আবহাওয়া, বয়স এবং অন্য অনেক কারণে আমাদের ত্বকে
প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ হ্রাস পায়। এতে ত্বক ডিহাইড্রেটেড এবং নিষ্প্রাণ
দেখায়। ডিহাইড্রেটেড স্কিন থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর যে উপাদানটি, তা
হলো টোনার।
টোনার কী জেনে নিই-
টোনার হলো একটি দ্রুত-অনুপ্রবেশকারী তরল যা ত্বককে
দ্রুত হাইড্রেশন সরবরাহ করে এবং ত্বকের পৃষ্ঠ থেকে কিছু মৃত কোষ অপসারণ করতে
সাহায্য করে। আপনার ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে, সংকুচিত ত্বক করে
মসৃণ এবং তাজা।
যে কারণে ব্যবহার করবেন টোনার
শীত, গ্রীষ্ম, কিংবা বর্ষা সব ঋতুতেই আমাদের ত্বকের ওপর
দিয়ে বেশ ধকল যায়। সারা দিনের পরিশ্রম, ধকল ও ধুলাবালিতে লাবণ্য হারিয়ে নিস্তেজ
হয়ে যায় ত্বক। নিস্তেজ ত্বকে সহজেই জীবাণুর সংক্রমণ হয়, দেখা দেয় নানা সমস্যা।
তাই আমাদের চেহারায় রূপলাবণ্য ফুটিয়ে তোলা,
তারুণ্য ধরে রাখা, সর্বোপরি ত্বকের সুস্থতার জন্য চাই এর নিয়মিত পরিচর্যা, দরকার
একটি বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিনের। এ বেসিক স্কিন কেয়ারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
হচ্ছে ত্বকের টোনিং করা।
আমরা অনেকেই ত্বকের টোনিং করার ফলে কী কী সুবিধা পাওয়া
যায় তা জানি না, ফলে অনেকেই টোনিং করাকে স্কিন কেয়ারের রুটিন থেকে বাদ দেয়।
টোনার ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকের কী কী উপকার পাবেন তা দেওয়া হলোÑ
- ক্লিঞ্জিং
করার পরেও আপনার ত্বকে যদি কোনো ইমপিওরিটি থেকে যায় তাহলে তা দূর করতে সাহায্য করে।
- ক্লিঞ্জিংয়ের
কারণে লোমকূপগুলোর মুখ যখন খোলা অবস্থায় থাকে তা বন্ধ করতে সাহায্য করে।
- ত্বকের
তৈলাক্তভাব নিয়ন্ত্রণ করে।
- ত্বকের
পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে।
- ময়েশ্চারাইজার
গ্রহণের জন্য ত্বককে প্রস্তুত করে।
- ত্বকে
পানির পরিমাণ বজায় রাখে।
টোনার ত্বকের
যত্নে আরও যা যা করে
- টোনার ত্বকের থার্ড স্টেপ ক্লিঞ্জিংয়ের কাজ
করে। হ্যাঁ ঠিক পড়েছেন! ডাবল ক্লিঞ্জিংয়ের পর যদি আমাদের ত্বকে কোনো মেকআপ/ডার্ট
থাকে তাহলে টোনার সেটা ক্লিন করে নেয়।
- ত্বকের যত্নে আমরা যে সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করি সেগুলো যাতে খুব ভালোভাবে ত্বকে মিশে যেতে পারে,
সেজন্য টোনার আমাদের ত্বককে তৈরি করে।
- ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম কন্ট্রোল করে, ফলে
পোরসের আকৃতি তুলনামূলক ছোট দেখায়।
- অনেক সময় বেশি মেকআপ কিংবা বাইরে ঘোরাঘুরির ফলে ত্বকে রেডনেস বা ইরিটেশন ফিল হয়।
ত্বকে এমন সমস্যা সমাধানের জন্য টোনার খুব কার্যকর একটা স্টেপ। কেননা টোনার ত্বককে
সুদিং ইফেক্ট দেয়, যা ত্বকের ইরিটেশন কমাতে সাহায্য করে।
- উপাদানভেদে বিভিন্ন টোনার ত্বকে বিভিন্ন
কাজ করে। যেমন ড্রাইনেস কমানো, পিম্পল কিংবা
ডিহাইড্রেশন সমস্যা কমানোসহ বিভিন্ন কিছু।
টোনারের ধরন
- ত্বক পরিচর্যার অন্যান্য পণ্যের মতো টোনারও
ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করতে হয়।
- তৈলাক্ত, শুষ্ক অথবা সাধারণÑত্বকের ধরন
বুঝে টোনার বাছাই করতে হবে।
টোনার ব্যবহার করবেন যেভাবে
- মুখ ভালোমতো ধোয়ার পর এবং অন্য কোনো
‘ট্রিটমেন্ট’, সেরাম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে টোনার ব্যবহার করেতে হয়।
- ত্বকে প্রসাধনী ব্যবহারের নিয়ম হলো কম
ঘনত্বের প্রসাধনী থেকে বেশি ঘনত্বের প্রসাধনী ব্যবহার করা। টোনার সবচেয়ে বেশি
পাতলা, অনেকটা পানির মতো, তাই এটা আগে ব্যবহার করতে হবে।
- তবে কিছু কিছু টোনার অন্যগুলোর তুলনায়
দুধের অথবা ক্রিমের মতো হতে পারে।
- মুখ ধোয়ার পরে হাতের তালুতে অথবা তুলার
সাহায্যে আলতোভাবে টোনার মুখে মাখতে হবে।
টোনার ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট মাপ নেই। সকাল ও সন্ধ্যার ত্বকের ধরন
ও প্রয়োজন বুঝে টোনার ব্যবহার করতে হবে।