প্রান্তিক উদ্যোগ
সুবল বড়ুয়া
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১২:৪৩ পিএম
নিজের হাতে গড়া ছাদবাগানে সালেহা আবেদীন রীমা
‘একটি ছাদ হতে পারে ফসলের মাঠ’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ধারণা অনুসরণ করে ছাদবাগান গড়ে তুলে এবং অন্যদের গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে এখন বেশ জনপ্রিয় সাহেলা আবেদীন রীমা। চট্টগ্রাম মহানগরের লাভ লেনে আবেদীন কলোনির নিজ বাড়ির ছাদে ছাদবাগান গড়ে তোলেন এ নারী উদ্যোক্তা। ছাদে আলাদা ব্লক করে লাগিয়েছেন নানা জাতের ফুল, ফল ও সবজি।
নিজ ছাদে সবুজায়নের পাশাপাশি অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে সাহেলা আবেদীন ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ নামে একটি সংগঠন। সবুজায়ন, নগরকৃষিসহ নানা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে এ সংগঠনের কার্যক্রম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দুই যুগের বেশি সময় ধরে ছাদবাগানের পাশাপাশি সাহেলা মানুষকে বৃক্ষরোপণের জন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন।
স্কুল জীবনেই সামাজিক দায়বদ্ধতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা শুরু করেন সাহেলা আবেদীন; যা কলেজ জীবনে পোক্ত হয়। ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও গ্রন্থনায় যুক্ত থাকা সাহেলা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকভাবে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নে সামনের সারিতে থাকেন।

গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশকে সবুজায়ন করার যাত্রাটা কেমন ছিল? এ প্রসঙ্গে নারী উদ্যোক্তা সাহেলা আবেদীন বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের বাড়তি চ্যালেঞ্জ থাকে। আমাদের দেশে একজন স্বাধীন নারী হিসেবে সফল হওয়া অনেক কঠিন। মেয়েদের জন্য পরিবেশ-পরিস্থিতি কখনোই পুরোপুরি অনুকূল থাকে না। একজন নারী উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। এতে নারী উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহ হওয়ার কিছু নেই। উত্তরণের সেরা উপায় হচ্ছে এমন কিছু মানুষের সমর্থন জোগাড় করা, যারা আপনার সক্ষমতা সম্পর্কে জানেন এবং এ সক্ষমতা সম্পর্কে আপনাকে সন্দিহান হতে দেবেন না। এসব বিষয় মাথায় নিয়ে নিজে ছাদবাগানে সবুজায়নের পাশাপাশি অনেককে ছাদবাগান করার জন্য উৎসাহিত করেছি। এক যুগের বেশি সময় ধরে অগণিত গাছ রোপণ করে লাখো মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি।’

সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমাদৃত সাহেলা আবেদীন আরও বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের বনেদি আবেদীন পরিবারের পুত্রবধূ। যে পরিবার থেকে উঠে এসেছেন জাতীয় খেলোয়াড় নান্নু, নোবেল। পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কার্যক্রমগুলো মূলত জীবনবোধ থেকে করি। সফলতা এলে খুশি হই। ব্যর্থ হলেও দমে যাই না। আমরা তো প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির কাছেই তো আমরা ফিরে যাব। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষার জন্য কাজ করে যেতে হবে। আমি সে প্রয়াসেই আছি। লেগে আছি বছরের পর বছর। আমার আরও অনেক সংগঠন সংযুক্তি আছে, নানামুখী কাজ আছে। তবে পরিবেশ ও প্রকৃতি কেন্দ্রিক কাজগুলো আমার ভালোবাসা হয়ে আছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যেতে আমি আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আমার পরিচালনাধীন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে সারা বছর নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। আগামী দিনে এ অগ্রযাত্রা আরও বহুগুণ বাড়াতে চাই।’
লেখক : প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম অফিস