চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২২ ২২:০১ পিএম
কর্ণফুলী রক্ষায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাম্পান মাঝিদের অনশন। ছবি : প্রবা
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর তীরে কর্ণফুলী ড্রাইডক লিমিটেডসহ আশপাশের সব স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী ড্রাইডকের বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করা হবে। সেই টিম যাচাই-বাছাই করে সেখান থেকে কীভাবে নদী উদ্ধার করা যায় তা জানাবে। ততদিন কাজ বন্ধ থাকবে।’
বুধবার (৯ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কর্ণফুলী নদীসহ অন্যান্য নদ-নদী, খাল-বিল, জলাশয় দখল ও দূষণ সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভাশেষে তিনি এই নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদী বাংলাদেশের লাইফলাইন। এই নদী দিয়ে দেশের ৯৫ শতাংশ আমদানি-রফতানি পরিচালিত হয়। কর্ণফুলী নদীর প্রবাহ বা নাব্য কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আগামী সাত দিনের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে কর্ণফুলী ড্রাইডক বিষয়ে নদী রক্ষা কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারার বদলপুরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির পাশে কর্ণফুলী ড্রাইডকসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আমরা সরেজমিনে ঘুরে ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছি এই প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি নদী দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে, যা কাম্য নয়।’
কর্ণফুলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সাম্পান মাঝিদের অনশন
কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনশন করেছেন দুই শতাধিক সাম্পান মাঝি। সকাল থেকে কর্ণফুলীর অভয়মিত্র ঘাট ও চাক্তাই খালের মোহনায় জড়ো হন দুই শতাধিক সাম্পান মাঝি এবং চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনসহ পাঁচ সংগঠনের নেতারা। নদীর মাঝখানে সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত একটানা অনশন করেন তারা। নিজেদের খেয়াপারাপার বন্ধ রেখে একের পেছনে এক সাম্পান বেঁধে তপ্ত রোদে অটল ছিলেন তারা।
অনশনে একাত্মতা পোষণ করে বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্ণফুলী নদী দখল-দূষণ করে পঙ্গু করা হচ্ছে। দূষণে ৭০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়েছে। নদী ও তীর দখল করে গড়ে উঠেছে একের পর অবৈধ স্থাপনার জঞ্জাল। দেখার কেউ নেই। তাহলে কি আমরা ধরে নেব এই দেশে প্রশাসন নেই?’
জেলা প্রশাসন ২০১৪ সালে জরিপ করে চিহ্নিত করে নদীতীরের অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু সেগুলো উচ্ছেদ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি চৌধুরী ফরিদ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, উচ্চ আদালত থেকে ২১৮১ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও তা সাড়ে তিন বছরেও উচ্ছেদ করা হয়নি।
অনশন চলাকালে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ সংগঠন গ্রিন ফিঙ্গার্সের কো ফাউন্ডার আবু সুফিয়ান রাশেদ, রিতু ফারাবি, দিলরুবা খানম, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাফর আহমদ, লোকমান দয়াল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদরঘাট সাম্পান সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূর আহমদ প্রমুখ।