক্ষমতা সবচেয়ে কম। এ কারণে সাদা রঙের পোশাক কম উত্তপ্ত হয় এবং গরম কম লাগে। এ ছাড়া পোশাকে শরতের উজ্জ্বল আবহাওয়ার প্রতিচ্ছবি ও প্রকৃতির রূপ আরও গাঢ়ভাবে ফুটিয়ে তুলতে ডিজাইনাররা ব্যবহার করেছেন আকাশি, ইন্ডিগো ব্লু ও প্যাস্টেল গ্রিন কালার। পাশাপাশি পোশাকে দেখা মেলে লাল, মেরুন ও হলুদ রঙের ছড়াছড়ি।

করপোরেট অফিসে চাকরিরত একজন ফ্যাশনপ্রেমী তনিমা। তার সঙ্গে কথা বলে
জানা গেল, শরৎ ঋতু তার সবথেকে পছন্দের। এ সময় আকাশের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরতেই
বেশি পছন্দ করেন তিনি। তাইতো নিত্য দিনের অফিস হোক বা বাইরে ঘুরতে গেলে নীল আর সাদার
মিশেলে পোশাক বেছে নেন তিনি।
শরৎ মানেই স্নিগ্ধতা, আর তাই পোশাকের মোটিফে স্বচ্ছতা বজায় রেখে নকশা
করছেন ডিজাইনাররা। ফ্লোরাল মোটিফ ব্যবহার করে প্রিন্টের মাধ্যমে ফুল, পাতা, পাখির ডিজাইন
দেখা যায়। পাশাপাশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে প্রাকৃতিক ও ট্র্যাডিশনাল মোটিফ। এ ছাড়া
দেখা মেলে জিওমেট্রিক মোটিফের ব্যবহার।
অনেক দিন ধরেই পোশাকের প্যাটার্নে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। সবাই
এখন পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরামকেই প্রাধান্য দেন বেশি। তাইতো ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো
শরতের পোশাকের প্যাটার্নে ঢিলেঢালা ভাব এনেছে এবারও। বেশিরভাগ পোশাকে হ্যান্ড প্রিন্ট,
স্ক্রিন প্রিন্ট, ডিজিটাল প্রিন্ট, টারসেল ইত্যাদির ব্যবহারে নকশা ফুটিয়ে তুলেছেন নকশাকাররা।
খুব বেশি চাকচিক্যময় পোশাক নয়, বরং সাদামাটা পোশাকই এ সময়ের জন্য উপযোগী। তবে শরৎ কেন্দ্র
করেই যেহেতু দুর্গাপূজার আয়োজন, তাই উৎসবের উপযোগী পোশাকও তৈরি করছেন ডিজাইনাররা। উৎসবকে
কাভার করতে ভারী মোটিফে কারচুপি ও এমব্রয়ডারির মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে শাড়ি, টিউনিক,
সালোয়ার-কার্মিজ, পাঞ্জাবি।
শরতের শুরুর দিকে গরম ভাব থাকলেও শেষ দিকে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ
বাড়তে থাকায় শীত অনুভূত হয়। বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে শরতের পোশাকের ম্যাটেরিয়ালে।
ফেব্রিক হিসেবে সুতির পাশাপাশি আর্ট সিল্ক, কটন, জর্জেট, লিনেন, ভিসকোস, সিল্ক কটন
ও জ্যাকারের মতো কাপড়ে তৈরি করা হয়েছে শরতের পোশাক।
মূলত গরম এবং আরামের কথা মাথায় রেখে সুতি কাপড় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ও রঙের সুতি পোশাক যেকোনো স্থান বা আয়োজনে পরিধান করা যায়। হোক
সেটা অফিস কিংবা কোনো অনুষ্ঠান। শরতের আকাশে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে ঘন সাদা বা কালো
মেঘের। ফলে প্রায়ই বৃষ্টিরও দেখা মেলে। হঠাৎ এই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি থেকে কিছুটা স্বস্তি
পেতে জর্জেট ফ্যাব্রিক্সের পোশাক দারুণ সময়োপযোগী। এ ধরনের পোশাকের পানি শোষণক্ষমতা
বেশি হওয়ায় ভিজে গেলেও দ্রুত শুকিয়ে যায়।

ছেলেদের পোশাক
শরতে ছেলেদের পোশাক হিসেবে মেইন ফোকাস পাঞ্জাবি। বাজারে এখন তিন ধরনের
পাঞ্জাবির চল রয়েছেÑ স্কিন ফিট, লুজ ফিট ও রেগুলার ফিট। ছেলেদের ক্ষেত্রে সব সময় পাঞ্জাবি
পরার সুযোগ সীমিত। কারণ যারা চাকরি করেন তাদের নির্দিষ্ট ড্রেসকোড রয়েছে। ফরমাল পোশাক
হিসেবে বেছে নিতে পারেন শার্ট বা পোলো টি-শার্ট। ক্যাজুয়াল লুকের জন্য ফতুয়া হতে পারে
ইউনিক ফ্যাশন আইডিয়া। তবে যে পোশাকই বেছে নিন না কেন, রঙটি হতে হবে উজ্জ্বল।

মেয়েদের পোশাক
বাঙালি নারী মানেই শাড়ি। শরতের এই সময়ে নারীদের জন্য প্রথম পছন্দ
তাই শাড়ি। ট্র্যাডিশনাল মোটিফে সাদা ও নীল রঙের সংমিশ্রণে তৈরি সুতির শাড়ি আভিজাত্য
প্রকাশ করে। যারা শাড়ি পরতে চান তারা বেছে নিন হালকা রঙের শাড়িগুলো। ফিকে নীল শাড়িতে
জরিপাড় দেওয়া, চাঁপাফুল রঙ, ধানি রঙ, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি এবং এর সঙ্গে
ম্যাচিং ব্লাউজ। ব্লাউজের হাতা থ্রি কোয়ার্টার হলে ভালো মানাবে। শুধু শাড়িই নয়, শাড়ির
পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজ, টিউনিক, কুর্তি, পালাজ্জো স্কার্ট, পালাজ্জো কামিজ সবকিছুতেই
রঙের বাহার। টিউনিকের ক্ষেত্রেও কিন্তু ভ্যারিয়েশন রয়েছে। লং টিউনিক, শর্ট টিউনিক ও
টিউনিক উইথ শার্ট। পোশাকটা যদি কামিজ হয় তাহলে সঙ্গে মানানসই রঙ ও ডিজাইনের সালোয়ার
ও ওড়না নিন। প্রচণ্ড গরমের কারণে আরামদায়ক কুর্তি ও ফতুয়ার প্রতিও ঝুঁকছে অনেকে।