আমান বিন হোসেন
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৪ ১২:৫২ পিএম
গল্পের সঙ্গে সুন্দর ছবিটি এঁকেছে সুওয়াইবা বিনতে মাহমুদ। সে ঢাকার আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঢাকা থেকে দাদুবাড়ি রাজশাহীতে খুব কম যাওয়া হয়। তবে গ্রীষ্মের ছুটিতে দাদুবাড়ি যাই। এ সময়ে গিয়ে অনেক মজা হয়। সবচেয়ে বেশি আনন্দ লাগে আম-লিচুসহ আরও কত কত ফল দেখে। বিশেষ করে ঢাকা যারা থাকে তাদের জন্য দাদুবাড়ি থেকে আম নিয়ে আসি। আবার অনেক আত্মীয়ের জন্য আম প্যাকেট করে পাঠানো হয়।
এ কাজগুলো করতে অনেক মজা লাগে। যাদের আম দেওয়া হয়, তারা খুশি হয়।
দাদুবাড়ির লোকজন আমাদের জন্য অপেক্ষায় থাকে। জানতে চায়, আমরা কবে যাব। কবে আমাদের ছুটি দেবে।
সেবার দাদুবাড়ি গিয়ে পরিকল্পনা করলাম। সবাই মিলে একটি গ্রামে যাব। যে কথা সেই কাজ। বাবা গাড়ি ঠিক করলেন। আমরাও সকাল-সকাল উঠে সবাই তৈরি হয়ে গেলাম, রাজশাহী থেকে দুই ঘণ্টা দূরের গ্রামটি দেখতে খুব সুন্দর। গ্রামের বাড়ি উঠান, উঠানে থাকা অনেক ফলের গাছ। কাঁঠালগাছ বেশি ছিল আর সেগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। গ্রামের বাড়িগুলো দেখতে প্রায় একই রকম এবং সব থেকে সুন্দর বিষয় হচ্ছে প্রত্যেক বাড়িতে অসংখ্য গাছ আছে যেখানে ফলের গাছও আছে। আমগাছ, কাঁঠালগাছ, জামগাছসহ আরও কত যে সারি সারি গাছ। গাছে গাছে পাখি ডেকে যাচ্ছে। কী মধুর সুর! বিশাল একটি মাঠ পেলাম। দেখি গরমের মধ্যেও কৃষকরা জমিতে কাজ করছে। মাঠের মধ্যে দুয়েকটি গাছ আছে। রোদে ক্লান্ত কৃষকরা বিশ্রাম নিচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে দূরের গ্রাম থেকে কৃষকদের জন্য পানির কলস মাথায় করে নিয়ে আসছে। গ্রামের এই অপূর্ব দৃশ্য দেখলাম। তারপর আমরা আবার রওনা দিলাম দাদুবাড়ির পথে। মনে মনে ঠিক করলাম বাসায় গিয়ে এই দৃশ্যগুলো অবশ্যই খাতাবন্দি করব। প্রচণ্ড গরম পড়ছে। মাথার ওপরে টগবগে সূর্য। কিন্তু বেড়ানোর আনন্দে আমরা গরমটা ভুলেই গিয়েছিলাম।